Logo
Logo
×

রাজনীতি

টিপুতেই বেশি নাখোশ

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৪১ পিএম

টিপুতেই বেশি নাখোশ
Swapno


 
# আমি যাবতীয় কাজ করি, তারা জামাইয়ের মতো বক্তব্য দিয়ে চলে যায় : টিপু

# এই কমিটিতে এমপি নির্বাচন করার মতো যোগ্য নেতা নেই : খোরশেদ

# দুই কোটি টাকার বিষয়ে অন্তত যে কোন একজনকে ক্ষমা চাইতে হবে : আশা
 
 
আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দ্বন্দ্ব চলছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে। এই কমিটিতে বিভক্তি বা দলাদলি নতুন কিছু নয়। তবে এবারের বিরোধ চরম আকারে ধারণ করেছে। বিশেষ করে দলের এমন ক্রাইসিস বা বিপদের সময় এই বিরোধ। যখন নাকি দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি একতার প্রয়োজন বলে মনে করেন দলের তৃণমূল থেকে প্রায় সকল শ্রেণির সমর্থকও।

 

 

 

 

অন্যদিকে নতুন কমিটি প্রচণ্ড সমালোচনার মধ্যে পড়লেও কমিটির বেশিরভাগ নেতাকর্মীই নাখোশ সদ্য ঘোষিত কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর উপর। এমনকি অনেকেই ইউসুফ খান টিপুকে পল্টিবাজ হিসেবেও ভূষিত করেছেন। কমিটির বিপক্ষের অনেক সমর্থকের মতে টিপু একসময় বিএনপির সাবেক মনোনীত তিনবারের সাংসদ এডভোকেট আবুল কালামের খাস লোক (খুব বিশ্বস্ত লোক) হিসেবে ছিলেন।

 

 

 

 

 

এমনকি যে সময় এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মুল কমিটির বাইরে গিয়ে তার নিজের সমর্থকদের নিয়ে আলাদা কর্মসূচী পালন করতেন তখনও টিপু ছিলেন আবুল কালাম ও তার বলয়ের সাথে। এর আগে যখন সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন টিপু তখন সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে ওসমান পরিবারের কাছ থেকে দুই কোটি নিয়েছেন বলে অভিযোগ আনেন বলে জানিয়েছেন বিরোধী পক্ষের নেতৃবৃন্দ।

 

 

 

 

অথচ এখন সদ্য সাবেক মহানগর কমিটির দলীয় নেতাদের সাথে কোন প্রকার পূর্ব আলোচনা না করে, কোন প্রকার পরামর্শ না করে গোপন লবিংয়ের মাধ্যমে কমিটি আদায় করাকে একটি গভীর চক্রান্ত হিসেবে দেখছেন তারা।

 

 

 


 
মহানগর বিএনপির সাম্প্রতিক সময়ের দ্বন্দ্বের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু এক সংবাদ মাধ্যমকে ভিডিও বার্তায় বলেন, আমি ৩৫ বছর যাবত এই দল করি। আমি ব্যানার থেকে শুরু করে মঞ্চ পর্যন্ত যাবতীয় কাজ করি। অথচ তারা জামাইয়ের মতো এসে বক্তব্য দিয়ে চলে যায়।

 

 

 

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বন্দরের এই নেতৃবৃন্দ (আতাউর রহমান মুকুলসহ সমর্থকগণ) গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় মহাসচিবকে বন্দরে নির্বাচনী প্রচারণায় আসতে বাধা সৃষ্টি করেছেন।

 

 


 
এসব বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাসিক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ গত সোমবার এক প্রস্তুতিমূলক সভায় বলেন, নির্বাচনের আগে, যে সময় দলের স্বার্থে একটি শক্তিশালী কমিটির প্রয়োজন, সে সময় এমন কমিটি কোন অবস্থায়ই কাম্য নয়। যেখানে এমপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একটি আসন জয় করার মতো কোন যোগ্য প্রার্থী নেই।

 

 

 

 

এই কমিটিতে বিজয় ছিনিয়ে আনার মতো একজন যোগ্য এমপি প্রার্থী দেয়ার মতো নেতা আছে কি না। অথচ নির্বাচনের প্রার্থী কিন্তু এই কমিটির মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে। আপনারা কালাম গ্রুপ সাইজ করেছেন, তৈমুর গ্রুপ সাইজ করেছেন কিন্তু এর  বাইরেও এখানে আরও যোগ্য নেতা আছে।

 

 


 
কমিটির যুগ্ম আহবায়কের পদ থেকে সদ্য পদত্যাগকারী নাসিক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা টিপুর উদ্দেশ্যে বলেন, এখনকার যিনি সদস্য সচিব সাখাওয়াত খানের উদ্দেশে বলেছিলেন, ওর সাথে প্রোগ্রাম করবো না, কারণ সে ওসমান পরিবারের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা নিয়েছে। আমি বলেছি, কমিটি পরের কথা, হয় আপনি বলেন যে, আপনি যেটা বলেছেন সেটা মিথ্যে বলেছেন স্বীকার করে তারজন্যে সকল নেতাকর্মীর কাছে ক্ষমা চান।

 

 

 

 

অথবা সাখাওয়াত সাহেস সবার কাছে ক্ষমা চাইবেন, বলবেন আমি দুই কোটি টাকা নিয়েছিলাম, খরচ করিনি, নির্বাচনে বিএনপিকে হারিয়েছি, এখন এই দল গড়ার জন্য এই দুইকোটি টাকা রাজপথে খরচ করবো। তবে দুইটির অন্তত একটি বিষয়ে খোলাসা হতে হবে। কিন্তু এদেশে কারা নির্বাচন করার পর কিংবা কমিটি আসার পর ফ্ল্যাট কিনে ফেলেন, এগুলো নারায়ণগঞ্জে মানুষ জানে।

 

 

 

 

কমিটি আনছেন খোঁচাখুঁচি না করে কমিটি চালান। আমি যদি খালি গায়ে রাস্তা দিয়ে হাটি তাহলেও মানুষ বলবে যে এটা বিএনপির আশা। বিএনপি ছাড়া আমাদের কোন ঘর নাই, আামাদের অন্যকোন ঘরে যাওয়ার সুযোগও নাই। যারা বড় কথা বলে, তারা বিভিন্ন দল ঘুরে এসেছে। এখানকার দুই ইঁদুর নিজেরাই নিজেদের ঘর কাটবে। অন্যকারো কিছু করার দরকার নাই।

 

 

 

 

সাখাওয়াত খানের উদ্দেশে্য তিনি বলেন, আপনারা কমিটি আনছেন এখন সবার সাথে সমন্বয় না করে বলে দিলেন পরিবার তন্ত্রের অবসান ঘটেছে। যে চুরি করে কমিটি আনলো সে এই কথা বললো। যে মূল দলের সাথে কোন কর্মসূচী পালন না করে জাকির খানকে আমাদের সম্পর্কে মিথ্যে তথ্য দিয়ে ভুল বুঝিয়ে তার সমর্থকদের সহযোগিতা নিয়ে আলাদা কিছুদিন কর্মসূচী পালন করলো।

 

 

 

 

তিনি বলেন, আপনাদের নামে কয়টি মামলা আছে? জেলখানা আমাদের মুখস্ত হয়ে গেছে। কারও পিছনে হেটে রাজনীতি করার মানসিকতা নাই। এই দল করতে গিয়ে নিজের জান মাল সবই ইনভেস্ট করেছি।

 

 

 


 
অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুল তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা এখন কতো কথাই বলবেন। এর আগে তিনি বলেছেন, যেই টিপু সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ আনেন সেই টিপুই এখন সাখাওয়াতের সাথে মিলে গোপনে কমিটি নিয়ে এসেছে। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন