কপাল খুলতে পারে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩৭ পিএম
# জাতীয় পার্টি একটা সুবিধা পার্টি: আরজু
# বরাবর বলে আসছি জাতীয় পার্টির প্রার্থী চাই না: জাহাঙ্গীর
# এবার মহাজোট থাকলেও নৌকা পাব ইনশাল্লাহ: কালাম
নারায়ণগঞ্জকে আওয়ামীলীগের জন্মস্থান বলা হয়। এই আওয়ামীলীগের প্রতীক হল নৌকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ ৫টি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে নৌকার প্রতীক দেয়া হচ্ছে না। আর এই দুটি আসনে বরাবরই মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক দেয়া হচ্ছে। যার কারণে বরাবরই নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের একটি বক্তব্যের দিয়েছেন যে, ‘জাতীয় পার্টি আওয়ামীলীগের সাথে জোটে এখন নাই’। এই বক্তব্যের পর থেকেই দীর্ঘদিন মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া আওয়ামীলীগ নেতারা আবারও স্বপ্ন বুনছেন তাদের হারিয়ে যাওয়া আসনটি আবারও ফিরে পেতে যাচ্ছেন।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে বরাবরই সম্মেলনে আসা নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে যেন নৌকার প্রার্থী দেয়া হয় আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে স্লোগন দিতে থাকেন। সেসময় ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযমের বক্তব্যে বলেন, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নৌকা প্রাপ্তির প্রত্যাশা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানাব।
সেসময় তিনি আরও মন্তব্য করেন প্রার্থী দিলাম আপনারা আওয়ামীলীগ এখানে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে আপনারা নজির স্থাপন করেছেন। এর আগে নিজেরা বেধাবেদ সৃষ্টি করে নৌকাকে ডুবিয়ে দেয়ার নজির কিন্তু আপনাদের আছে। আবার আওয়ামীলীগের এমপি মনোনয়ন দিবে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে আপনারা নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং করে ‘নৌকাকে ডুবাবেন তাহলে অবস্থা তার চেয়ে জাতীয় পার্টিকে দেয়াই অনেক ভালো’।
এই বক্তব্যের পর কিছুটা আশাবাদী হয়ে নেতাকর্মীরা আবার হতাশ হয়ে পড়েন। আবার ১৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মহানগর নাট্য মঞ্চে হিন্দু মহাজোটের অনুষ্ঠানে তিনি একটি মন্তব্য করেন ‘জাতীয় পার্টি আওয়ামীলীগের সাথে জোটে এখন নাই’। এর পর থেকেই আসার আলো দেখছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৫ আসনের নেতাকর্মীরা আবারও দীর্ঘদিন তাদের হাড়িয়ে যাওয়া আসনটি ফিড়ে পেতে যাচ্ছেন।
তারা আরো আশাবাদ করেন জাতীয় পার্টির জাট থাকলেও না থাকলেও এই দুটি আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনে ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মোশারফ হোসেন। কিন্তু সে মহাজোটের স্বার্থে আসনটি ছেড়ে দেন। তখন জাতীয় পার্টি থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা।
২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে আবারও জাতীয়পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়ে এমপি হন লিয়াকত হোসেন খোকা। ২০১৮ সালে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামসুল ইসলাম ভুইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান কালাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এএইচএম মাসুদ দুলাল ও আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলামসহ ১০ আরো বেশ কয়েকজন নেতা।
নারায়ণগঞ্জ-৫ সংসদীয় আসনে ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনের পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়েছিলেন শুক্কুর মাহামুদ। পরে এ আসনটি মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে এখানে এমপি হন প্রয়াত নাসিম ওসমান। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর ২৬ জুন উপ-নির্বাচনেও এখানে লাঙ্গল প্রতীকে একক প্রার্থী হিসেবে সেলিম ওসমান এমপি নির্বাচিত হন।
২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আবার মহাজোট থেকে এমপি নির্বাচিত হন সেলিম ওসমান। আবারও আসনটি চলে যায় মহাজোটের দখলে ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভুইয়া, আবদুল কাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, এবং মেয়র আইভীর ভাই আলী আহম্মদ রেজা উজ্জ্বল।
টানা দ্বিতীয় বারের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতা বিভিন্ন সভা সমাবেশে দাবি করে আসছেন জেলায় যেকোন মূলে ৫টি আসনে যেন নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে দলীয় প্রধানকে দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে চাচ্ছেন যেকোন মূলে যে এই আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়া হয়।
কারণ দীর্ঘদিন এই আসন দুটিতে নৌকার প্রার্থী না থাকায় হতাশ হয়ে পড়ছেন তৃণমূলের কর্মীরা মনোনোয় বঞ্চিত হওয়ার কারণে উজ্জাবীত হয়ে উঠতে পারছেন না তারা।জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া জানান, ইলেকশন হতে যাচ্ছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এত আগে কোন মতামত দেয়া যায় না। এই বিষয়টা চূড়ান্তভাবে খোলাশা হবে নির্বাচনের আগ মূহূর্তে এখনো বিষয়টা পরিষ্কার না।
জাতীয় পার্টি একটি বারগ্রেডিং পার্টি একটা সুবিধা পার্টি। এরা গত ২টা নির্বাচন আওয়ামীলীগের সাথে জোট গতভাবে করছে নির্বাচন এখনো বহু দূরে কাজই আমরা ধরে নিতে পারি জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামীলীগ জোটবদ্ধ হয় এই দুইটা সিট জাতীয় পার্টি নিয়ে যাবে। জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা যারা আওয়ামীলীগ করি আমরা সবাই চাই নারায়ণগঞ্জ ৫টি আসনে নৌকা দেয়া হোক এটা যাকেই দেয়া হোক সে আওয়ামীলীগের লোক এটা বড় বিষয়।
আমরা বরাবর বলে আসছি এখানে আমরা জাতীয় পার্টির প্রার্থী চাই না যদিও আমাদের নেত্রীর কোথাও জোট করতে হয় বাংলাদেশের ৬৪টা জেলা আছে ৬৪ জেলার অন্য কোথায় জোট করা হোক তাতে আমাদের আপত্তি নাই। আমাদের এখানে দীর্ঘদিন ছিল আওয়ামীলীগ এখন আমরা ভুক্তভোগী এদের কারনে আমরা আর লাঙ্গল চাই না আমাদের এখানে নৌকা দেয়া হোক।
জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মাহফুজুর রহমান কালাম জানান, জাতীয় পার্টি জোটে না থাকলে অবশ্যই সোনারগাঁয়ে নৌকা পাব আমরা আশা করি। আমরা আশাবাদী এবার মহাজোট থাকলেও সোনারগাঁয়ে এবার নৌকা দিবে কারণ দীর্ঘদিন যেহেতু আমাদের নৌকা দেয়া হয় না আমরা বঞ্চিত আমরা নৌকা পাব ইনশাল্লাহ। এন.এইচ/জেসি


