Logo
Logo
×

রাজনীতি

আবারো বিভক্ত কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০৭:১২ পিএম

আবারো বিভক্ত কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপি
Swapno


# গত কমিটির মতো এই কমিটিও, একই পরিণতি হওয়ার আশঙ্কা

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গত ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আহ্বায়ক ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যের মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র।

 

 

সেই কমিটি প্রকাশ হওয়ার পরে ১৫ জন এই নবাগত কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। এই পদত্যাগের পর থেকেই তাদের মাঝে নানা বিরাজ সৃষ্টি হয়। এতে মহানগর কমিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়। পরে মহানগরের দুই ভাগের বিভক্তি নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য পাল্টা বক্তব্য, কর্মসূচি পাল্টা কর্মসূচি, আল্টিমেটাম পাল্টা আল্টিমেটামের মধ্যে দিয়ে চলছে এই মহানগর বিএনপি। এই মহানগর বিএনপি এখন নানা সমালোচনায় রয়েছে।


 


সূত্রমতে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির নবগঠিত আহবায়ক কমিটির প্রথম কার্যকরী সভায় মহানগর বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগকারী বিদ্রোহী নেতাদের ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম হয়েছিল, কিন্তু এতে ও ভালো কোনো ফলাফল পায়নি তারা।

 

 

এ নিয়ে নানা বিতর্কের মুখে রয়েছে নবাগত মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। গত সোমবার ৩ অক্টোবর শহরের জামান টাওয়ারের চতুর্থ তলার ফান ক্লাবে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় উপস্থিত মহানগরের বিদ্রোহী সকল নেতৃবৃন্দরা এই মহানগর আহ্বায়ক কমিটিকে নানাভাবে দোষারোপ করে এবং কর্মী ছাড়া কমিটি;  এক অযোগ্য কমিটি বলে আঙ্খা দেয়।

 

 

তাদের ধারণা এই কমিটির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নাম ক্ষুন্ন হবে। ৬ অক্টোবর জাতীয় কর্মসূচি থাকার পরে ও মহানগর বিএনপির পদত্যাগকারী বিদ্রোহী নেতারা এই সভার মাধ্যমে ৬ অক্টোবর এক শোক র‌্যালি সভার ডাক দেয়। এতে সকল নেতাবৃন্দের ধারণা এই শোক র‌্যালির মাধ্যমে প্রমাণ হবে কারা মূল কমিটির যোগ্য।

 

 

বিদ্রোহী নেতৃবৃন্দরা আরো বলছে তারা একজন যত কর্মী নিয়ে মাঠে নামতে পারবে এই নবাগত পুরো কমিটি মিলেও তত কর্মী নিয়ে মাঠে নামতে পারবে না। তারা আরো বলছেন এই নবাগত কমিটিকে কোনোভাবে মানা আমাদের পক্ষে মানা সম্ভব না।

 


 
এ বিষয়ে নবাগত মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগকারী নেতা আবুল কাউসার আশা বলেন, যারা কমিটির দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছে তারা যেকোনো ভাবেই কমিটি ভাগিয়ে এনেছে। কিন্তু তাদের দায়িত্ব কিন্তু ছিল সবার সাথে সমন্বয় করা। এটা না করে চোরের মার বড় গলা; চোরের মা সেজে তারা কি করলো একটা বক্তব্যে দিয়া দিল। যে পরিবারেরতন্ত্রের অবসান ঘটছে।

 

 

এর আগে মহানগর বিএনপির একটা কমিটি ছিল। এই কমিটিকে অকার্যকর করার জন্য যা যা করা দরকার এই চোরের মা সব কাজগুলো করছে। আবার তারা বলে মন্ত্রী, এমপিদের সাথে ছবি থাকে। একবার জনগণের সেবা করার জন্য ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচিত হয়ে দেখান। যখন দেখবেন বাধ্য হয়ে মন্ত্রী এমপিদের সাথে ছবি তুলতে হয় বুকে কত কষ্ট লাগে।

 

 

তখন এই জ্বালাটা বুঝবেন; তা না হলে আমাদের পক্ষে আপনাদেরকে এই জ্বালাটা বোঝানোর ক্ষমতা নেই। মহানগর বিএনপিতে বিভেদ সৃষ্টি করেছেন আপনারা আগে দুই কোটি টাকার হিসাব দেন। তারপর আপনাদের সাথে রাজনীতি করবো।

 

 

আপনাদের যদি প্রশ্ন করি জেলখানা দেখতে কেমন বলতে পারবেন না। তিনি আরো বলেন, প্রমান দেখান আমরা বহিষ্কার ঠেকাতে কোন নেতাদের কাছে গিয়েছি। এমপিদের সাথে আতাঁত থাকলে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে নির্যাতন করতো না।’

 


মহানগর বিএনপির নবাগত যুগ্ম আহবায়ক পদ থেকে পদত্যাগকারী আতাউর রহমান মুকুল বলেন, ‘আমি এই কমিটির ব্যাপারে কোনো কথা বলবো না। আগামী ৬ অক্টোবর আমাদের সভায় প্রচুর লোক নিয়ে শোক সভায় যোগদান করবো। আমাদের কৌশল করে রাজনীতি করতে হবে।

 

 

আমরা বিদ্রোহী কমিটি কইরা দুইবার উপজেলার চেয়াম্যান হয়েছি। আর এখন আমরা সাবাই এক জোট আমরাইতো বিএনপি ওরা আবার কিসের বিএনপি। আমাদের এই সভা সফল হবে।’


 


এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখায়াত হোসেন খান বলেন, ‘আমরা কোনো বিভক্ত কর্মসূচি পালন করছি না ৬ অক্টোবর আমাদের জাতীয় কর্মসূচি আমরা সেটা পালন করবো। আর কারা কি পালন করবে এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

 


 
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবুল আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘আমরা জাতীয় কর্মসূচি পালন করবো। আর যারা আলাদা কর্মসূচি পালন করবে তারা অন্য দলের কাউকে খুশি করার জন্য এই শোক র‌্যালি ডেকেছে আর ২০১৮ সালে যারা অন্য দলের জন্য কাজ করেছে এবং তারা এখানো চাচ্ছে এই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটাকে আবার জার্তীয় পার্টির হাতে তুলে দিতে, তারা অন্য দলের ইন্ধনে চলে। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন