Logo
Logo
×

রাজনীতি

বহিষ্কৃত তৈমুরের সাথে মহানগর বিএনপির কমিটির একাংশ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৫৬ পিএম

বহিষ্কৃত তৈমুরের সাথে মহানগর বিএনপির কমিটির একাংশ
Swapno


# ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মধ্যে ১৫ জনের পদত্যাগ
 
অবশেষে মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দ্বিখণ্ডিত হল। মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির ১৫ জন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। জেলা ওলামা দলের সভাপতি সামসুর রহমান খান বেনু ও যুবদল নেতা শাওনের স্মরণে অনুষ্ঠিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল থেকে বহিস্কার হওয়া বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের বাসায়।

 

 

সেখানে এক আলোচনা সভায় সমবেত হয়েছিলেন সদ্যগঠিত মহানগর বিএনপির কমটির অন্তর্ভূক্ত পদত্যাগের সিদ্ধান্তকারী নেতা ও কমিটির বিপক্ষের নেতা-কর্মীগণ। সেখানে আলাদা কমিটি করার ঘোষণাসহ একযুগে নতুন কমিটির ১৫জন সদস্য তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

 

 

 

একই সাথে তারা বর্তমান কমিটির নেতাদের প্রতিহত করার ঘোষণাও দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, আতাউর রহমান মুকুল, হাজি নুরুদ্দিন ও কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 


 
এ সময় এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, বন্দরে আমাকে একটি ছেলে বলেছিল যে, যেদিন থেকে নুরুদ্দিন হাজী আর আতাউর রহমান মুকুল একসাথে হাটা শুরু করেছে সেই দিন থেকেই আমাদের বিএনপির বুকটা অনেক বড় হয়ে গেছে। আমি বিষয়টা আরও দুই চারজনের কাছে বলেছি যে, ইলেকশনে যা-ই হোক না কেন, বিএনিপর রূপ পরিবর্তন হয়ে গেছে এই দুইজন লোক একসাথে পাশাপাশি হাটার কারণে।

 


 
তিনি বলেন, যাই হোক এখন একটি কমিটি আসছে, এই কমিটির উচিৎ ছিল তাদের বৈধতা নেওয়ার জন্য যারা স্থানীয়ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে, আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা দলটাকে টিকিয়ে রেখেছে; বংশানুক্রমে দলটাকে তারা ধরে রেখেছে। তারপরও একিট পত্রিকায় একটি স্ট্যাটম্যান্ট আসছে, দুই পরিবারের যুগের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।

 

 

তিনি বলেন, ‘আমরা সকলেইতো পরিবারভুক্ত। বিএনপির নামের যে গাছটি আছে, সেই গাছটিতে তাজা করার জন্য কে পানি ঢালেনি? আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বিএনপি করতে হলে আমাদের লাগবে। বিএনপির গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হলে আমাদের লাগবে। আমাদের গায়ে থেকে কি রক্ত ঝরেনি; এখন বড় বড় কথা বলেন।

 

 

 

যাদের বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকার বিষয়ে পত্রপত্রিকায় অভিযোগ আছে তারাই এখন বড় বড় কথা বলেন। বিএনপি থেকে যখন আমাকে বহিস্কার করে তখনও আমি বলেছি যে, আমি অন্যকোন দলে যাব না। বিএনপির বিরোধীতাও করবো না। বিএনিপর একটি অক্ষরেরও আমি বিরোধীতা করিনি।

 

 

আমার মনে একটি কষ্ট আছে যে, ২০১১ সালে বিএনপি আমাকে নমিনেশন দিয়ে নির্বাচনের ৫ ঘন্টা আগে বসিয়ে দিয়েছে। সেই বিষয়টা সবার আগে জানার কথা আমার। যারা আমার নির্বাচন নিয়ে কাজ করতেছে তারা জানবে। অথচ সরকার দলীয় প্রার্থী ৭দিন আগেই বলে দেয় যে, আমাকে নির্বাচন থেকে তুলে নিবে।’

 

 

এবারও দশদিন আগে আমাকে জামালউদ্দিন তালুকদার এসে জানায় যে, ‘ভাই আপনি কিন্তু বহিস্কার হয়ে যাবেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি আপনাকে কি ঢাকার কোন নেতা বলেছে? তিনি বলেন যে, না, নৌকার কেন্ডিডেট বলেছে, এটাই আমার মনে কষ্ট। এছাড়া মনে কোন কষ্ট নেই। বিএনপি এবং আপনারা আমাকে অনেক দিয়েছেন। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন আপনাদের পাশে থেকে সেবা করে যাব।’

 


 
বন্দর বিএনপির সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন বলেন, ‘আমার জানামতে পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে লাশ হতে হয় বলে আমার জানা নাই। কিন্তু স্বৈরাচার হাসিনা সরকার এটা প্রমাণ করলো যে, গণতন্ত্র বা স্বাধীনতা বলতে মানুষের কিছু নাই।

 

 

 

এ সময় তৈমুর আলম খন্দকারে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনার যত দুর্দিন ছিল, আমি আপনার পাশে ছিলাম। ’৯৬ সালে যখন ঢাকায় আপনাকে গ্রেফতার করে  ময়মনসিংহ নেওয়া হয়, সেখান থেকে আপনাকে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে আনা হয়। সেখানে আমি এবং সুরুজ মিলে যতটুকু সাহায্য সহযোগিতা করার দরকার করেছি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আমি আছি।

 

 

 

আপনার কাছে আমারদের দাবি আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে আপনার বহিস্কারাদেশ তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করাবেন। কিভাবে করাবেন তা আপনার ব্যাপার।’ তিনি সেখানে আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের সাথে বলে গেলাম, আমার কাছে আমি সহ ১৫ জনের পদত্যাগের কপি আছে, আমি তা মিডিয়ায় দিয়ে দিব।’

 

 

 

‘আমি আরও বলতে চাই সামনে যেই কমিটি হবে তাতে আপনি সভাপতি এবং আতাউর রহমান মুকুল সাধারণ সম্পাদক। এর বিকল্প কিছুই আমরা দেখতে চাই না।’ তিনি বলেন, ‘আজকে শহীদ মিনারে যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী চলছে, এখানে যেই লোক উপস্থিত আছে, সেখানে তার অর্ধেকও নাই।’

 

 


 
এ সময় যারা পদত্যাগ করেন তারা হলেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সর্বশেষ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, যুগ্ম আহবায়ক হাজী নুরুদ্দিন, আতাউর রহমান মুকুল, আবুল কাউসার আশা, সদস্য এড. বিল্লাল হোসেন, আলমগীর হোসেন, শহিদুল ইসলাম রিপন, আমিনুল ইসলাম মিঠু, মনোয়ার হোসেন শোখন, ফারুক হোসেন, হাজী ফারুক হোসেন, হান্নান সরকার, আওলাদ হোসেন, এড. আনিসুর রহমান মোল্লা, এড. শরীফুল ইসলাম শিপলু। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন