Logo
Logo
×

রাজনীতি

হাই-বাদলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন জিকে শামীম

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৪২ পিএম

হাই-বাদলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন জিকে শামীম
Swapno



# তাদের আমলানামা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা


# সোনারগাঁ আ.লীগ কমিটি নিয়ে লাঞ্ছিত হন হাই

 



নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির সম্মেলন নিয়ে শহর তথা পুরো জেলায় আলোচনা চলছে। আগামী মাসেই জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আর এতে করে নতুন কমিটিতে কারা আসবে তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। সেই সাথে পুরাতনরা কমিটিতে আগের পদে থাকবে কি না তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তবে সব কিছু মিলিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হোক এটাই নেতা কর্মীদের সবচেয়ে আকাঙ্খা। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের কর্মকান্ড সহ তাদের আমল নামা প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে জমা আছে বলে জানান দলীয় নেতারা।

 

 

 

 

 

 

 

 

একই সাথে তাদের নিয়ে দলীয় নেতাদের মাঝে অভিযোগের শেষ নেই। দলীয় একটি সূত্র জানান, তাদের কর্মকান্ড কেন্দ্রীয় নেতার সামনে আগামী ১ তারিখ বর্ধিত সভায় তুলে  ধরা হতে পারে। জানা যায়, কথিত যুবলীগ নেতা পরিচয়দানকারী ও সোনারগাঁয়ের কৃতি সন্তান বিতর্কিত ঠিকাদার এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম ও তার ৭ দেহরক্ষীকে অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম এই রায় দেন। এর আগে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হলে ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতনে শামীমের বাড়ি ও অফিসে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে আটটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি সহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানিলন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা করা হয়। এত অভিযোগ থাকার পরেও কিন্তু এই বিতর্কিত জিকে শামীমের সাথে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি ভিপি বাদলের সাথে। ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সহ সভাপতি খাজা রহমতুল্লাহ মারা যাওয়ার পর তার শূন্য পদে আজকের যাবজ্জীবন দন্ডিত আসামী জিকে শামীমের নাম প্রস্তাব করেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও ভিপি বাদল।

 

 

 

 

 

 

 

তখন তাদের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বর্তমান সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এড. সামসুল ইসলাম ভূইয়া আপত্তি জানান। সেই সাথে তখন তিনি ওই বর্ধিত সভায় বলেছেন, জিকে শামীম এক সময় বিএনপির রাজনীতি করত। সে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের পি এস ছিলেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

তার বাড়ি সোনারগাঁও হওয়ায় তাকে আমরা চিনতাম। তাই তাকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এই নেতা। তার সাথে অন্যান্য নেতারাও আপত্তি জানান। এদিকে জিকে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সেক্রেটারি বাদলের সাথে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

 

 

 

 

 

 

 

যদিও তখন তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে ছবি সহ গণমাধ্যমে তা প্রকাশিত হয় ২০২০ সনে। তাই জিকে শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে প্রমানিত হওয়ায় তার সাজার রায়ে এবং ক্ষমতাসীন দলে এই দুই নেতার সাথে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এখন আবার আলোচনায় উঠে এসেছে। সেই সাথে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন টাকার জন্য একটা দূর্নীতিবাজ, অস্ত্র মামলার আসামীর সাথে ঘনিষ্ঠতা রাখতে হবে।

 

 

 

 

 

 

 

তাও আবার তাকে ক্ষমতাসীন দলের নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পদে রাখার প্রস্তাব দেন আবদুল হাই। দলীয় সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা হলো সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের সাথে ঘনিষ্ঠতা।

 

 

 

 

 

 

 

 

আর এই দুই ঘটনাতেই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও  সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন। ২০১৯ সনে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জেলা সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারি ভিপি বাদল।

 

 

 

 

 

 

 

 

অভিযোগ রয়েছে তারা তখন নিজেদের এ্ক সিদ্বান্তে ওই কমিটির দেয়ার কারনে তাদেরকে দৌর পালিয়ে আসতে হয়। পরবর্তিতে ওই কমিটি বাতিল করে ২০২০ সনে আবারও আহবায়ক কমিটি হয় সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের। সর্বশেষ ২০২২ সনের ৩ সেপ্টেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়। সেখানেও আব্দুল হাইকে লাঞ্চিত হতে দেখা যায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তাকে ভূয়া বলে স্লোগান দেন নেতা কর্মীরা। এই ঘটনার আড়াল হতে না হতেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম নেয় রাজধানী ঢাকার নিকেতন থেকে গ্রেফতারকৃত যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের সাথে আব্দুল হাই ও আবু হাসনাত শহীদ বাদলের ঘনিষ্ঠতা। আর এই সম্পর্কের বিষয়টিকে তারা অস্বীকার করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঠিকই তাদের ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 


২০১৯ সনের গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতন থেকে নগদ টাকা ও ৭ দেহরক্ষী সহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয় দানকারী জি কে শামীম গ্রেফতার হন। কিন্তু জিকে শামীমের গ্রেফতারের পর যুবলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু দাবী করছেন জি কে শামীম যুবলীগের কেউ নয়, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি।

 

 

 

 

 

 

 

 

তবে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি না হলেও ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় কমিটিতে রাখার জন্য এই জি কে শামীমের নামই প্রস্তাব করা হয়েছিল। আর এই নাম প্রস্তাব করেছিলেন আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল।

 

 

 

 

 

 

 

 

ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, জিকে শামীমকে আমরা চিনি না। টাকার বিনিময়ে জিকে শামীমকে কমিটিতে ঢুকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নতুন ভবনের টেন্ডারের কাজ পান বিতর্কিত এই জিকে শামীম।

 

 

 

 

 

 

 

 

পরে সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। যা এখনো বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সোনারগাঁ উপজেলা ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে নৌকার প্রার্থীন মনোনয়ন আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তখন সোনারগাঁ উপজেলা আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও ৩ আসনের সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে একক ভাবে কেন্দ্রে নাম পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। যা তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যপক আকারে প্রকাশিত হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রাজনৈতিক বোদ্ধ মহলের মতে আগামী সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীরীগেস ক্লিন ইমেঝের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আসা দরকার। কেননা এখানে বিতর্ক ব্যক্তিদের কারনে ইতোমধ্যে দল অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারবে। এবিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সাথে  যোগাযোগ করা হলে ফোন কল রিসিভ করে তার ছেলে জানান তিনি ঘুমাচ্ছেন। পরে ফোন দিতে বলেন।   এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন