শহরের উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে একা হয়ে গেছেন মেয়র আইভী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:১৯ পিএম
# সবাই চুপ, কেউ সত্যি কথাটাও বলেন না, কাউন্সিলররাও চুপ, কারণ..
# আমি ভয় পাই না, কাউরে ভয় পাই না : মেয়র আইভী
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত করতে অনেকের সহযোগিতা পাচ্ছেন না, বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাই শহরের নানাবিধ সমস্যার সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল দুপুরে আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলানয়াতনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (২০২২-২০২৩) অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান। প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে নাসিকের এই অর্থবছরের ৫৮৮ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার ৬৩৮ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
শহরের ফুটপাত থেকে হকার সরানোর ব্যর্থতা প্রসঙ্গে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, নগর পরিষ্কারের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। পুলিশ প্রশাসন এসপি সাহেবের আন্ডারে; ম্যাজিস্ট্রেট ডিসি সাহেবের আন্ডারে। আমাদেরতো সিটি পুলিশই নাই সিটি ম্যাজিষ্ট্রেটও নাই। আপনারা আমার হাত-পা বেঁধে ভোট দিয়া বসাই দিয়েছেন ওই চেয়ারে।
তারপরও (২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি) জীবন বাজি রেখে আপনাদের জন্য উচ্ছেদে গেলাম, হামলা হলো। দেড় বছর মামলার পিছনে ঘুরলাম। নারায়ণগঞ্জ কোনো থানা মামলা নেয় নাই। কোর্টে আমরা মামলা করতে গিয়েছি কোর্ট ও আমাদের মামলা নেয়নি। হাই কোর্টের অর্ডার নিয়ে দেড় বছর পর ৭ জনের নামে মামলা করেছি।
আমার নির্বাচনের সময় শর্ত ছিল মামলা উইথড্রো করতে হবে আমি করি নাই, করবোও না। প্রশাসন তাদের পক্ষে রায় দিবে, বলবে কিছু ঘটে নাই নারায়ণগঞ্জে। অলরেডি প্রসাশনের কাছে যে মামলাটা করা হয়েছিল সেটার কিন্তু রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, এইরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।
দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে মেয়রের উপরে পিস্তল উচিয়ে আক্রমন করা হলো, তারপরেও বলে, কিছু হয়নি। তাহলে আমি যাবো কোথায়? উচ্ছেদ কিভাবে করবো বলেন। নারায়ণগঞ্জের সবগুলো অরগনাইজেশন আপনারা চুপ হয়ে গেছেন। প্রেস ক্লাব চুপ, ইউনিয়ন কমিটি চুপ, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী চুপ। সবাই চুপ কেউ কেউতো সত্যি কথাটাও বলেন না। আমি একদম একা হয়ে গেছি।
আমার কাউন্সিলরারও বলে না, তারা সবাই এখন সব জায়গায় সমঝোতা করে চলে।,উপায় নাই। দুই-চারটা পাঁচটা মামলা খাইয়া যাইবা তারাও। তাহলে যাবো কোথায় আমরা, আগে র্যাব সহযোগিতা করতো; এখন র্যাবও আসে না। আমি নারায়ণগঞ্জ থানার ওসি সাহেবকে বলি, দেখবেন মাঝে মাঝে সব উচ্ছেদ করা হয় কিছুদিন পর সবাই আবার বসে যায়। এগুলো বসাইতাছে কে?
এই শহরের মানুষইতো টাকা তোলে, আমরাতো বলতে পারি না কোনো কথা। আমি জানি ১৫ নাম্বার ওয়ার্ডে কে টাকা তুলতাছে? কিন্তু সবাই চুপ নিশ্চুপ। এখানে শুধু প্রশাসন দিয়ে হবে না, শহরবাসীরও আওয়াজ তুলতে হবে। আর আপনাদের সাথেও আমি আছি আওয়াজ তুলেন। আমি ভয় পাই না, কাউরে ভয় পাই না।
আমি ট্রাক মালিকদের বলেছি ট্রাকগুলো সরিয়ে রাখেন। কোনো দেশে এমন জুলুম আছে যে আমার ২০টা ট্রাক আছে আমি রাস্তার উপরে ট্রাক রাখবো; আমি মাসোহারা দিবো প্রশাসনকে। অথচ আমার নাগরিক হাঁটতে পারবে না। বহু মানুষ নারায়ণগঞ্জে মাসোহারা নেয় এবং নিয়ে তারা চুপ থাকে। সেটা সকল শ্রেণিপেশার লোকজন নেয়, যারা দেয় তাদের লজ্জা করে দিতে। তারা শহরকে ক্লোজ করে প্রত্যেক জায়গায় মাসোহারা দিয়ে অবৈধ ব্যবসা করে।
সিটি কর্পোরেশনের বাজেট অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী বলেন, গত বছরের তুলনায় এই বছর বাজেট কম প্রায় ১০০ কোটি টাকা। একদম বাস্থবতার নিরিখে বাজেট করেছি। আমি হয়তো আপনাদের সামনে এক হাজার কোটি দেড় হাজার বা তিন হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করতে পারতাম, আরো বেশি বাড়িয়ে দিতে পারতাম। কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে বাজেট বাড়িয়ে দেখানো ভালো নয়।
গত বছরের বাজেটে আমরা ৯২% কাজ করেছি, এখনো কিছু কাজ চলমান আছে। আমি প্রতি বছর এই কথা বলি সেই পৌর আমল থেকেই যে আমি বাজেট গুলোকে সব সময় দেখেছি পৌরসভায় এসে। তারা বাজেট অনেক বড় দেয়, কিন্তু কাজ শেষ করতে পারে না। আর আমার বক্তব্যে ছিল আমি যা বাজেট দিব তা প্রায় ৯০% এর মতো কাজ যেনো করতে পারি।
সে তুলনায় আমরা বাজেটগুলো গ্রহণ করে থাকি। এইবার কিন্তু পুরো পৃথিবীতে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। সুতরাং একদম বাস্তবতার সাথে আমরা আমাদরে বিভিন্ন দাতা সংস্থা কি দিবে, আমাদের গভর্মেন্ট কত টাকা দিবে, আমারা টেক্স কত টাকা আদায় করতে পারবো; সেটার উপরে নির্ভর করেই কিন্ত আমাদের বাজেট করা হয়।
এখানে ভয় পাওয়ার কিছু নেই মাস ছয় এক পরে গভর্মেন্ট এর ফাইনালসিয়াল অবস্থা যদি ভালো হয়। তাহলে কিন্তু আমাদের যে প্রজেক্টগুলো বন্ধ হয়ে আছে। সেগুলোর টাকা সার্ভ করতে থাকবে, এটার সাথে প্লাস হইতে থাকবে। সংশোধনী বাজেটে যেয়ে কিন্তু এটা বেড়ে যাবে ইনশাআল্লাহ আমার চাই আমাদের এটা বেড়ে যাক।
নারায়ণগঞ্জ শহরে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আমি জন্মের থেকেই দেখতাছি নারাযণগঞ্জ শহরে রাস্তাঘাট কম। তাও আমরা কিছু রাস্তাঘাট বাড়িয়েছি। এই যে বঙ্গবন্ধু একটি সড়কের একটি শহর আমাদের। আমরাতো পারলাম না শহরটাকে একটু বড় করতে। আমি শুনেছিলাম ডাকবাংলো থেকে ধরে কমলাপুর পর্যন্ত একটি রাস্তা যাওয়ার কথা ছিল।
কেন কি অজানা কারণে এই রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে, আমি ঠিক বলতে পারবো না। আমার এরিয়ার ভিতরে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি বিকল্প রাস্তা তৈরি করা জন্য নদীর পাড় ঘেষে। কিন্তু নদীরপাড় ঘেষে রাস্তা করা খুব ডিফিকাল্ট কারণ ঐ জায়গা নৌ মন্ত্রনালয়ের । ওই জায়গা ডিসি সাহেবের খাসের জায়গা, তারপরে পাবলিকের জায়গা, কাজ করা অতন্ত জটিল ।
আমাদের দেশে সেই জটিলতার মাঝখান দিয়ে করতে হয়। যখন আমি এই বিকল্প রাস্তা দেওয়ার জন্য একওয়ার করতে যাবো আপনারা বলবেন আমাদের বাপ-দাদার জায়গা একওয়ার করে কেন রাস্তা হবে। যেই রাস্তাগুলো আছে সেই রাস্তাগুলো রক্ষা করতে পারতাছি না। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন নারায়ণগঞ্জ শহরে কি পরিমান ফুটপাতে হকাররা বসে।
আরেকজন বললো মীর জুমলা রোড আর নাই। যেই রোড এতো কিছু করে সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধে, প্রেস ক্লাবে মিটিং করে ডিসি সাহেবকে সাথে নিয়ে সেই রোড আমার উদ্ধার করেছিলাম। এইটার জন্য আপনারা আমাকে নাস্তানাবুধ করেছিলেন। আমি সবাইকে সাথে নিয়ে এই রোডটা উদ্ধার করেছিলাম। একবছর ও সেই রোড খালি রাখতে পারি নাই। এখন সেটা বাজার হয়ে গিয়েছে।
আর শায়েস্তা খান রোড পুরোটা দখল হয়ে গিয়েছে। সামনে আমি কিছুদিন আগে দেখলাম কাঁচা বাজার আমারে কেন যানি মনে হচ্ছে এই রোডও দখল হয়ে যাবে। তাহলে এর পিছনে কারা আমি জানি পেছনে কারা ? কিন্তু এখন বলবো না। আপনারাও জানেন কারা প্রসাশনের সহযোগিতা ছাড়া ওইখানে কেউ বসতে পারে না।
শহরের যানজট প্রসঙ্গে মেয়র আইভী বলেন, শীতল বাসকে মামলা দেওয়া যাবে না, মৌমিতাকে মামলা দেওয়া যাবে না। তারা চাষাঢ়া দাবড়িয়ে বেড়াবে। মৌমিতা তিন চার বছরে আগে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ আসতো না ওদিক দিয়ে চলে যেত। এখন সব চাষাঢ়ার উপর দিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ শহরের উপর অত্যাচার এখন এমন বেড়েছে, যা বলার মতো না।
খুন হয়তো বন্ধ হয়েছে, কিন্তু আরো অন্য অত্যাচার বেড়ে গিয়েছে। এটা কারা করতাছে, এটা আপনারা আমরা সবাই জানি। কারা টাকা কামাচ্ছে একটা শ্রেনীর লোক আর প্রসাশনের এক শ্রেনীর অসাধু লোক। সবাই না সবাই যদি উল্টা পাল্টা করতো তাহলে তো দেশে দেশই থাকতো না। কিন্তু যারা ভালো কাজ করতে চাচ্ছে তারা তাদের কাছে অসহায় হয়ে যাচ্ছে।
শায়েস্তা খান রোডে যে ছেলেটা টাকা তুলে সেটাকে আমরা সকলে চিনি আমাদের মিছিলের মধ্যে সাবার আগে ও আক্রমণ করে ছিল। বহুবার ওর নাম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ও ঘুরে ফিরে আবার চলে আসে। কারণ উনি নারায়ণগঞ্জ শহরের বড় ভাইদের লোক।
কদম রসুল সেতু প্রসঙ্গে মেয়র আইভী বলেন, কদম রসূল ব্রিজ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল একবছর আগে প্রথমে বাধা প্রদান করা হয়। কুমুদিনিকে দিয়ে পরে সে প্রবলেম শেষ করছি একবছর লাগিয়ে যে প্রজেক্ট ছিল তার থেকে বেশি ১০ কোটি টাকা বেড়েছে। এখন রেলওয়ে আইসা দাঁড়াইছে রেলওয়ে ১৬ একর জায়গা দিয়ে দিয়েছে রাস্তা করার জন্য, আর আমার ব্রিজের জন্য লাগবে ১ একর জায়গা, এটা রেলওয়ে আমাকে দিতে চাচ্ছে না।
রেলওয়ের সার্টিফিকেট পেলে আমরা টেন্ডারে চলে যেতে পারবো। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হয়ে যত সমস্যার সম্মুখীন হই আমি মনে করি নারায়ণগঞ্জে আর কোনো জনপ্রতিনিধি এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়না। আমি যেখানে যে কাজ করার দরকার সেখানে সে কাজগুলো করার চেষ্টা করি।
আমি শায়েস্তা খান রোডের ব্যাপারে প্রসাশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি এসপি সাহেবের সাথে কথা বলবো, উচ্ছেদ কিভাবে করা যায়। কিন্তু উচ্ছেদ করে আমি কতদিন রাখতে পারবো তা জানি না। এখন আমাকে অন্য চিন্তা করতে হবে রাস্তাঘাটের ডিজাইন চেঞ্জ করতে হবে নাকি বুঝতে পারতেছি না।
হয়তো বা ফুটপাতের ডিজাইন চেঞ্জ করতে হবে বা রাস্তা সংকীর্ণ করে দিয়ে ফুটপাত বাড়াতে হবে এটা চিন্তা করতে হবে। সিটি গভার্নেন্স না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো মেয়র কেনো কাজ ঠিক মতো করতে পারবে না। আমি যেভাবে জোরে করি, সেভাবে জোরে করতে হবে। শেখ রাসেল পার্ক দখল করছি, বন্দরে ২৫ নং ওয়ার্ডে জায়গা দখল করাছি।
যানজট নিরসন প্রসঙ্গে মেয়র আরো বলেন, কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে নিবো বিভিন্ন কারণে; সিটিতে থাকবে যেভাবে হোক এটা একটা লিংক করে দিবো। যাতে মানুষের কষ্ট বেশি না হয়। মাল্টিমিডিয়া হাব করতাছে বাংলাদেশ সরকার প্রায় একুশটার মতো। তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে একটি; কিন্তু এটা হতে আমার কেমন জানি মনে হয়ে ১০ থেকে ২০ বছর লেগে যাবে।
কারণ এটা ডিজাইন করবে, ড্রয়িং করবে। তিনটা মিনিস্টিরি এখানে রেলওয়ে, নৌ পরিবহন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন তিনটার সমন্বয়ে করা হবে। যদি এমনটা হয়ে যায় সেখান থেকে আপনাদের ট্রেন- বাস- নৌ বাস ছাড়বে। আমার হতাশ হবো না ইনশাআল্লাহ কারণ একটি দেশ আস্তে আস্তে উঠে।
দুইটা মেট্রোর লাইন কিন্তু নারায়ণগঞ্জে আসবে। একটা লিংক রোড দিয়ে আরেকটা সিদ্ধিরগঞ্জ দিয়ে,সময় লাগবে কিন্তু হবে। তার পরে ও আমরা চিন্তা করতাছি দুই নম্বার গেট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত আমার এই রাস্তাটাকে করে দেওয়ার জন্য যেহেতু রেল মন্ত্রণালয় এখানে ডাবল রেল লাইন করবে, এই জন্য আমরা বসে আছি। আমাদের কাছে মন্ত্রী মহোদয় চেম্বার রোডটা চায় এখন আমি যদি চেম্বার রোড দিয়ে দেই তাহলেতো যানজট আরো বাড়বে। নাারায়ণগঞ্জ থানা, ট্রাফিক বিভাগ তারা আমাদের নিকট এই মতামত প্রকাশ করেছে। এই জন্য রেলওয়েকে আমি জায়গা দিতে পারবো না তাই রেলওয়ে আমাকে ব্রিজের জন্য জায়গাও দিচ্ছে না।
নাসিকের বাজেট অধিবেশনে আরো উপস্থিত ছিলেন, নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, দৈনিক খবরের পাতা পত্রিকার সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নুরুদ্দীনসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সকল কাউন্সিলরবৃন্দ। এনিএইচ/জ


