# এখনও যোগ্য নেতা রয়ে গেছে : সরকার হুমায়ুন কবির
# এই কমিটি খুবই প্রশংসিত : শিপলু
# আগের তুলনায় এই কমিটি অনেক শক্তিশালী : শাহিন
গত ১৩ সেপ্টেম্বর এডভোকেট মো. শাখাওয়াত হোসেন খানকে আহবায়ক এবং এডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাকিদের সদস্য করা হয়।
তবে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই কমিটির পদ নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়ন। কমিটি ঘোষণার পরই মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি মনোনীত তিনবারের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালামের পুত্র মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এবং নতুন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নাসিক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা তার নতুন পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন।
এরপর পদত্যাগের সেই দলে ১৫ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। তারই সাথে নতুন আহবায়ক কমিটি নিয়ে শুরু হয় নাটকীয়তা। একপক্ষে অবস্থান নেন সাবেক এমপি আবুল কালামের ভক্তরা এবং তাদের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও নতুন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল।
সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় তাদের ১৫ জনের সমন্বিত পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠিকভাবে ঘোষণা করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি থেকে বহিস্কার হওয়া নেতা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের বাসভবনে। একই সাথে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে অশালীন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে আতাউর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে।
তবে সবকিছুকে দুরে ঠেলে নতুন কমিটির উপর আস্থা রাখছেন মহানগর বিএনপির বৃহত্তর একটি অংশ। তাদের মতে দীর্ঘদিন কমিটির সভাপতি অসুস্থতার কারণে মাঠে থাকতে পারছিলেন না। অন্যদিকে, কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকেও দল থেকে বহিস্কার করায় সেই পদটিও শূন্য হয়ে পড়ে।
তাই দলটি হয়ে পড়ে অনেকটা অভিভাবকহীন। তাছাড়া গত কমিটি কোন আন্দোলন সংগ্রাম কিংবা দলীয় কর্মসূচীতে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয়নি বলে মনে করেন তারা। তাই নতুন এই আহ্বায়ক কমিটিতে নেতৃত্বের পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিলেন তারা।
আগামীতে বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নতুন কমিটি গঠনে এই আহ্বায়ক কমিটি কোন প্রকার স্বজনপ্রীতি দেখাবেন না বলে এবং দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, ত্যাগী ও দু:সময়ে যারা দলের পাশে ছিল তাদের নিয়ে গঠন করা হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। নতুন এই নেতৃত্বে কমিটি আগের চেয়ে আরও চাঙ্গা হবে বলে মনে করেন মহানগর বিএনপির এই অংশ।
এই বিষয়ে কথা হলে সদ্য গঠিত মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহিন আহম্মদ বলেন, বর্তমানে মহানগর বিএনপির যে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে তা বিগত কমিটিগুলোর তুলনায় অনেক শক্তিশালী। এর আগে অন্যান্য সময় আপনারা দেখেছেন যে বিএনপি যে কর্মসূচীগুলোর আয়োজন করেছে সেখানে ৩৫ থেকে ৪৫ জনের বেশি লোকের উপস্থিতি ছিল না।
গত ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচীতে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তা বিগত দিনে কখনও হয়নি। সেই আয়োজনে যুবদলের নেতা শাওনকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে আমাদের শত শত লোক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এরপর যে কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে সেখানে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপর মামলা থাকা সত্ত্বেও সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করেও কিন্তু সেখানে জনসমুদ্র তৈরি হয়েছে।
তাই আমি মনেকরি বিগত দিনের কমিটির তুলনায় এই কমিটি অনেক শক্তিশালী। আমি মনে করি আমরা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারবো। আগামী দিনের বিভিন্ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আমরা মনে করি যারা আন্দোলন সংগ্রামে উপস্থিত ছিল, বিএনপির দুঃসময়ে পাশে ছিল তাদের বাছাই করে কমিটিতে রাখা হবে।
মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাকিদ মোস্তাকিন শিপলু বলেন, সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহবায়ক ও আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা তৃণমূলসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীগণের মাধ্যমে খুবই প্রশংসিত।
তারা এই কমিটির সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে ঐক্যবদ্ধ আছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বরে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত বিএনপির কমসূচীতে যার কিছুটা প্রমাণ জনগণ দেখেছে। সে সময় মহানগর বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সেখানে মিছিলসহ উপস্থিত ছিল।
সাখাওয়াত-টিপুর নেতৃত্বে আগামী দিনে আমরা আশাকরি আরও সুসংগঠিত হবো। আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম আরও বেগবান হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। সামনে যে সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলো গঠন করা হবে সেখানে যারা রাজপথে আছে, মাঠে আছে তাদের সকলেই এখানে মূল্যায়িত হবে বলে আমি আশা করি।
তাদেরকে নিয়েই পূর্ণাঙ্গ কমিটিসহ অন্যান্য কমিটিগুলো করা হবে। মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, বিএনপি শুধু নেতা অধ্যুষিত দল না, যারা নেতৃত্বে আসছে তারা যদি সঠিকভাবে দলের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পারে বা সবাইকে সঠিকভাবে সংগঠিত করতে পারে, তাহলে কর্মী এবং নেতার অভাব হবে না।
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি আছে না নাই, বিভিন্ন হামলাসহ মামলা মোকদ্দমা দিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বরই তার প্রমাণ হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাই এখন বিএনপির দিকে হেলে পড়তেছে। তিনি বলেন, ‘এখনও বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যোগ্য নেতা রয়ে গেছে। যখন ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটিগুলো গঠন করা হবে সেখান থেকে যদি ভাল ভাল নেতারা এখানকার ভাল পদে আসতে পারে তারা যদি ভাল ভূমিকা রাখতে পারে।
আমাদের এবারের অনেক কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছে। তাদের যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ করে কমিটির মধ্যে রাখতে পারি তাহলে অনেক সুবিধা হবে। একজন কাউন্সিলর হওয়া কিন্তু সহজ কথা নয়, তাদেরও কিন্তু বিশাল একটি সমর্থক বাহিনী আছে। তখন আমাদের সক্রিয় কর্মীর আর অভাব হবে না।’ এন.এইচ/জেসি


