Logo
Logo
×

রাজনীতি

দুই শাওনে উত্তপ্ত বিএনপি

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:১২ পিএম

দুই শাওনে উত্তপ্ত বিএনপি
Swapno

 

# শাওন হত্যার বিচার এই দেশেই হবে: সাখাওয়াত

 


# সরকারের উপর জনগনের আস্থা নেই: মামুন

 



সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির ময়দান এখন উত্তপ্ত হয়ে আছে। বিশেষ করে নানা ইস্যুতে বিএনপি মাঠে নেমে গরম বক্তব্য দিয়ে নেতা কর্মীদের সক্রিয় করে তুলছে। একই সাথে তারা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছে। যারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না, আইনের শাসন, সুশাসন, মানুষের মতপ্রকাশ, বিরোধী দলের অধিকারে বিশ্বাস করে না, তারাই দীর্ঘদিন থেকে ক্ষমতায় রয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এ অবস্থায় তারা তাদের লড়াই অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে করতে যাচ্ছে। তার মাঝে ক্ষমতাসীন দলের বিপক্ষে এখন প্রধান বিরোধী দল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি রাজপথ দখলে নেমেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় বিএনপি তাদের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশ প্রশাসনের মুখে বাধায় পরে একাধিক নেতা কর্মী নিহত হয়েছে বলে বিএনপির অভিযোগ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তবে মিছিল মিটিংয়ে বিএনপি নেতা কর্মীদের হামলায় পুলিশেরও একাধিক সদস্য আহত হয়েছে। জানা যায় উভয় পক্ষের আহত হয়েছে কয়েক শত ব্যক্তি। কিন্তু তার পরেও থেমে নেই বিএনপি। রাজপথেই থাকতে চায় তারা।এদিকে দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে ছয় মাস যাবৎ জেলা মহানগর বিএনপি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ সহ নানা ইস্যুতে শহরের চাষাঢ়ায় প্রতিবাদ সভা করে নেতা কর্মীদের সক্রিয় করে তুলেছে।

 

 

 

 

 

 

 

যা রীতিমত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কেননা দীর্ঘ দিন বিএনপি ক্ষমতার বাহিরে থাকায় নানা মামলা হামলায় নির্যাতিত হয়ে ঝিমিয়ে পরেছিল। কিন্তু আগামী নির্বাচন সহ নানা ইস্যুতে তারা জাগ্রত হয়েছে। তারই প্রমান হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার জন্য নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কে র‌্যালী করতে গিয়ে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তখন পুলিশ প্রশাসনের থেকে র‌্যালীর অনুমতি না থাকায় প্রশাসন তাদের বাধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা কর্মীরা শহরের চুনকাপাঠাগারের সামনে থেকে র‌্যালী শুরু করে তা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে গেলে পুলিশ প্রশাসন তাদের বাধা দেয়। তখন তাদের উপর লাঠিচার্জ হলে বিএনপি নেতা কর্মীরাও পুলিশের উপর ইট পাটকেল মারা শুরু করে।

 

 

 

 

 

 

 

উভয় পক্ষের হামলায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় প্রায় দের ঘন্টা রনক্ষেত্র হয়ে থাকে নারায়ণগঞ্জ শহরের রাজপথ। যা প্রায় চার ঘন্টা অচল হয়ে পড়ে পুরো শহর। বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিন এই ঘটনায় ফতুল্লার যুবদল নেতা শাওন আহমেদ নিহত হয়। নেতা কর্মীদের দাবী এস আই কনকের গুলিতে শাওন নিহত হয়।

 

 

 

 

 

যার প্রেক্ষিতে এস আই কনককে বদলি করা হয়। এই শাওন হত্যার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ যুবদল বিভিন্ন সড়কে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে। তার মাঝে জেলা যুব দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির নেতৃত্বে লিংরোডে বিক্ষোভ মিছিল হয়। একই সাথে তার স্বরনে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

তবে পিছিয়ে নেই জেলা যুবদলের আহবায়ক গোলাম ফারুক খোকনও। অপরদিকে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে নিকট তম জেলা মুন্সিগঞ্জ। গত বুধবার বিকেলে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির তিন নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানের মতো বুধাবর মুন্সিগঞ্জ শহরের অদূরে মুক্তারপুরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে বিএনপি।

 

 

 

 

 

 

 

এই সভায় পুলিশ বিএনপির সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে বিএনপির নেতাদের দাবি, পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাস, গুলি ও রাবার বুলেটে তাঁদের ৫০-৬০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। অপর দিকে পুলিশেরও ২০ থেকে ৩০ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

কিন্তু মুন্সিগঞ্জের ঘটনায় শহিদুল ইসলাম শাওন নামের এক যুবদলের নেতা গুরুতর মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হয়। পরে তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে যুদল নেতা শাওনকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস এক বছরের ছেলে রেখে এই হামলার ঘটনার একদিন পরেই তাকে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করতে হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বাবা হারিয়ে এতিম হয় শাওনের ছেলে। পৃথিবীর বুকে ছেলে বেচেঁ থাকলেও বাবার আদর আর কপালে সইলোনা না মুন্সিগঞ্জের যুবদল নেতা শাওনের। প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা তিনটার দিকে পূর্বনির্ধারিত সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা বিএনপির নেতা-কর্মীরা মুক্তারপুর মোড়ে জড়ো হতে থাকেন।

 

 

 

 

 

পুলিশ তাঁদের সেখানে জড়ো হতে নিষেধ করলে তাঁরা মুক্তারপুর থেকে ট্রাকে পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় যান। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেন। তখন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম একটি মিছিলের ব্যানার ধরে টান দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

 

 

 

 

 

 


রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই দুই শাওন হত্যায় উত্তপ্ত বিএনপি। দুই শাওনই একে অপরের নিকটতম জেলার বাসিন্দা। এক শাওন হত্যার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আরেক শাওন নিহত হয় যা ন্যাক্কার জনক ঘটনা হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক বোদ্ধ মহল। কিন্ত এর থেকে বের হওয়ার জন্য পথ খুজছে বিএনপি সহ প্রশাসন।

 

 

 

 

 

একই ভাবে দিনের পর দিন আরও শাওন নিহত হলে তা আগামী নির্বাচনে ক্ষমাতসীন দলের জন্য ভরাডুবি হতে পারে। তাই এখনি উভয় দলকে তা থেকে বের হয়ে আসার আহবান জানান সচেতন মহল। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, এই সরকার মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

 

 

 

 

 

জনগণকে ভোটের অধিকার দিলে তারা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবে। কিন্তু এ অধিকার জনগণ তো আর ফিরিয়ে আনবে না। এ অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। জনগনের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদেরকে রাজপথে থেকে আন্দোলন করে যেতে হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সেই সাথে শাওনরা যে দাবী আদায় করতে গিয়ে জীবন দিয়েছে তাদের সেই দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন করে যাবো। স্বেরাচারি সরকারের পক্ষেই সম্ভব শাওনদের মত ব্যক্তিদের হত্যা করা। তাই আমরা দাবী আদায় রাজপথে থাকার পাশা পাশি দলকে শক্তিশালি করে যাবো।

 

 

 

 

 

 


মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এইচ মামুন জানান, ‘একটি শৈরাচারি সরকারের পক্ষেই সম্ভব তার বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের পাখির মত গুলি করে হত্যা করা। বর্তমান সরকার মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন বাড়িয়ে দিছে। তাছাড়া এই সরকারকে এখন আর মানুষ চায় না। এই সরকারের ওপর জনগণের আর কোনো আস্থা নেই।

 

 

 

 

 

তাই তারা দিনের ভোট রাতে কড়ে নিয়ে যায়। ক্ষমতায় থাকতে ভারতের সাহায্য চায়। আর আমরা মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে গেলে বিএনপির সহযোগি সংগঠন যুদলের নেতা শাওনদের জীবন দিতে হয়। শাওন হত্যার বিচার এই দেশে একদিন হবে। সেই সাথে শত শাওনকে হত্যা করেও তারা আন্দোলনকে দমাতে পারবে না।’

 

 

 

 

 


জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি জানান, ‘বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায় দুই মাস ধরে টানা কর্মসূচিতে থাকা বিএনপি ক্ষমতাসীনদের হামলা-মামলা উপেক্ষা করেই রাজপথে টিকে রয়েছে।  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সেই সাথে মানুষের অধিকার আদায় করতে গিয়ে যুবদল নেতা শাওনদের জীবন দিতে হচ্ছে। পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়েও তারা বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের পাখির মত গুলি করে হত্যা করছে। তাদের এই হত্যার জবাব একদিন দিতে হবে।’ এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন