# বিলম্বিত হওয়ায় ছাত্রলীগ নেতারা যুবলীগে বিমুখ
নারায়ণগঞ্জে যুবলীগে পরিবর্তন নেই অনেকদিন হলো। যুবক বয়সে যুবলীগের ঠাঁই পাওয়া ব্যক্তিরা যৌবন পেরিয়ে আওয়ামীলীগের মূল কমিটিতে জায়গা পেয়েছে। সেই কমিটিরও মেয়াদ শেষ। তবে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব আর বিকশিত হয়নি।
সূত্র জানিয়েছে, ২০০৫ সালে আব্দুল কাদেরকে সভাপতি ও আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন করে যুবলীগ কমিটি গঠন হতে দেখা যায়নি।
অপরদিকে পূর্বের কমিটিতে থাকা সভাপতি আব্দুল কাদির ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল ২০১৭ সালে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে চলে যান। এমনই অবস্থায় অনেকটাই অভিভাবকহীনতায় চলমান রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের।
এ দিকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কমিটি না পাওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে ছুটেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগে। ২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদম রসূল পৌরসভা মিলিয়ে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। তবে এখনো মহানগর যুবলীগের কোন কমিটিই গঠিত হয়নি।
পূর্বের শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজন ও সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজাই এখনো নেতৃত্বে রয়েছেন। ফলে শহর যুবলীগের বাইরে ২০১১ সালে গঠন হওয়া মহানগর এলাকায় মহানগর যুবলীগের নেতৃত্ব বিকশিত হয়নি। যার ফলে ছাত্রলীগে গণ্ডি পেরোনো ব্যক্তিরাও আসতে চাইছেনা যুবলীগে।
অনেকে কমিটির এই বিলম্বতায় ছাত্রলীগের থাকাকেই শ্রেয় মনে করছেন। এছাড়া দীর্ঘদিন কমিটি না দেওয়া জেলা ও মহানগর যুবলীগে ভূঁইভোড় পদবিহীন যুবলীগ নেতার সংখ্যাও কম নয়। যুবলীগ নেতা পরিচয়ে কোন কুকর্মের সাথে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও যুবলীগ কোন ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই।
অথচ নারায়ণগঞ্জ শহরে দলীয় সমাবেশে সবচেয়ে বেশী লোক জড়ো করতো যুবলীগ। এমনকি তখনকার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতেও বাস ভরে যুবলীগের নেতাকর্মীরা যোগ দিতো। এখন দীর্ঘদিন যাবৎ যুবলীগের এই কমিটিকে মাঠে আর চাঙ্গাভাব আর দেখা যায় না।
রাজনীতি সচেতন মহলের মতে, ওই সময়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন ছিলো শহর যুবলীগ। এদিকে দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় ক্ষোভ জন্মেছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে। সবার মতে নতুন কমিটি না হওয়ায় অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আবদুল কাদির যুগের চিন্তাকে জানান, ‘আমাদের নির্দেশ এসেছে কিছুদিনের মধ্যে আমাদের একটি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় আমরা প্রত্যেক থানার প্রেসিডেন্ট সভাপতি ও সেক্রেটারি এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রত্যেক থানা থেকে তারা আসবে। কেন্দ্রীয় নেতারা আসবে। তারা এসে আলোচনার ভিত্তিতে কবে এই কমিটির সম্মেলন এটা জানানো হবে। এই কমিটি নতুনদের দিয়ে সাজানো হবে।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল জানান, ‘আমি শুনেছি নতুন কমিটি হতে পারে জেলা ও মহানগর যুবলীগে। আরও শুনেছি এই মাসের মধ্যে আমাদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। আর কমিটি কবে হবে এটা আমি বলতে পারতেছি না ।
এটা নির্বাচনের আগেও হতে পারে আবার পরেও হতে পারে। এটা বর্ধিত সভার দিন জানা যাবে। আর নতুন কোনো লোক দিয়ে কমিটি সাজানো হবে কিনা এটা আমি এখন বলতে পারছি না। এটা কেন্দ্রীয় বিষয় তারা যা ভালো মনে করে দলকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায়। এই সব চিন্তা ভাবনা করে তারা কমিটি সাজাবে।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত সানি জানান, ‘যুবলীগের কমিটি কবে হবে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা ভালো জানেন।’ মহানগর ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ যুগের চিন্তাকে জানান, আমি ছাত্রলীগ করি। আমি এই বিষয়ে জানি না। আমাদের কমিটি কিছুদিন আগে বিলুপ্ত হয়েছে। কিন্তু এখনও আমি ছাত্রলীগে সক্রিয় রয়েছি। আমি ছাত্রলীগই করবো। এন.এইচ/জেসি


