Logo
Logo
×

রাজনীতি

গলাগলি করে প্রতিযোগিতা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৩২ পিএম

গলাগলি করে প্রতিযোগিতা
Swapno


# কোন বলয়েই একচেটিয়া নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবেনা
 

দীর্ঘদিনের অভিযোগ, রাগ ক্ষোভ উগড়ে না দিয়ে সম্মেলনের আগে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

 

বিশেষ করে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ দিতে দিতে ক্লান্ত দুই কমিটির নেতারা। দীর্ঘদিন পরে হলেও দুই কমিটিরই সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

 

 

 

 

দুই কমিটির বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগের এবং ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দুই সম্মেলনকে সফল করতে দুই কমিটিই মাঠে নেমে পড়েছেন।

 

 

 

 

এতোদিনের তিক্ত সম্পর্কও কোমল করে সম্মেলন বাস্তবায়ন করতে চলেছেন নেতৃবৃন্দ। তবে পর্দার আড়ালে সম্মেলন সফল করার পাশাপাশি তুমুল নেতৃত্বে প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে। যে যার অবস্থান থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে শীর্ষ দুই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সমর্থন আদায়ের চেষ্টা শুরু করেছেন। চলছে কেন্দ্রে লবিং।

 

 

 

 

তবে ইতিমধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রে তাদের অবস্থান আগেই পরিষ্কার করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামীলীগের নিজস্ব অনুসন্ধান টিমও আগ্রহী নেতাদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।

 

 

 

 

তবে চূড়ান্ত ফল কার কার পক্ষে আসবে এনিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে আসার ব্যাপারটি সম্মেলনের আগে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবেননা। কেননা, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত।

 

 

 

 

তাছাড়া বহু আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই  নারায়ণগঞ্জ জেলায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ চূড়ান্ত করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

 

 

 


সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ নেতা একেএম শামসুজ্জোহার পুত্র সাংসদ শামীম ওসমান এবং আওয়ামীলীগ নেতা আলী আহাম্মদ চুনকার কন্যা নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলয়ে বিভক্ত এটা কারো অজানা নয়।

 

 

 

 

একেএম শামীম ওসমান গত কয়েকবছর স্থানীয রাজনীতিতে ব্যাকফুটে রয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়। আইভীর সাথে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু এবং শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশসহ বেশ শক্ত একটি অবস্থান তৈরি হয়েছে।

 

 

 

 

এখানে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতও অবস্থান করেছেন দীর্ঘসময়। এছাড়া আওয়ামীলীগের ত্যাগী সাবেক ছাত্রনেতাদের একটি বড় অংশ আইভী বলয়ের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

 

 

 

 

অন্যদিকে একসময়ে প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে স্থানীয়ভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছেন সেটি প্রতীয়মান হয়েছে সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বই শামীম ওসমানের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

 

 

 

 

যার মধ্যে সিটি নির্বাচনের আগে মহানগর ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে শামীম ওসমানের প্রভাব কমতির দিকে সেটির ছাপ পাওয়া যায়। কেননা বিলুপ্ত কমিটির মধ্যে সবগুলো কমিটি শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রানাধীন ছিল। তবে আসছে সম্মেলনে শামীম ওসমান নতুন করে নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন থেকেই চেষ্টা করে আসছেন।

 

 

 


এদিকে সিটি নির্বাচনের ক্যারিশমাটিক কাজ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে শক্ত প্রার্থী হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন। তবে এই পদে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট বন্ধু আবু হাসনাত শহীদ বাদলও আগ্রহী।

 

 

 

 

তবে বর্তমান কমিটিতে আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ কেন্দ্রে জমা পড়ায় তারা দুইজনই, আসছে কমিটিতে থাকবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে শামীম ওসমানের অনুগত আরো বেশ কয়েকজন নেতা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে রাখতে চান বলে জানিয়েছে সূত্র।

 

 

 

 

তবে সিটি নির্বাচন দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে চান বলে জানিয়েছে সূত্র। এই পদে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকরাও আসতে আগ্রহী।

 

 

 

 

তবে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে হিট লিস্টে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু এবং আবদুল কাদির। 

 

 

 


তবে মহানগর আওয়ামীলীগের আইভী ও শামীম ওসমান বলয় দুই মহল থেকেই পরিবর্তন চাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সূত্র। নানা অভিযোগে জেলা পরিষদে দ্বিতীয় দফায় আর মনোনয়ন পাননি মহানগর সভাপতি আনোয়ার হোসেন। সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাও নানা কারণে গত কয়েকবছর নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হয়েছে।

 

 

 

 

এছাড়া নিজ দলের নেত্রীর প্রতি কুৎসা করার অভিযোগে তো খোকন সাহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন আইভী। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসতে আগ্রহী এক ঝাঁক নেতা। খোকন সাহা যেমন চাইছেন সভাপতি হবে, তেমনি আনোয়ার হোসেনও চাইছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আবার থাকতে।

 

 

 

 

তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহী বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, জিএম আরমান, আহসান হাবীব,  সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে শামীম ওসমানের শ্যালক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এহসানুল হক নিপুকেও দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্র।

 

 

 

 

সভাপতি পদে মহানগর আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির বেশ কয়েকজন সহসভাপতি যেমন প্রতিদ্বন্দ্বী তেমনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে সাবেক শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আদিনাথ বসুকেও।  

 

 

 



তবে আসতে আগ্রহী কিংবা স্থানীয় নেতাদের সুপারিশেই যে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করা হবে বিষয়টি এমনও নয়। এসব পদে যারা আসবেন তাদের সকল কিছু বিবেচনা এবং গ্রহণযোগ্যতা যাচাঁই বাঁছাইয়ের পর আওয়ামীগ সভানেত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

 

 

 

গতকাল আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছেন। দুই একদিনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের দুই সম্মেলনের ব্যাপারে নেত্রীর মতামত ও সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলবেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছে সূত্র। সেক্ষেত্রে সাংসদ ও মেয়র হিসেবে জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মাঝে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আসবে কিনা সেটিও ভেবে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সূত্র।

 

 

 

 

তবে সেটি না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছে সূত্র। এছাড়া সূত্র আরো জানায়, বর্তমান নেতৃত্বে আবারো জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি না আসার সম্ভাবনাও প্রবল।

 

 

 

 

সূত্র বলছে, বর্তমানে যারা কমিটির নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় ছিল তাদের অনিয়ম, ব্যর্থতা এবং তাদের ব্যাপারে তৃণমূলের সকল অভিযোগের সত্যতা যাঁচাইয়ের কাজ নানাভাবে শেষ করেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

 

সে কারণেই দ্রুত সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণে দুই কমিটির নেতাদের তাগাদা দেয় হাইকমান্ড। কারা আসছেন নেতৃত্বে সেটি সম্মেলনেই নিশ্চিত হতে পারবেন স্থানীয় নেতারা এর আগে নয় বলছে বিশ্লেষকরা। এর আগে যাই বলা হবে তা হবে কেবল অনুমান। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন