Logo
Logo
×

রাজনীতি

নিজের এলাকায় ঐক্য তৈরীতে ব্যর্থ শামীম ওসমান

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৪১ পিএম

নিজের এলাকায় ঐক্য তৈরীতে ব্যর্থ শামীম ওসমান
Swapno



# কোন্দলে ফতুল্লার চার ইউনিয়নে কমিটি হচ্ছে না


নারায়ণগঞ্জকে আওয়ামী লীগের সূতিকাগার বলা হয়। স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও বিভিন্ন সভা সমাবেশে তা নির্দ্বিধায় বলে থাকেন। ক্ষমতাসীন দলে শুরু থেকেই এখানে দুটি মেরুতে বিভক্ত আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের শুরুর দিকে নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্বে ছিলেন উত্তর বলয়ের সাংসদ শামীম ওসমানের পিতা সামসুজ্জোহা।

 

 

তার বিপরীতে ছিলেন দক্ষিন বলয়ের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীর পিতা ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ চুনকা। তখন থেকেই ক্ষমতাসীন দলে উত্তর দক্ষিন মেরু বিভক্ত ছিলেন। আবার দলের প্রয়োজনে তারা একমত হয়ে যেতেন। সেই ধারাবাহিকতায় এখনো চলমান আছে।

 

 

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ বলতে জেলার প্রভাবশালী নেতা এমপি শামীম ওসমান এবং মেয়র আইভীকে বুঝানো হয়। এদের মাঝে সাংসদ শামীম ওনসমানের অনুসারীদের রাজনৈতিক বোদ্ধামহল উত্তর মেরু হিসেবে চিনেন। অপর দিকে মেয়র আইভী বলয়ের নেতাদের দক্ষিন মেরুর নেতা হিসেবে জানে রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল।

 

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন ক্ষন র্নিধারন করা হয়েছে। আগমাী ১৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ অক্টোবর।

 

 

আর এই সম্মেলন নিয়ে নেতা কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা তৈরী হয়েছে। এছাড়া গত মাস থেকে এমপি শামীম ওসমান আগামী ২৪ সনের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভেদ ভুলে সকল নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। কিন্তু খোদ দলীয় নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন তারা সাংসদ শামীম ওসমানের আসনের এলাকায় নেতা-কর্মীরা কতটুকু ঐক্যবদ্ধ আছে। এমনকি তার অনুসারীদের মাঝেও ঐক্য নেই বলে জানা জেলা ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

 


দলীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র গত মাস ছয়েক আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক পান ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। অভিযোগ রয়েছে এই আইভী যেন নৌকা না পায় তার জন্য এক বছর আগে থেকে উত্তর বলয়ের সাংসদ শামীম ওসমানের নেতা কর্মীরা নান ধরনের অপচেষ্টা করেন।

 

 

এমনকি তার বিরুদ্ধে গত বছর জিউস পুকুর দখল করে রাখার অভিযোগ তোলা হয়। এই প্রসঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে একাধিক সভা হয়। এমনকি প্রভাবশালী সাংসদের ইন্ধনে মহানগরের হেফাজত নেতাকে পর্যন্ত মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ তুলেন নাসিক মেয়র।

 

 

নাসিক নির্বাচনের সময় আইভীর নাম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে পাঠানো হয়  নাই। কিন্তু সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়র আইভীর প্রতি আস্থা রেখে তাকেই নৌকা প্রতীক দেন। দলীয় নেতাদের থেকে অভিযোগ উঠেছিল শামীম ওসমান আইভীকে নৌকা পেতে ঠেকাতে না পেরে বিএনপি থেকে এড. তৈমুর আলমকে প্রার্থী করা হয়।

 

 

তখন নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে মেয়র আইভী বলেছেন তৈমুর আলম বিএনপির প্রার্থী নয়, তিনি সাংসদ শামীম ওসমানের প্রার্থী। প্রকৃত পক্ষে নাসিক নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে নাই। দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে তৈমূর আলম নির্বাচন করায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।

 

 

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারীরা নৌকার পক্ষে কাজ না করায় তখন মহানগর ছাত্র লীগ, জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহানগর শ্রমিক লীগ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। আর এই সকল কমিটি গুলোর বেশির নেতা দায়িত্বে ছিলেন এমপি শামীম ওসমানের অনুসারীরা।

 


অন্যদিকে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর মহাগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম সদস্য এমপি শামীম ওসমান। তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন, পদ পদবীতো পরে; দেশ নিয়ে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তার মোকাবেলা করতে দেশের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবেলা করতে হবে। নেত্রীর স্বার্থে এক হতে হবে।

 

 

কেউ আমাকে পছন্দ করুক আর না করুক  আসুন আমরা দলের স্বার্থে সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকি। তিনি মেয়রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ছোট বোন, নির্বাচন পর্যন্ত এক থেকে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও। কারো কারো চার পাশে বাম আতেল সুশীল ঘিরে রাখে। বিএনপি জামাতের লোকজনের কারণে কেউ কেউ হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তার এই বক্তব্যে মেয়রকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান তিনি।’

 


তার আগের দিনি অর্থাৎ ১ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় নাসিক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘সম্মেলন আসলেই আমরা ঐক্যের কথা বলি। কিন্তু সম্মেলন  চলে গেলে যে যার মত। আমরাও নেত্রীর দিতে তাকিয়ে ঐক্যবদ্ধ্য হই।’

 

 

এছাড়া ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী জানান, এমপি শামীম ওসমানের সাথে কথা বলে ফতুল্লা থানার ইউনিয়ন কমিটি গুলো করা হবে। অথচ দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত ৪ ইউনিয়নের কমিটি হচ্ছে না।  

 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য শহিদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফতুল্লা থানাধীন পাঁচটি ইউনিয়নের মাঝে চারটি ইউনিয়নের কমিটি হয় না দীর্ঘ দিন। অথচ ফতুল্লা থানার পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়ে যায়। দলীয় গঠনতন্ত্রে রয়েছে থানার আগে ইউনিয়নের কমিটি করতে হবে। কি করে তারা ইউনিয়ন কমিটি না করে থানার কমিটি অনুমোদন পায়।

 

 

অথচ দলীয় নেতাদের মাঝে অভিযোগ রয়েছে এখানে বিভক্ত থাকার কারণে দীর্ঘদিন ফতুল্লা, বক্তাবলী, এনায়েত নগর, কুতুবপুর ইউনিয়ন কমিটি হচ্ছে না। আর এই ইউনিয়ন গুলোর সকলেই শামীম ওসমানের অনুসারী। তাই রাজনৈতিক বোদ্ধামহলে আলোচনা হচ্ছে শামীম ওসমানের নির্দেশনা না পাওয়ায় কমিটি হচ্ছে না।

 

 

তাই সচেতন রাজনৈতিক মহল বলছেন, ‘তিনি নিজের এলাকায় নেতারা ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন না। তিনি নিজে ঐক্যে কথা বললেও তারা নিজের আসনের ইউনিয়ন গুলোতে ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থ বলে মনে করেন সচেতন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।’ এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন