# নির্ধারণ হতে পারে সম্মেলনের তারিখ
# সংকেত পেতে চেষ্টা থাকবে আগ্রহীদের
আজ জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা। থাকবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম। এই অক্টোবর মাসে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির সম্ভাব্য সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই এই বর্ধিত সভার আয়োজন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্রপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক সময় কাটানোর সুবাধে এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা আছে মির্জা আজমের। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন তিনি।
সেই কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। এই নানক-আজম জুটির সুদক্ষ কৌশলেই নাসিক নির্বাচনের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে মেয়র পদে ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে জয়ী করতে সহায়তা করে। তাই সেই ষড়যন্ত্রে কারা কারা জড়িত ছিল তা তাদের নখ-দর্পণে।
তাই সামনের সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রধান দুই কমিটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে কারা আসবে, কোন পদে কারা কারা আসতে ইচ্ছুক, সেখানে যোগ্য হিসেবে কাদের বসানো যায়, সে বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন। তাই আজকের এই বর্ধিত সভায় সম্মেলনের অনেক কিছুরই হিসেব মিলতে পারে বলে জানা গেছে।
একটানা প্রায় চৌদ্দ বছর যাবত ক্ষমতায় আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেই হিসেবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ যে রকম শক্তিশালী হওয়ার কথা সাংগঠনিকভাবে ততটা শক্তিশালী হতে পারেনি। বরং বিভেদ ও সমন্বয়হীনতার কারণে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে কমিটিগুলো।
এছাড়াও এর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলোতে দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় এবং মূল কমিটিগুলোতে জবাবদিহিতার অভাব থাকায় অনেকটা স্বৈরাচারিতারও অভিযোগ চলে আসে দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দের নামে। এরই মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকদের মধ্যেও সমন্বয় হীনতার একাধিক তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়।
এতে করে দলীয় প্রধান কিংবা দলের প্রতিষ্ঠাতার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিতে দেখা যায় বেশি ক্ষমতা দেখানো নেতৃবৃন্দের নামে। এতে করে দলের ত্যাগী ও তৃণমূলের মধ্যে দেখা দেয় ক্ষোভ। যেহেতু এই মাসের মধ্যেই সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাই দলের সর্বোস্তরের নেতাকর্মীদের দাবি, যাদের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যসহ স্থানীয় নির্বাচনে অনেক অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সম্মেলনের হাওয়া বওয়ার সাথে সাথেই যারা জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে আসতে চায়, তারা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয়ে নেতাসহ নিজেদের সাধ্যমতো দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা দেওয়াসহ তাদের ইচ্ছের বিষয়টি প্রকাশ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও বসে নেই।
তারা বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য নেতৃত্বের সন্ধান করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের জন্য যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, সহসভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া।
অন্যদিকে বর্তমান সভাপতি আবদুল হাই আবারও এই পদের জন্য চেষ্টা করবেন বলে জানা গেছে। তবে তার বর্তমান আমলনামা খুব একটা সুখকর নয়, তাই এবার আবদুল হাইয়ের বাদ পড়ার সম্ভাবনা আছে বলে অনেকেরই ধারণা। তাছাড়া দলের একটি অংশ চাইছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরশনের বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে সভাপতি হিসেবে দেখতে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় আছেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের নাম। তবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল (ভিপি বাদল)ও চেষ্টা করছেন পুনরায় পদটি ধরে রাখতে।
এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে যারা আলোচনায় আছেন তারা হলেন কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, বর্তমান সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দন শীলের নাম। অন্যদিকে কমিটির বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেনও পদটি ধরে রাখার চেষ্টা করবেন বলে জানা গেছে।
মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, যুগ্ম সম্পাদক এসএম আহসান হাবিব, জিএম আরমান ও আলী রেজা উজ্জলের নাম। মোদ্দাকথা, এবারের কমিটিগুলোতে সকল বলয়ের সমন্বয়ে শক্তিশালী কমিটির আশা ব্যক্ত করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল।
তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীদের বিষয়ে সকল তথ্য সংরক্ষণ করা আছে বলে দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে। এই বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক এমএ রাসেল জানান, আমাদের বর্ধিত সভা শুরুর জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।
জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সকলকেই উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের সহযোগী সংগঠনের যেই কমিটি আছে সেগুলোর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। তবে এখানে দলের বাইরে থেকে আলাদা কোন অতিথিকে দাওয়াত করা হয়নি। তিনি আরও জানান যেহেতু এই মাসেই (২২ অক্টোবর) সম্মেলন হওয়ার কথা, তাই সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই মূলত এই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এন.এইচ/জেসি


