# আজ বর্ধিত সভায় সম্মেলন নিয়ে আলোচনা
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগে এখন যুবক নেই, আছে বয়স্করা। জেলা আওয়ামী লীগে যারা আছেন তারাই আবার ঘুরে ফিরে যুবলীগ রয়েছেন। আর এতে করে বয়স্করাই জেলা যুবলীগ পদে থাকায় যুবলীগের কার্যক্রম ব্যহত হয়ে পড়ছে। তাই রাজনৈতিক বোদ্ধামহলের মতে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগে এখন যুবক নেই।
জেলা যুবলীগের শীর্ষ নেতারা এখন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের ডাকে আজ বিকলে ৩ টায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জেলা যুবলীগের বর্ধিতসভা রয়েছে। জানা যায়, এই বর্ধিত সভায় যুবলীগের কমিটি নিয়ে আলোচনা হবে। যুবলীগে কারা আসতে চায় তাদের নিয়ে সকল বিষয় এই বর্ধিত সভায় উঠে আসবে বলে জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ।
এদিকে যুবলীগের বর্ধিত সভা নিয়ে জেলা যুবলীগের পদ প্রত্যাশীদের মাঝে ব্যপক আলোচনা হচ্ছে। সেই সাথে তাদের থেকে কমিটি দেয়ার দাবী উঠেছে। রাজনৈতিক বিষশ্লেকরা মনে করেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সূতিকাগার। অথচ এখানে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠন দল দীর্ঘ দিন যুবলীগের কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। আর এতে করে দল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এমনকি কমিটি না থাকায় দল শক্তিশালী হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা যুবলীগের নেতারা মূল দলে চলে যাওয়ার পর থেকে জেলা যুবলীগের শীর্ষ নেতারা এখন আর যুবলীগের রাজনীতি নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামাচ্ছে না। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের আগ মূহুর্ত্ব পর্যন্ত জেলা যুবলীগকে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে দেখা গেলেও, জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন পর থেকে জেলা যুবলীগের কর্মকান্ড স্থবির রয়েছে।
যুবলীগের শীর্ষ নেতারা মূল দলের শীর্ষ পদে থাকলেও যুবলীগের পদও ছাড়ছেন না। যে কারণে যুবলীগের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। এছাড়া জেলা যুবলীগ নতুন করে গঠনের কোন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় যোগ্য নেতা থাকা সত্ত্বেও জেলা যুবলীগের হাল ধরতে পারছে না নতুনরা।
এর ফলে জেলা যুবলীগ নিস্ক্রয় রয়েছে এ জেলায়। যুবলীগকে নতুন করে সক্রিয় করতে হলে পুরনোদের বাদ দিয়ে তরুণ প্রজন্মের হাতে নেতৃত্বে তুলে দেয়া এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে, বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল।
বিএনপি জোট সরকারের আমলে বেশ ঐক্যবদ্ধ ছিল নারায়ণগঞ্জ যুবলীগের নেতাকর্মীরা। আন্দোলন সংগ্রামেও রেখেছেন বেশ ভূমিকা। আর বর্তমান নারায়ণগঞ্জের জেলা ও মহানগর মূল দলের অনেক গুরুত্বপর্ণ পদেও রয়েছেন সাবেক যুবলীগের নেতারা। তবে, সেই ঐতিহ্যের নারায়ণগঞ্জের যুবলীগ বর্তমানে অভিভাবকহীন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতির পদ আঁকড়ে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল কাদির। যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও। এক সময় সাংসদ শামীম ওসমানের বলয়ে থেকে তিনি রাজনীতি করলেও এখন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভীর বলয়ে রাজনীতি করছেন। তিনি মেয়র আইভীর ভগ্নিপতি।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক পদে রয়েছেন। তিনি সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই সর্ব মহলে পরিচিত। যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকিরুল আলম হেলাল নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছে।
যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত আছেন। জেলা যুবলীগের এসব শীর্ষ নেতারা মূলদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে যাওয়ার পরও জেলা যুবলীগের পদ ছাড়েননি এবং জেলা যুবলীগকে নতুন করে পূর্ণগঠনের ক্ষেত্রেও কোন তৎপর দেখাচ্ছেন না।
এ নিয়ে যুবলীগের তৃনমূলে চরম ক্ষোভ রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে যারা যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, তারা জেলা যুবলীগের কমিটি পূর্ণগঠন না হওয়ায় কোন পদে আসতে পারছেন না। এ নিয়ে যুবলীগের তৃণমূলে হতাশা এবং ক্ষোভ দুটেই রয়েছে।
অচিরেই জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হবে জেলা আওয়ামী লীগ কিংবা যুবলীগের পক্ষ থেকে একাধিক বার বলা হলেও জেলা যুবলীগ গঠন নিয়ে এসব নেতাদের কোন তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। তবে জেলা যুবলীগের কোন কর্মকান্ড না থাকায় থানা কমিটিগুলোও স্থবির হয়ে আছে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ যুবলীগে পদে আসার জন্য একঝাঁক নেতা মাঠে নেমেছে। তাদের মাঝে রয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, সাফায়াত আলম সানি, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদসহ একঝাঁক তরুণ নেতা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদেরকে সভাপতি আর আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০০৫ সালে জেলা আওয়ামী যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর চলে গেছে দীর্ঘ ১৪টি বছর। এর মধ্যে সেই কমিটির (জেলা যুবলীগ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম ২০১৬ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
আর ২০১৭ সালে ওই কমিটিরই সভাপতি আব্দুল কাদির হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল হয়ে যান জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। এরপর প্রায় ৫ বছর চলে যাচ্ছে। কার্যকরহীন জেলা যুবলীগ; নেই কর্মকাণ্ড। ৫ বছরেও নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়নি বা কেউও করতে পারেনি।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির বলেন, আজ যুবলীগের বর্ধিত সভা হবে। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবে। এই বর্ধিত সভায় কমিটি নিয়ে আলোচনা হবে। কেন্দ্রীয় নেতারা যে ভাবে নিদের্শনা দিবে আমরা সে ভাবেই কাজ করবো।
কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটি গঠনের পর আমি অব্যাহতি চেয়ে ছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমিটি হওয়ার পূর্বে মুহুর্ত্ব পর্যন্ত আমাকে দায়িত্বে বহাল থাকার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে আব্দুল কাদিরকে সভাপতি ও আবু হাসনাত শহীদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল জেলা যুবলীগের। এছাড়া জাকিরুল আলম হেলালকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, আসিফ হোসেন মানুকে সহ-সভাপতি ও শাহ নিজামকে করা হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এন.এইচ/জেসি


