Logo
Logo
×

রাজনীতি

জাপার দুই এমপি’র ভাগ্য দোদুল্যমান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৫০ পিএম

জাপার দুই এমপি’র ভাগ্য দোদুল্যমান
Swapno


# এই দুই আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কপাল খুলতে পারে


ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সাথে জোট নিয়ে আলোচনার মধ্যেই জাতীয় পার্টিতে আবারও কোন্দল। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গাকে বহিষ্কার নিয়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। সেই সাথে জাতীয় পার্টির শীর্ষ দুই কর্ণধারের মাঝে মনোমালিন্য চলছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রয়াত এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ জিএম কাদেরকে সকর্তভাবে কথা বলার জন্য আহবান জানান।

 

 

 

অপর দিকে ক্ষমতাসীন দলের সাথে জোটে নেই বলে জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তবে দলীয় স্বার্থেই মশিউর রহমান রাঙ্গাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুললেন রাঙ্গা নিজে। সেই সাথে জি এম কাদের কিভাবে রাজনীতি করেন তা দেখে নেয়ার হুশিয়ারি প্রদান করেন।

 

 

 

আর  জাতীয় পার্টিতে কোন্দল, রাঙ্গার বহিষ্কার নিয়ে উত্তেজনা চলছে। অনেকটা ভাঙ্গা-গড়ার খেলায় জাতীয় পার্টির দুর্গ টালমাটাল হয়ে পড়েছে, তার ওপর শুরু হয়েছে নতুন খেলা। জাতীয় পার্টির এই কোন্দলের খেলায় দলের নেতা কর্মীদের মাঝে আতঙ্ক তৈরী হয়ে আছে। তার মাঝে আবার ইতোমধ্যে জাপা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও এর আগে তারা ক্ষমতাসীন দলের সাথে জোট করে নির্বাচন করেছে। তখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পর্যন্ত তাদের এমপি প্রার্থী লাঙ্গলের পক্ষে কাজ করেন। 

 

 

 


এদিকে জাতীয় পার্টির এই কোন্দলের প্রভাব পড়ছে নারাণগঞ্জ জার্তীয় পার্টিতে। কেননা নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনে জাতীয় পার্টির এমপি রয়েছে। তার মাঝে সোনারগাঁ তিন আসনের এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। অপর দিকে শহর বন্দর ৫ আসনে আছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এমপি সেলিম ওসমান।

 

 

 

গত দশম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদেরকে জয়ী করার জন্য আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা মাঠে কাজ করেছেন। কিন্তু এবার যদি তারা জোটে না থাকে তাহলে নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির এমপিদের কপাল পুড়তে পাড়ে। তাদের আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী দেয়ার জন্য শুরু থেকে দাবী জানিয়ে আসছে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

 

 

 

আর এজন্য জাতীয় পার্টির এমপিরা তা বুঝতে পেরে আগে থেকে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে দলকে শক্তিশালী করছেন। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের এমপি-মন্ত্রী এবং নেতাদের সাথে আঁতাত করে চলেন জাপা’র এমপিরা। কিন্তু তারাও ইতোমধ্যে দলকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যা সোনারগাঁ জাতীয় পার্টির দিকে তাকালেই বুঝা যায়।

 

 

 

অপর দিকে জেলার ৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙল নিয়ে এমপি হন। তিনি একইভাবে নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দরে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এখানে ওসমান পরিবার এবার জাপাতে মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা আছে বলে জানান রানৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

 


অপর দিকে তারা জোটে না থাকায় কপাল খুলছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও জেলার ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার জন্য দাবী জানিয়ে আসছেন। কিন্তু গত দুই বারের নির্বাচনে তাদের সেই দাবী আশাতেই রয়েছে। কিন্তু তাদের সেই আশা এবার বাস্তবায়নে যেতে পারে।

 

 

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ ৩ আসনে ২০০৮ সনে নৌকা নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন কায়সার হাসনাত। কিন্তু পরবর্তীতে  জোটের কারণে তিনি আর মনোনয়ন পান নাই। তবে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী কড়া বক্তব্য দিয়েছেন।

 

 

 

তিনি বলেছেন, ‘সোনারগাঁয়ে আমরা নৌকা চাই। এখানে শহরের এক এমপির হস্তক্ষেপে বার বার জাতীয় পার্টির একজন ব্যক্তি এমপি হচ্ছেন। যার নাম ঠিকানা কিছু নাই, আর সোনারগাঁ থেকে নৌকার মনোনয়ন চেয়ে যাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত।

 

 

 

এছাড়া জেলা ৫ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে এমপি হওয়ার জন্য এক ঝাঁক নেতা-কর্মী মনোনয়ন চেয়ে যাচ্ছেন। তারা দলের কাছে নৌকা দেয়ার জন্য দাবী জানিয়ে আসছেন। তাই সব কিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আগমাী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সাথে ক্ষমতাসীন দলের জোট না থাকলে নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির দুই এমপি’র কপাল পুড়তে পারে। অপর দিকে এই সুযোগে আওয়ামীলীগের কপাল খুলতে পারে।

 

 


জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘বিভিন্ন সময় দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে রাঙ্গার বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ থাকার বিষয়ে চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানান দলের মহাসচিব।’

 

 

 

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি কারো দালাল না, কারো দালালি করবে না; কারো পকেটে ঢুকবে না। গত ৩২ বছর আ.লীগ-বিএনপির দুর্নীতির কারণে জনগণ এখন জাপাকে চায়। আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে বিজয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

 

 


এর প্রতিক্রিয়ায় মসিউর রহমান রাঙ্গা বৃহস্পতিবার ডিআরইউ মিলনায়তনে প্রেস কনফারেন্স ডেকে অভিযোগ তোলেন, ‘স্বেচ্ছাচারী দলে পরিণত হয়েছে জাতীয় পার্টি, এভাবে চললে দল টিকবে কিনা এ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন রাঙ্গা।’

 

 


জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘আমরাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং করে নির্বাচন করেছি। আমাদের জন্য কাজ করেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। আর আমরা তাদের জন্য কাজ করেছি। এমন বন্ধুত্ব কি একদিনে ছুঁড়ে ফেলতে পারবেন? সেই বন্ধুত্ব তো আমাদের ছিল, এখনো আছে কিছুটা।

 

 

 

কিন্তু তারপরেও দেশ ও জনগণের স্বার্থে সত্যিকার কথা আমরা তুলে ধরতে চাই। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে এখন জোটে নাই। সুতরাং ভাঙ্গার কোন প্রশ্নই আসে না। আমরা বিরোধী দলে যেদিন থেকে কাজ করছি সেদিন থেকেই আমরা সরকারি দল বা আওয়ামী লীগের জোটে নেই।’

 

 

 

আমি বলতে চাই, ‘আওয়ামী লীগ যদি ভালো কাজ করে অতীতে যেমন তাদের সঙ্গে ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো। আর তাদের উপর যদি আমরা আস্থা হারিয়ে ফেলি এবং জনগণ যদি তাদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তাহলে আমরা ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে নাও থাকতে পারি।’

 

 

 

সব কিছু মিলিয়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতি নারায়ণগঞ্জে কোন দিকে যাবে তাও দেখার বিষয়। তার সাথে জড়িত রয়েছে এখানকার জাাপার ২ এমপির ভাগ্য লিপি। সব কিছু বুঝা যাবে আগামী নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পূর্ব  মূহুর্তে। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন