# সবকিছু জানার এখতিয়ার আমার নেই: রবি
# দলে কমিটি বাণিজ্য বলতে কিছু নেই: রুহুল আমিন সিকদার
বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না নারায়ণগঞ্জ বিএনপির। কমিটি বাণিজ্য ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করার বদলে দলের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ত্যাগী নেতাদের একটি বড় অংশ। তাদের নাটের গুরু হিসেবে আড়াল থেকে নজরুল ইসলাম আজাদ কলকাঠি নাড়ছেন বলে মনে করেন তারা।
তারই ছায়াতলে থেকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সবকিছুর কলকাঠি নাড়ছেন বলে একাধিক অভিযোগ আছে। এমনিতেই জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে ঘনঘন নেতা পরিবর্তন এবং সেই সুযোগে কমিটির অনেকেই কমিটি বাণিজ্যসহ আর্থিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে।
এর আগের কমিটিতে যখন কাজী মুুনিরুজ্জামান মনিরকে সভাপতি এবং অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়, তখনও সেই কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এমন দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে কোন ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়নি বলে ব্যর্থতার অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে।
সেখানে সব অভিযোগের তির কাজী মনিরের উপর পড়লেও ফাঁক গলে বের হয়ে যান মামুন মাহমুদ। আউট হয়ে যান কাজী মনির। এরপর আসে এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে আহবায়ক ও মামুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে আহবায়ক কমিটির ঘোষণা। সেখানেও ব্যর্থতার দায় সবই তৈমুরের উপর পড়লেও ক্লীন হিসেবে থাকেন মামুন মাহমুদ।
তারচেয়ে মজার বিষয় তৈমুরের পর যখন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি গ্রেফতার হন ফাঁক দিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোন নাসিরউদ্দিন। আর ঠিক তখনি তরিগরি করে বেশ কয়েকটি ইউনিট কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। যেখানে প্রচুর আর্থিক লেনদেন হয় বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় আসে।
টানা ১৬ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি বর্তমানে যে দুঃসময় পার করছে, যে সময় শক্ত আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য বিএনপির মধ্যে ঐক্যের বড় প্রয়োজন। যখন আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মামলায় নাজেহাল হচ্ছেন। সেই দুঃসময়েও বিএনপির কয়েকজন নেতা কমিটি বাণিজ্যের মাধ্যমে তাদের পকেটভারী করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ২০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অধীনে থাকা ৫টি থানা ও ৫টি পৌরসভায় বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। যেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আড়াইহাজারে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়কসহ ৯ নেতা পদত্যাগও করেন। সব মিলিয়ে এ ধরণের অপরাধ যদি ঠেকানো না যায় তাহলে জেলা বিএনপি কমিটিতে মহানগর বিএনপির কমিটির চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক যোদ্ধারা।
এসব বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য রুহুল আমিন সিকদার বলেন, দলে কমিটি বাণিজ্য বলতে কিছু নেই, অনেকে পদ না পেয়ে বলে কমিটি বাণিজ্যের কথা। আবার যে সময় তারা পদ পায় তখন কিন্তু কমিটি বাণিজ্যের কথা বলে না। তাই কমিটি বাণিজ্য হয় বিষয়ে আমি একমত না।
আমাদের যে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে তাদের দায়িত্ব হলো থানা বা ইউনিট কমিটিগুলো করা। আমি যতটুকু জানি আমাদের ফতুল্লায় কমিটি গঠনের কোন কাজেতো হাতই দেয়া যায়নি। এখানে আহবায়ক ও সদস্য সচিবের সাথে সমন্বয় ছিল না। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি।
যতটুকু জানতে পারছি যে, রূপগঞ্জে একটি কমিটি জমা হয়েছে। সেখানেও কিন্তু কাঞ্চন ও তারাবো পৌরসভার কমিটি হয়নি। তাই দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তির কথা হলো কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি হবে। ১০টি ইউনিটের ৪টির কমিটি গঠনের কোন কাজেই হাত দেওয়া হয়নি। সেখানে জেলার পূর্ণাঙ্গ নতুন কমিটি আসবে সেটা আমার কাছে কেমন যেন মনে হয়। আমি দ্বিমত পোষণ করি।
তাই দ্রুত কোন কমিটি আসবে বলে আমি মনে করি না। রূপগঞ্জের কমিটি সম্মেলন ছাড়াই জমা হয়েছে এবং অনুমোদনও হয়েছে। কিন্তু চারটি এলাকায় তো চেষ্টাই করা হয়নি। তিনি এ সময় বলেন দলের আহবায়ক এবং সদস্য সচিব দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তি দেয়, বাকিগুলোতে অর্থনৈতিক লেনদেন হতে পারে। কিন্তু এই দুই পদে লেনদেন হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সদস্য সচিব জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না, নতুন করে আবার জেলা আহবায়ক কমিটি আসতে পারে। তবে যে কমিটিই হোক সেখানে যদি মাঠ পর্যায়ের যারা সবাইকে নিয়ে সমন্বয় করে যদি কমিটি গঠন করা হয় তাহলে মহানগর বিএনপির মতো বিভক্তি দেখা দিবে বলে মনে হয় না।’
তবে এখন যে রকম মাইনাসের রাজনীতি দেখা যায়, তাতে যারা দলের জন্য বেশি কাজ করে তাদেরকেই মাইনাস করা হয় বেশি। সেরকম কিছু হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে এখন যেসব কমিটিগুলো গঠন করা হচ্ছে তা আন্দোলন মুখী কমিটি করা হচ্ছে। কাজ করতে গেলে সবারই ভুলত্রুটি হতে পারে।
তিনি বলেন এখনতো ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক দিয়ে চলছে। পুনরায় নতুন কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমার মনে হয় সব থানা উপজেলা কমিটিগুলো থেকে নিয়ে যদি এই কমিটি গঠন করা হয়, নিজের ভাই বা নিজের লোকের কথা না ভেবে যদি কমিটি করা হয় তাহলে আশা করি জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, দলে আমি মূলত সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক।এখানে আহবায়কের পদটি খালি হওয়াতে এখন আমি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে আছি।
যখন সময় হবে আমাকে আবার পূর্বের জায়গায় চলে যেতে হবে। দরকার পড়লে আবারও ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ দিবে। আমার বাড়ি-গাড়ি নাই, উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সাথে দহরম সম্পর্ক নাই। সেই হিসেবে আমার কি যোগ্যতা আছে। এখানে যেহেতু আহবায়কের পদটি শূন্য আছে তাই নতুন আহবায়ক নিয়োগ হতে পারে, তবে নতুন করে আহবায়ক কমিটি গঠন করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
আমার জানার এখতিয়ারও নেই। বিগত কমিটিতে আমি সহসভাপতি ছিলাম। তখন দেখেছি ২৬ জনের একটি কমিটি দেওয়া হয়েছে, তখন কোন থানা বা ইউনিয়ন কমিটিও ছিল না। তখন কাজী মুনিরুজ্জামান মনিরকে সভাপতি এবং মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। এন.এইচ/জেসি


