# আন্দোলন সংগ্রাম করুক, অন্য ব্যাপারে আসলে তখন তার সাথে বুঝা পরামর্শ করব: মুকুল
বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠবার্ষীকিতে পুলিশের সংঘর্ষের পর আগামীকাল নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে আবারও জেলা বিএনপি মাঠে নামতে যাচ্ছে। এই বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিশেষ অতিথি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদের।
আব্দুস সালাম আজাদের এই বিক্ষোভ সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা রকম গুঞ্জন উত্তেজনা। কারণ গত ১৮ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির সদ্য পদত্যাগ করা নেতা আতাউর রহমান মুকুল মহানগর কমিটি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদের উপর এবং তাকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনকে আহবায়ক এবং এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে কমিটির অনুমোদন দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সেই আহবায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বিতর্কিত নেতা আতাউর রহমান মুকুল। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের বাসভবনে গিয়ে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নবগঠিত কমিটি নিয়ে অসন্তুষ্ট বিএনপির একটি বড় অংশ।
সেই সাথে কমিটি নিয়ে নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপর। যার ফলশ্রুতিতে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়ে আতাউর রহমান মুকুল অশালীন বক্তব্য দেন,‘এই সালাম সোলাম কিয়ের নেতা; আমরা দুই আনা দিয়া দাম দেই না সালাম মুন্সিগঞ্জের কিসের নেতা ওরে দায়িত্ব দিছে চুরি কইরা ধান্দাবাজি কইরা খাওয়ার। ওরা পরের নেতা আমরা অনেক আগের নেতা আমরা জণগণের নেতা এসকল নেতাদের দাম দেই না।’
‘তারা মুন্সীগঞ্জের লোক হয়ে এখানে রাজনীতি করে। আমরা জনগণের নেতা আমাদের সমতুল্য না, নেতারা পয়সা দিব, বাছ খাইয়া লাইব হেই নেতা। সালামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম সালাম যদি এই নারায়ণগঞ্জ শহরে ঢুকে ওর চামড়া তুইলা ফেলমু।’ এ বক্তব্যের পর পরই জেলা ও মহানগর বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সঙ্গে সঙ্গে ফুঁসে উঠেন।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন গন্যমাধ্যমে বিএনপির নেতারা এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাতে থাকেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি এই বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘তৈমূর সাহেবতো বহিস্কৃত নেতা। মুকুল সেখানে কেনো গেলো; আবদুস সালাম সাহেবকে দল একটি সম্মানজনক স্থান দিয়েছে। আমাদের সকলের উচিত সে সম্মান রক্ষা করে চলা।
মুকুল কেনো এ ধরনের অশালীন বক্তব্য দিলেন তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এ ধরনের বক্তব্যের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেইসাথে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে সালাম সাহেবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাই।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের অশালীন বক্তব্য কখনো সমর্থনযোগ্য নয়। এতে করে তিনি দলকে ছোট করলেন। সালাম সাহেবতো আমাদের দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন, দলের চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তাদেরকেও ছোট করা হয়েছে। কাউকে ব্যক্তিভাবে আক্রমণ করে বক্তব্য দেয়াকে আমি কখনো সমর্থন করিনা এবং আমি নিজেও কখনো তা কখনো করিনা।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাসুকুল ইসলাম রাজিব বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আবদুস সালাম ভাইয়ের চামড়া তুলে নিবে এবং নারায়ণগঞ্জে উনাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা যারা করেছে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, শুধু তোমরা না সাথে তোমরা যাদের এজেন্ট, তাদেরকেও সাথে নিয়ে নিও। তারপরেও যদি উনার একটি পশম স্পর্শ করতে পারো, তাহলে নারায়নগঞ্জে জাতীয়তাবাদী সৈনিকেরা হাতে চুরি পরে এই নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যাবে।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি জানাই এবং বলতে চাই, ‘বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম সম্পর্কে এ ধরনের বক্তব্য দেয়া মানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া। আর আমরা তারেক রহমানের সম্মানহানীকর বক্তব্য কোনোদিনও মেনে নেবোনা।
আতাউর রহমান মুকুলতো আওয়ামী লীগের দালাল। গত সংসদ নির্বাচনে সে আওয়ামী লীগের এজন্ট হিসেবে কাজ করেছে এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের মেরে কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এ ধরনের অনেক প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে মুকুলের এ ধরনের রুচিহীন বক্তব্যে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে তার এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানান।’
আগামীকালের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদকে অবাঞ্চিত ঘোষণার বিষয়ে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল যুগের চিন্তাকে জানান, ‘দলের আন্দোলন সংগ্রামের ব্যাপারে কোন কথা নাই; আন্দোলন সংগ্রাম করলে করুক, অন্য ব্যাপারে দলীয় কোন কার্যক্রমের ব্যাপারে আসবে তখন তার সাথে বুঝা পরামর্শ করব।
দলীয় প্রধান ও কেন্দ্রের কাছে বিচার দিব আমরা; অন্যায় ভাবে একটা কমিটি দিয়েছে কাউকে জিজ্ঞাসা না কইরা সিনিয়র কাউকে রাখে নাই; অল্প বয়সের ছেলেদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ এন.এইচ/জেসি


