Logo
Logo
×

রাজনীতি

চাওয়া-পাওয়ার বেদনা এতো বেশি যে নিজের অস্তিত্ব ভুলে যাই: মেয়র আইভী

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২২, ০২:১২ পিএম

চাওয়া-পাওয়ার বেদনা এতো বেশি যে নিজের অস্তিত্ব ভুলে যাই: মেয়র আইভী
Swapno


# আমাদের কোন পক্ষপাতিত্ব করার দরকার নাই



নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আজমের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে আমাদের স্থানীয় নেতাদের অনেক কথা বলার আছে। নেতাদের হয়ত ব্যস্তাতার কারনে অথবা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য কিংবা তার সময় নেই এজন্য তিনি আমাদের কথা শুনলেন না।

 

 

 

 

 

 

 

 

তবে নেতা জানে আমার কি বলতে চাই। কেননা তারা সারা বাংলাদেশ ঘুরে নেতারা কি বলতে চায় তারা বুঝতে পারে। আমরা যখন সরেয়া “আ” বলি তখন তারা অনেক কিছু বুঝে যান। কিন্তু নেতৃবৃন্দ নেতা কর্মীদের একটুতো কষ্ট থাকেই, কর্মীরা আপনাদের সামনে তাদের দূঃখ কষ্ট বলতে পারলে তারা হাল্কা হয়। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।’

 

 

 

 

 

 

 

 

 


নাসিক মেয়র আইভী বলেন, ‘আপনারা আমরা সকলে জানি প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি তৃমূল আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী মনে করেন। আমরা যারা নেতা হতে চাই তাদের মাঝে অনেক সমস্যা থাকে। কিন্তু তৃণমূলের আওয়ামী লীগের মাঝে কোন সমস্যা নেই। অমুক ভাই তমুক ভাই যাই বলুক না কেন সব শেষে আমাদের ভরসার স্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

 

 

 

 

 

 

 

কিন্তু তার পরেও কথা থেকে যায়। অনেকে রূপগঞ্জ, আড়াই হাজার, ফতুল্লা থেকে এসেছে। অনেকেরই দুঃখ কষ্ট আছে। জেলা আওয়ামী লীগের কয়টি বর্ধিত সভা হওয়ার কথা ছিল আর কয়টি হয়েছে, কি করনীয় ছিল কি করেছে তা আমরা অনেকেই জানি। আমি আর সেগুলো মিডিয়ার সামনে বলতে চাই। নেতৃবৃন্দ সবই জানেন। তার পরেও বলব আমাদের নেতৃত্বে গতিশিল হওয়া প্রয়োজন।’

 

 

 

 

 

 

 

 

 


মেয়র আইভী বলেন, ‘আমাদের একজন কর্মী কি বলবে, সাধারনত তারা আক্ষেপ করবে, বেদনা করবে কিন্তু নেতাদের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের আশ্বস্ত করা। আমরা সকলেই পদ পাবো না। যার নেতৃত্বের গুনাবলি আছে সেই পদে আসতে চায়। কিন্তু ইদানীং তো নেতৃত্বের গুনাবলি না নিয়েও অনেকে পদে আসতে চায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

আমরা যেহেতু মাঠে ঘাটে কাজ করি সেহেতু আমাদের অনেক কথা বলতে হয়। অনেকেরই দুঃখ কষ্ট থাকে। তা বলার জন্য আপনি আমাদেরকে কোন একদিন সময় দিবেন। অবশ্যই আমাদের ঐক্যবদ্ধের রাজনীতির বিকল্প নেই। ২০০১ এর পরে আমরা বিরোধী দল থাকা অবস্থায় নারায়ণগঞ্জে ২০০৪ এ যুবলীগের প্রথম সম্মেলন হয়। তখন ডিআইটি সম্মেলন হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আমি তখন পৌরসভার চেয়ারম্যান হয়েছিলাম। কিন্তু তখন অনেকে বলে ছিলেন নারায়গঞ্জে সম্মেলন করা যাবে না। আমি তখন নানক ভাইকে বলেছিলাম আপনি এবং আজম ভাই আসবেন এবং জাক জমক ভাবে সম্মেলন হবে। তখন আব্দুল কাদির যুবলীগের সভাপতি হন আর সাধারণ সম্পাদক হন ভিপি বাদল। তখন আমরা বিরোধী দলে থেকেও ঐক্যবদ্ধ ভাবে সম্মেলন বাস্তবায়ন করেছি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিরোধী দলে থেকে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি কিন্তু এখন দল ক্ষমতায় থাকার পরেও কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি না। কারন আমাদের চাওয়া পাওয়ার বেদনা এত বেশি হয়ে গেছে, আমরা ভুলে যাই নিজেদের অস্তিত্ব। আমরা পাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যাই। আমার মনে হয় সেই চাওয়া পাওয়া সিমিত রেখে আমরা আমাদের সম্মেলন করি। নেতৃবৃন্দ যাকে জেলার নির্বাচন করবে সেই আমাদের নেতা হবে।’

 

 

 

 

 

 

 

 

 


তিনি  বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে এসে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনেক কিছু জেনেছেন। কোথায় নেতৃত্বের দূর্বলতা তা নিজের চোখে দেখেছেন। মিটিং আসলে আমরা ঐক্যের কথা বলি। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাটি এটা যেমন সত্য তদ্রুপ বিএনপি এখানে ঘাপটি মেরে বসে আছে সেটাও সত্য। কাদের ছত্র ছায়ায় বিএনপি এত বড় স্পর্দা পায় সেটা আমাদের চিন্তা করা উচিৎ।

 

 

 

 

 

 

 

আমরা কাকে কিভাবে ব্যবহার করছি। আমাদের ব্যক্তির প্রয়োজনে দলের কথা ভুলে গিয়ে ব্যক্তিকে জাহির করার জন্য,এমনকি একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য কখন কোথায় কোন দলকে আমরা ব্যবহার করছি তা ভেবে দেখা উচিৎ। গত ইউনিয়ন পরিষদে কারা মনোনয়ন পায় তখন আমরা কোন বর্ধিত সভা পাই না। জেলা আওয়ামী লীগের সভা হয় না।  পরবর্তিতে দেখা যায় মনোনীত ব্যক্তিদের নাম ঘোষনা হয়ে যায় কিন্তু নেতা কর্মীরা জানে না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এটা জেলার নেতৃবৃন্দেরও একটা দায়িত্ব থাকে। সিদ্ধান্ত নিবে কেন্দ্র কাকে মনোনয়ন দিবে। কিন্তু আমাদের সাথে বসলেতো মহা ভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না। যেই ভাবে নেত্রী দলকে চালাতে চাইবে সেই ভাবেই আমরা মেনে নিবো। কিন্তু মানুষের কথাতো শুনতে হবে। এখানে নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী দাড় করিয়া জাতীয় পার্টিকে পাশ করানো হয়। এটা কেন আমরা বার বার সহ্য করবো। সহ্যের ও তো একটা সিমা থাকতে হবে। ‘

 

 

 

 

 

 

 


সম্মেলন প্রসেঙ্গ তিনি বলেন, ‘সব সময় সম্মেলন আসলে আমরা ঐক্যের কথা বলবো তার পর ভুলে যাবো। যখনি নির্বাচন আসে তখনি আওয়ামী লীগ নিয়ে ব্যপক ভাবে ষড়যন্ত্র হয়। আমরা আবার নেত্রীর কথা চিন্তা করে সব ভুলে যাই। এটাই হওয়া উচিৎ। যেহেতু আমরা দল করি। অবশ্যই আমরা ৫টি আসনে নৌকা চাই। কিভাবে ৫টি আসনে নৌকা জিতবে সে ভাবে কাজ করতে হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

নেত্রীর সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য চুরান্ত সিদ্ধান্ত। দল গত ভাবে আমাদের মাঝে মত পার্থক্য থাকতেই পারে। নেত্রীর উপর আমাদের কেউ নাই। নারায়ণগঞ্জে যেখানে সম্মেলন নির্ধারণ করা হবে সেখানেই হবে। এখানে ভয়ের কিছু নেই। সেটা রেললাইনের এইপার হোক বা সেই পারহোক। আমরা আওয়ামী লীগের দল করি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আমরা কাউকে জমা খরচ দিয়ে রাজনীতি করি না। শেখ রাসেল পার্কে হোক আর ওসমানি স্টোডিয়ামে হোক কোন ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আমরা শেখ হাসিনার রাজনীতি করি। আমরা প্রত্যেকে যখন এক একজনে থানার ভাগ তাহলে ভয় কিসের। নেতৃবৃন্দকে আমি একটা কথা বলতে চাই সম্মেলন সিকিউর্ড জায়াগা হতে হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সেটা কোথায় হবে সকলে বসে নির্ধারণ করেন। আমাদের কোন পক্ষপাতিত্ব করার দরকার নাই। এক দল বলবে শেখ রাসেল পার্কে হবে আরেক দল বলবে ওসমানি স্টেডিয়ামে হবে। সব শেষে আমরা শেখ হাসিনার কর্মী এই কথা মাথায় রেখে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।’    এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন