সোনারগাঁ স্বেচ্ছাসেবকলীগ কমিটি নিয়ে প্রাণ চাঞ্চল্য
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:০৭ পিএম
# দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি: ফারুক ওমর
#নেতা হতে হলে কর্মীদের খোজ নিতে হবে: আনিস
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পর থেকে জেলার ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠনের দলীয় কার্যক্রম হযবরল অবস্থা হয়ে আছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচানকে কেন্দ্র করে জেলার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রধান সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল হয়ে আছে। থানা পযায়ের স্বেচ্ছাসেবক লীগের নামকাওয়াস্তে দলীয় কার্যক্রম চলে।
বিশেষ করে সোনারগাঁ স্বেচ্ছাসেবক লীগে এখন হযবরল অবস্থা হয়ে আছে। কেননা দীর্ঘ ৮ মাসের বেশি এখানে কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়ে পরেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। অথচ টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় রয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। আর এই দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সোনারগাঁ শাখা তেমন একটা শক্তিশালী হতে পারছে না।
শক্তিশালী না হওয়ার পিছনে প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন কমিটি না থাকা। বর্তমানে ৮ মাস যাবৎ সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিহীন হয়ে আছে। আর এতে করে ঝিমিয়ে পরছে দলীয় নেতারা। তবে যারা পদে আসতে চাচ্ছেন তারা তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে দলীয় নেতা কর্মীদের সক্রিয় রাখছেন।
এদিকে সোনারগাঁর উপজেলায় যারা নেতৃত্বে আসতে চান তাদের নেতৃত্বে দলীয় কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। পাশা পাশি তারা নিজেদের মত করে নেতা কর্মীদের সরব রেখে যাচ্ছে। তবে পদ প্রত্যাশী নেতাদের দাবী সোনারগাঁ উপজেলায় দ্রুত কমিটি দিলে তারা এখানকার স্বেচ্ছাসেবক লীগকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে।
কিন্তু রাজনৈতিক বোদ্ধ মহল মনে করেন এখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি থাকলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ শক্তিশালী হয়ে দলের জন্য বিভিন্ন নির্বাচনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করদে পারবে। কিন্তু এখানে কমিটি না থাকায় দলটির কার্যক্রম এলো মেলো ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নিকট সোনারগাঁ স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটি দেয়ার দাবী তুলেন উপজেলার নেতৃবৃন্দ।
খোজ নিয়ে জানাযায়, সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটির নেতৃত্বে আসার জন্য এক ঝাক নেতৃবৃন্দ মাঠে নেমে কাজ করে যাচ্ছে। তারা নিজেদের মত তাদের অবস্থান তৈরী করছেন। সেই সাথে স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। তবে কারা নেতৃত্বে আসবে তা এখনো বলা যাচ্ছে।
কিন্তু স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতৃবৃন্দ এখানে শক্তিশালী কমিটি গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় একাধিক নেতা জানান, সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদে আসার জন্য ফারুক ওমর কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান হয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাথে রাজনীতি করে যাচ্ছে।
তার বড় দুই ভাই একজন সোনারগাঁ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরেকজন কাচঁপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। কাচঁপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন মোশারফ ওমর। অপর দিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আছে বাবু ওমর। তারা আওয়ামী লীগের সোনারগাঁ মূল দলের রাজনীতিতে সমপৃক্ততা আছেন।
সোনারর্গাঁয়ের আরেক কৃতি সন্তান সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি প্রার্থী আসিফ আহমেদ আনিস মাঠে ময়দানে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনিও আওয়ামী পরিবারের সন্তান।
তার পিতা ডা. আতিকুল্লাহ সোনারগাঁ পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তার আরেক ভাই আরিফ আহমেদ সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তিনিও এর আগে ছাত্রলীগে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বছরের শুরুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সকল থানা, উপজেলা এবং ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নির্দেশক্রমে ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং এর অন্তর্গত সদর থানা, ফতুল্লা থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, বন্দর থানা, রূপগঞ্জ থানা, সোনারগাঁ থানা কমিটি ও মহানগরের অন্তর্গত ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। যা বর্তমানে কমিটি বিহীন আছে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ।
খোজ নিয়ে জানাযায়, ২০০৯ সনে সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ দিন এখানে কমিটি না থাকায় এখানকার স্বেচ্ছাসেবক লীগ হযবরল হয়ে আছে। সেই সাথে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। তাই এখানে কমিটি দেয়া দাবী তুলেন নেতৃত্বে আসা ব্যক্তিরা।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদ প্রার্থী ফারুক ওমর জানান, আমার রাজনীতির শুরুর পর থেকে দলের যে পদে দায়িত্ব পেয়েছি তা সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। এমনকি বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ি।
তিনি আরও জানান, সোনারগাঁ স্বেচ্ছাসেবকলীগ ৮ মাস যাবৎ কমিটিবিহীন থাকায় নেতা কর্মীরা হতাশা প্রকাশ করছে। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে সেই সংগঠনের কমিটি থাকতে হয়। তাই আমরা চাই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যেন এখানে দ্রুত কমিটি দেয়।
আর এজন্য আমি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সার্বক্ষনিক ভাবে যোগাযোগ করে যাচ্ছি। সেই সাথে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। তাই আমি যদি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি পদে দায়িত্ব পাই তাহলে সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগকে সুসংগঠিত করে সকলকে নিয়ে ঢেলে সাজাবো।
সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরেক সভাপতি পদপ্রার্থী ও সাবেক ওই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক আসিফ আহমেদ আনিস জানান, আমি সোনারগাঁ উপজেলা ছাত্রলীগে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। তখন থেকে তৃনমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে মিলে কাজ করেছি। সেই সাথে নেতা কর্মীদের মনজয়ের চেষ্টা করেছি।
কেননা নেতা হলে সবার আগে কর্মীদের খোজ খবর নিতে হবে। তাহলে নেতা হওয়ার আশা করা যায়। এছাড়া দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সব সময় রাস্তায় মিছিল মিটিং করেছি। তাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তবে কমিটি না থাকায় কর্মীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।
তাছাড়া আমার পিতা ডা. আতিকুল্লাহ পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আমার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জরিত।
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এখানে ক্লিন ইমেঝের নেতাদেরকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটির দায়িত্ব দিবে। তিনি আরও জানান, আমাকে সভাপতি পদে দায়িত্ব দেয়া হলে সোনারগাঁ জেলার স্বেচ্ছাসেবকলীগকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।
সেই সাথে প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন করতে পারবো। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আরেক সভাপতি প্রার্থী আমির হোসেন কাজ করে যাচ্ছেন। তিনিও পিছিয়ে নেই। দলের নেতা কর্মীদের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।


