Logo
Logo
×

রাজনীতি

মুকুলে বিএনপিতে  তোলপাড়

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪৯ পিএম

মুকুলে বিএনপিতে  তোলপাড়
Swapno


# আগে কত টাকার মালিক ছিল তা না’গঞ্জবাসী জানে এখন দাম্ভিকতা দেখায় : টিপু


# সালামকে কিছু বলা মানে তারেক রহমানকে বলা : রাজীব


# আ’লীগের সাথে মুকুলের চলাফেরা এবং নৌকা প্রতীক নিয়েও ছবি এসেছে : রনি


# বিএনপির নেতাকর্মীদের তিনি কেন্দ্রে গিয়ে পিটাইছেন : সজল


# রাজনৈতিক নেতাদের কখনও এধরণে আচরণ হতে পারে না : সাহেদ

 


 
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের বাস ভবনে অনুষ্ঠিত এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহামন মুকুলের দেয়া একটি বক্তব্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার ঝর বইছে।

 

 

 

গত রোববার সেই অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার পিঠের চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেন। বিষয়টি নিয়ে মহানগর বিএনপিসহ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। গতকাল শুধু বিএনপি নয়, সারা রাজনৈতিক অঙ্গনেই বিষয়ে নিয়ে চলেছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুল আলম সজল বলেন, আব্দুস সালাম আজাদ ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, আমাদের অভিভাবক।

 

 

 

ওনার (মুকুল) সম্পর্কে আমাদের দলের মধ্যে ভাল কোন রিপোর্ট নাই। বিগত আন্দোলন সংগ্রামসহ বিভিন্ন সময় এবং বিগত নির্বাচনের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের তিনি কেন্দ্রে কেন্দ্র গিয়ে পিটাইছে। সেই হিসেবে চিন্তাভাবনা করেই দল যাদের যোগ্য মনে করেছেন তাদেরকে কমিটিতে নিয়েছে।

 

 

তাদের মন মতো হয়নি বলে তারা এধরণের কথা বলতে পারে না। ওনার জায়গায় থেকে ওনি একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে এভাবে বলাটা শিষ্টাচার বহির্ভূত। আব্দুস সালাম যা করেছেন তা তারেক রহমানের নির্দেশের বাইরে কিছুই করেননি।

 


 
মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাহেদ আহমেদ বলেন, ওনি একজন সিনিয়র নেতা, দুইবার উপজেলার চেয়ারম্যান ছিরেন, ওনার মতো লোকে কমিটিকে কেন্দ্র করে এরকম ওপেন এভাবে বক্তব্য দেওয়াটা মানায় না।

 

 

আব্দুস সালাম আজাদ ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে এধরেণর মন্তব্য আমাদের কারওই কাম্য না। ভাষার বিষয়টা মনে হয় ঠিক ছিল না। রাজনৈতিক নেতাদের কখনও এধরণে আচরণ হতে পারে না। কারণ তাদের কাছ থেকেই আমরা শিখব।

 


 
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, ওনি এর আগেও অনেক বক্তব্য দিয়েছেন যে, বিএনপিতে যারা তৈমুর আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে নির্বাচন করবে তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ ছাড়া করবেন। তিনি কিন্তু সেটা পারেনি। বরং ঘুরে সে বিএনপির পতাকাতলেই এসেছে। বিগত ১২/১৩ বছরের কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের অনেকেই পদ পদবী পায়নি।

 

 

 

ওনারা যদি দলের দুঃসময়ে কাজ করতো, দলের প্রতি অনুগত থাকতো, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলো যদি ঠিকমতো পালন করতো তাহলে কিন্তু তারা এখান থেকে ছিটকে পড়ে না। মহানগর বিএনপির আহবায়ক সদস্য সচিব তারাই হতো। বরং আওয়ামী লীগের সাথে চলাফেরা, নৌকার প্রতীক নিয়েও তাদের ছবি প্রকাশ পেয়েছে।

 

 

 

কিন্তু জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে খালেদা জিয়া এমনকি তারেক রহমানও কিন্তু তাদের পরিবারের প্রতি আস্থাশীল ছিল। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডের কারণেই আজকে এই অবস্থা। সামনে যদি তারা ভাল কাজ করে তাহলে হয়তো আবারও তারা এসব দায়িত্বে ফিরে আসবে। দল করলে দলের বিরুদ্ধে তারা এধরণের বাজে বক্তব্য তারা করতে পারতো না।

 

 

 

 

আমি বিশ্বাস করি, ওনি রাগ বা ক্ষোভের কারণে বলে ফেলছে। এটা ওনার রাজনৈতিক বক্তব্য না, ব্যক্তিগত বক্তব্য। এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেছেন, আমি নিউজটা রাতে দেখিনি, আজ (গতকাল সোমবার) সকাল ৮টায় যখন নিউজটা দেখতে পাই তখনি আমি আমার ফেজবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছি।

 

 

 

আমি সেখানে চ্যালেঞ্জের মতোই স্ট্যাটম্যান্ট দিয়েছি। সালাম ভাই শুধু একজন ব্যক্তি সালাম না, ওনি তারেক রহমান বা নীতিনির্ধারকদের মাধ্যমে দলকে প্রতিনিধিত্ব করে। তাই এখানে সালাম ভাইকে কিছু বলা মানে তারেক রহমানকে কিছু বলা। আমি সেখানে শুধু মুকুলের কথা বলিনি, ওনারা যাদের এজেন্ট (সরকারী দল) তারা সবাই মিলে সালামের একটি লোম ছুঁয়ে দেখতে পারবে না। মুকুল কত বছর উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন।

 

 

 

ওনারা পাস করার পর বিএনপির নেতার কাছে না গিয়ে প্রথমে আওয়ামী লীগের নেতাকে সালাম করার জন্য গেছে। ওনাদের দাদা এমপি, বাবা এমপি সেখানে ওনারা পাস করে আগে জিয়ার মাজারেও যেতে পারতো। তারপর না হয় অন্যকিছু। অন্যের সম্পর্কে কিছু বলতে হলে নিজেরটাও বলতে হয়।

 

 

 

আমি যদিও মহানগর বিএনপি করি না, কিন্তু আমি বিএনপিকে ভালবাসি। এখানে মহানগর বা জেলা বলে কিছু না। সদ্য ঘোষিত মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ওনার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ বলে ওনাকে এভাবে বলবে এটা ঠিক না। আব্দুস সালাম অতিশীঘ্রই নারায়ণগঞ্জে আসছে এবং প্রোগ্রাম করবেন।

 

 

 

ওনি (মুকুল) যদি পারেন আব্দুস সালামের সামনে এসে কিছু করতে তবে করবেন। তিনি বলেন, রাজনীতির এমন ভাষা হতে পারে না। সে (মুকুল) আহবায়ক হওয়ার জন্য নিজে দৌড়াইছে যে লোকের কাছে এখন সেই লোকের চামড়া তুলে ফেলবে। ওনার (মুকুল) নামে শত শত অভিযোগ আছে।

 

 

সে ধানের শীষের বিপক্ষে গিয়ে লাঙ্গলের পক্ষ নিয়ে নির্বাচন করেছে। ধানের শীষের কর্মীদের পিটিয়েছে। ওনাকে আপনারা কতদিন বিএনপির প্রোগ্রামে দেখেছেন। তার সামনে জিয়াউর রহমানকে অপমান করেছে সে প্রতিবাদ করেনি। বিভিন্ন মিডিয়ায় আমরা আরও দেখেছি সে নৌকা প্রতীক হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

 

 

 

সে আগে কত টাকার মালিক ছিল তা নারায়ণগঞ্জবাসী জানে। এখন এত টাকার মালিক হয়ে সে দাম্ভিকতার সাথে বলে, সেটা রাজনীতিতে চলবে না। আব্দুস সালাম একজন শ্রদ্ধেয় নেতা সে আগেও নারায়ণগঞ্জে এসেছে ভবিষ্যতেও আসবে। তাকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার মতো কেউ নেই।

 

 

 

যে এধরণের চেষ্টা করবে তাদেকের নেতাকর্মীরাই অবাঞ্ছিত করে দিবে। আপনার কোন অভিযোগ থাকলে কেন্দ্রে জানান, দলীয় ফোরাম আছে সেখানে জানান। ওনিতো সিস্টেমই জানেন না।

 

তারা গিয়ে একজন দল থেকে বহিস্কৃত নেতা, দলের মধ্যে যার কোন অবস্থান নাই, তার কাছে গিয়ে পদত্যাগ পত্র দেন। আমি ৩৮ বছর যাবত দল করি। তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। মহানগর বিএনপির কর্মসূচীতে আমি ব্যানার ও মাইক থেকে শুরু করে সব ধরণের কাজ আমি নিজে করেছি।     এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন