Logo
Logo
×

রাজনীতি

পরিবর্তন চায় তৃণমূল

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:১৫ পিএম

পরিবর্তন চায় তৃণমূল
Swapno


#  জেলা ও মহানগর দুই কমিটির মেয়াদ শেষ


টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামীলীগ। তবে প্রায় এক যগের বেশি ক্ষমতায় থেকেও সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হতে পারে নাই ক্ষমতাসীন দল। আর না হওয়ার পিছনে মূল কারণ হিসেবে মনে করছে জেলা উপজেলা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে তৃনমূলে দীর্ঘদিন কমিটি না থাকা। এছাড়া দলীয় কোন্দল নিরসন না হওয়া।

 

 

 

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে দলীয় কোন্দলের উত্তর-দক্ষিন মেরুর ক্ষমতাসীন দলে প্রভাব থাকা। অভিযোগ রয়েছে এই দুই মেরুর প্রভাব বিস্তারের কারণে দলের কমিটি গুলোতে জটিলতা তৈরী হয়ে থাকে। একই সাথে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে বাধা হয়ে আছে।

 

 

 

তাছাড়া বর্তমান কমিটিতে যারা আছেন তাদের বিরুদ্ধেও কমিটি বাণিজ্য, স্থানীয় নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ কমিটি নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোতে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়েছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কমিটি মেয়াদোর্ত্তীণ হলেও এখনো নতুন কমিটি হয় নাই।

 

 

 

তবে আগামী ডিসেম্বরের আগে কমিটি করার নির্দেশনা রয়েছে। কেননা আগামী ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আর এজন্য স্থানীয় নেতারা এখন নড়েচড়ে বসেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, যারা জেলা মহানগর আওয়ামী লীগে পদে আসতে চাচ্ছে; তারা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয়ে নতাদের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছে। সেই সাথে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। অক্টোবরেও নারায়ণগঞ্জ জেলা কিংবা মহানগরের আংশিক কমিটি দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।  

 

 

 


এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলনের হাওয়া বইছে। এতে করে পদ প্রত্যাশী নেতারা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিজেদের জাহির করার জন্য নানাভাবে প্রচষ্টো চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগও জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের নানাভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে দলকে শক্তিশালী করার জন্য সব দিক বিবেচনা করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণার আলোচনা হচ্ছে।

 

 

 
জানা যায়, গত ২ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় র্কাযালয়ে প্রাথমকি সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের জন্য বই বিতরণ অনুষ্ঠানে আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

 

 

 

ওই সভায় তিনি তার বক্তব্যে বলেছিলেন, আমাদরে জাতীয় সম্মেলন আগামী ডিসেম্বরে হওয়ার কথা। তিন বছর পরপর আমাদের সম্মলেন হয়, সেই হিসেবে আগামী ডিসেম্বরে আমাদের সম্মলেনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

 

 


সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদে আগ্রহী হিসেবে আলোচনায় আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু। আবারো সভাপতি হিসেবে থাকতে চান বর্তমান সভাপতি আব্দুল হাইও। তবে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকায় তিনি বাদ পড়তে পারে বলেন জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

অপর দিকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আসার জন্য নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক  আবুল হাসনাত শহীদ মো. বাদল। তবে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কিংবা অন্য কোন সাংসদকেও দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

 

 


এদেিক নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনা রয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল, এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনকেও সুযোগ দেয়ার দাবি তৃণমূল। এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম আহসান হাবিব শাহ নিজাম এবং জিএম আরমান।

 

 


আগামীতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা থাকা ও বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে মাঠে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে জেলা মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু  এর আগে একতরফা কমিটি হওয়ায় অনেক র্শীষ নেতারা জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিগুলোতে পদ পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

বরং তারা গ্রুপিংয়ে পড়ে পদবঞ্চতি ছিলেন। তাছাড়া দীর্ঘ দিন কমিটি না হওয়ায় অনেক নেতা নেতৃত্বে আসার জন্য আলোচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে আওয়ামীলীগের সব মেরুতে এখন পদ পাওয়া নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

 

 


দলীয় সূত্র বলছে, ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। এর দুই বছর পর ২০১৫ সালরে ১০ পিসেম্বর ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

 

 

এর আগে বিলুপ্ত শহর আওয়ামী লীগের কমিটিতওে সভাপতি ও সেক্রেটারী পদে ছিলেন আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা। কমিটির মেয়াদ ছিল ২ বছর। কিন্তু পার হয়ে গেছে ৭ বছর। তবে এই র্দীঘ সময়ে তারা ওয়ার্ড পর্যায়ের কোনো কমিটি গঠন করতে পারেননি।

 

 


একই সাথে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ-সভাপতি এবং আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বশিষ্টি জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা কওে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

 

 

এর ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। এই কমিটি গঠনের পর র্শীষ পদে থাকা অনেক নেতাই নানা বির্তকিত কর্মকাণ্ডে নিজেদের জড়িয়েছেন। তার মাঝে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে থাকা আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নাই।

 

 

 

কমিটি বাণিজ্য থেকে শুরু করে ইউনিয়ন নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।  তাই দলীয় নেতা থেকে শুরু রাজনৈতিক মহল মনে করেন তার বিতর্ক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি এবার পদ থেকে বাদ পড়তে পারেন।  সেই সাথে নতুন কমিটিতে এবার অনেক রদবদল হতে পারে।

 

 


আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সদস্য আনিসুর রহমান দিপু জানান, আমরা দেখেছি ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোতে আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে। তবে শোনা যাচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের আগে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সম্মেলন হতে পারে।

 

 

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দিলে আমি তা যথাযথভাবে পালন করবো। সেই সাথে যাকে কমিটিতে দায়িত্ব দিবে আমরা তাকে মেনে তার নেতৃত্বে কাজ করতে প্রস্তুত আছি। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন