Logo
Logo
×

রাজনীতি

বর্ধিত সভায় জবাবদিহিতা

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪৩ পিএম

বর্ধিত সভায় জবাবদিহিতা
Swapno

 

# এজেন্ডার বিষয়ে পরে জানতে পারবেন : আবদুল হাই


# সকালেও সভাপতির সাথে কথা বলেছি এবিষয়ে কিছুই বলেননি : আরজু ভূঁইয়া


# বর্ধিত সভার বিষয়ে কিছুই শুনিনি : জাহাঙ্গীর আলম


# মূলত সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই এই বর্ধিত সভা : এমএ রাসেল

 

 


 
আগামী অক্টোবর মাসেই জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা। ২২ অক্টোবরকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ধরে রাখা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে। সেই সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই আগামী ১লা অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে সভার প্রধান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।

 

 

 

যিনি গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু দিন নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করেছেন এবং নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একটি চিত্র বা ধারণা তার মধ্যে আছে। ১লা অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সকাল ১০টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন কমিটির দপ্তর সম্পাদক এমএ রাসেল।

 

 

 

 

তবে এই বর্ধিত সভার বিষয়ে এখনও অনেকে কিছুই জানেন না বলে কমিটির বিভিন্ন সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। যা দলীয় বিভক্তির একটি রূপ। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহসভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

 

 

এর ১৩ মাস পর ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর ৬টি পদ শূন্য রেখে ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। সেই থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮টি বর্ধিত সভা বা ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে জানানো হয়েছে। কমিটির শুরু থেকেই দলের সভাপতি এবং সম্পাদকের বিরুদ্ধে তৃণমূলের বিভিন্ন অভিযোগে অনেকটাই বিতর্কিত হয়ে পড়ে কমিটি।

 

 

 

 

 

 

 

ধীরে ধীরে কমিটির দুইটি বলয়ে বিভক্তির চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠে। শুধু তা-ই নয়, প্রায় ক্ষেত্রেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাদা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং একজন আরেকজনকে না জানিয়ে বা এড়িয়ে সিদ্ধান্ত দেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। গত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যা প্রকাশ্য রূপ নেয়।

 

 

 

 

তবে সমন্বয়হীনতা বা ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারের বিষয়টি কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদকের উপর নতুন কিছু নয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। দলের হাই কমান্ডের কাছে তাদের এসমস্ত কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দেওয়া আছে দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

 

 

 

 

 

জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে থাকা বিভিন্ন থানা ও উপজেলা কমিটি গঠনেও তাদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অনেক অভিযোগ আছে যা বিগত দিনে মিডিয়ায় প্রকাশও পেয়েছে। আর তাইতো এবারের নতুন কমিটি নিয়ে দলের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে তৃনমূল পর্যন্ত চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ঘুরে ফিরে তারাই আসছে নাকি পরিবর্তন আসছে তা নিয়ে আগে থেকে আগ্রহের শেষ নেই তাদের মধ্যে।

 

 

 


 
নিয়মিত বর্ধিত সভা বা ওয়ার্কিং কমিটির সভার ধারাবাহিকতার বিষয়ে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রাধান্য দিয়েছেন বলেও দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ আছে। তারা দলের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তির সাথে আলোচনা করেন না বলে অভিমত প্রকাশ করেন তারা। অনেকেই আবার মনে করেন নিয়মিত সভা হলে এসব বিভিন্ন বিতর্কের বিষয়ে অন্যান্য নেতাকর্মীদের প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হতে হবে তাদের।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তাই তারা ভয়ে সহজে সভার আয়োজন করেন না। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই এড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়াকে আহবায়ক ও ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সেখানে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার ও তার সমর্থকদের এড়িয়ে যাওয়া হয়।

 

 

 

 

সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করে একটি বিশেষ মহলকে খুশি করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিতও করা হয়। তখন আবদুল্লাহ আল কায়সারের সমর্থকরা এই আহ্বায়ক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে প্রতিবাদে মাঠে নামে। শুরু হয় পাল্টাপাল্টি সভা, বিবৃতি আর প্রতিবাদ। জেলা আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ সমর্থন জানায় তাদের।

 

 

 

 

 

 

তারপর অনেক জল ঘোলা করে ও অনেক নাটকীয়তার পর এডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়াকে আহবায়ক এবং আবদুল্লাহ আল কায়সার ও ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক।
 

 

 

 

 


কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এবং রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ চাঁদাবাজি ও জমিদখলসহ নানা অভিযোগ আনা হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সেখানেও দলীয় প্রবীণ নেতাদের সাথে কোন প্রকার পরামর্শ না করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সম্পাদকের সিদ্ধান্তে এই অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে দলের একাধিক সূত্র জানায়। পরে অবশ্য তার অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার করেন তারা। এসব ঘটনা দলীয় সমন্বয়হীনতার যে অভাব তারই চিত্র ফুটে উঠে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের অভিমত।

 

 

 

 

 

 


 
১লা অক্টোবরের বর্ধিত সভার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এমএ রাসেল যুগের চিন্তাকে জানান, আগামী ১লা অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হচ্ছে। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যগণ এবং থানা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিগুলোর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত থাকবেন।

 

 

 

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আগামী ২২ অক্টোবর আমাদের জেলা সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। ১লা অক্টোবর সকাল ১০টার সময় ২নং রেলগেট এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। মূলত সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই এই বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও বিবিধ বিষয়ে আলোচনা হবে।

 

 

 

 



 জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া জানান, আমি বর্ধিত সভার বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি আজ সকালেও সভাপতির সাথে কথা বলেছি, সভার বিষয়ে তিনি আমাকে কিছুই বলেনি।

 

 

 

১ তারিখ জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হলে সেটাতো সভাপতির জানার কথা। তারিখটা কে নির্ধাণ করেছে, কবে নির্ধারণ করেছে মোট কথা এই সভার বিষয়ে আমার কিছুই জানা নাই। তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি ১ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজা শুরু হবে, সেই সময়তো পূজার চাপ থাকবে।

 

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু জানান, ‘২২ অক্টোবরে সম্মেলনের বিষয়ে অনেকেই মনে করে কনফার্ম না। এটা একটি সম্ভাব্য তারিখ। বর্ধিত সভার বিষয়ে আমি মৌখিকভাবে জানি। এটা নিয়ে যেহেতু সময় আছে আমরা বসবো।

 

 

 

 

দলের সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে বসে সভাটা কিভাবে করা হবে তা আলোচনা করে ঠিক করা হবে। তবে এখানে কি কি বিষয়ে আলোচনা হবে তার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেন্ট্রালের নির্দেশেই এই বর্ধিত সভা।’

 

 

 

 

 

 

এই বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘এখন পর্যন্ত আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। এই বিষয়ে কোন প্রকার চিঠি, কাগজপত্র কিংবা মৌখিকভাবেই কারো কাছ থেকে কিছু শুনিনি। যেহেতু বর্ধিত সভা হচ্ছে কি না তা-ই জানিনা, সুতরাং সভার এজেন্ডা বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারছি না ।’

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বর্ধিত সভার বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই জানান, ‘আগামী ১লা অক্টোবর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্যটি মোটামুটি ঠিক। এখানের কারা উপস্থিত থাকবে এই বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যেহেতু কার্যকরী কমিটির সভা তাই কার্যকরী কমিটির লোকেরাইতো থাকবে।’ সভার এজেন্ডার বিষয়ে তিনি বলন, ‘আপনারা পরে এজেন্ডার বিষয়ে জানতে পারবেন।’   এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন