Logo
Logo
×

রাজনীতি

কার নিয়ন্ত্রণে মহানগর বিএনপি

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৩০ পিএম

কার নিয়ন্ত্রণে মহানগর বিএনপি
Swapno


# দুই কোটি টাকার অভিযোগ তখনকার জন্য প্রযোজ্য, এখনকার জন্য না : টিপু

# এমপিদের সাথে যদি সম্পর্ক না হতো তাহলে কীভাবে দুই কোটি টাকা নিলেন : আশা


নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওসমান পরিবার কতটুকু ফ্যাক্টর, যারা নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি নিয়ে একটু হলেও ভাবেন তারা ভালো করেই বুঝেন। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দুই মেরুর দুই রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত।

 

 

রাজনৈতিক কারণেই তাদের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এর আগেও ওসমান পরিবারের নাম ওঠে এসেছে। তবে সদ্য গঠিত মহানগর বিএনপির কমিটির দ্বন্দ্ব নিয়ে আবারও বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায় সবারই মুখে মুখে।

 

 

একপক্ষ বলছেন, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবং বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল এমপি সেলিম ওসমানের খাস লোক। সেলিম ওসমানের সাথে তার সখ্যতা আছে।

 

 

অন্যদিকে আরেক পক্ষ বলছেন, মহানগর বিএনপির সদ্য গঠিত আহবায়ক কমিটির আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নাসিক নির্বাচনের সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা নিয়েছেন।

 

 

যা তার বর্তমান সহকারী সংগঠনের সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সেই সময়ই অভিযোগ করেছিলেন। যদিও টিপু বলেছেন, ‘সেটা সেই সময়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল। এখনকার জন্য প্রযোজ্য না।’

 

 

তবে অনেকেই আবার সাখাওয়াত এবং মুকুল দুজনকেই ওসমান পরিবারের সুবিধাভোগী বিএনপির দুই নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। একজন আওয়ামী লীগের সাংসদ শামীম ওসমানের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন; অন্যজন সুবিধা নিয়েছেন জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমানের কাছ থেকে।

 

 

তাই মহানগর বিএনপির এই দুই নেতাকে ওসমান পরিবার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে দলের পক্ষ হতেই একাধিক নেতার অভিযোগ। অন্যদিকে সদস্য সচিব টিপুর বিষয়টি নিয়েও রয়েছে অনেক রম্য আলোচনা। তিনি সেলিম ওসমানের সুবিধা নেয়া মুকুল বাহিনীর সাথেও ছিলেন আবার শামীম ওসমানের সুবিধা নেওয়া সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথেও আছেন।

 

 

গত সোমবারের প্রস্তুতিমূলক সভায় বিভিন্ন নেতাকর্মীদের আলোচনায় অনেকেই বলেন যে সময়ই তার ভাগে কম পড়ে তখনি তার বিপক্ষে যান। সে সময় দৃঢ় কন্ঠে তিনি সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন; এখন আবার অভিযোগের তীর মুকুল গ্রুপের দিকে।
 


এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘আপনারা কখনও ওসমান পরিবারের কারো সাথে আমার সখ্যতা দেখেছেন? মুকুলের সাথে (আতাউর রহমান মুকুল) সখ্যতা আছে। মুকুলের ছবি আছে সেলিম ওসমান ও নাসিম ওসমানের সাথে।’

 

 

‘শেখ মুজিবের ছবিতে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) পুষ্প অর্পণ করছে এবং বিভিন্ন মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছে এমন ছবিও আছে। এতে ওসমান পরিবারে সাথে সখ্যতার বিষয়টি কার বলে প্রমাণ হয় তার নাকি আমাদের। আপনারা আমাদের বিষয়ে এমন কোন ছবি দেখাতে পারবেন?’

 

 

তিনি বলেন, ‘সে ২০১৮ সালে নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের নেতা এসএম আকরাম এর বিরুদ্ধে গিয়ে লাঙ্গল মার্কার নির্বাচন করেছে। বিএনপির নির্বাচনের দিন; বিএনপির পুলিং এজেন্টদের পিটিয়েছে।

 

 

মহাসচিব যখন বন্দরের জনসভায় এসেছিল সে সময় রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগিয়ে সে বাধার সৃষ্টি করেছিল, মহাসচিব যেন আসতে না পারে।  আমরা ওসমান পরিবারের দল করি না, বিএনপি করি। ওরা নামধারী বিএনপি করে।

 

 

২০১৬ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় তৎকালীন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন এমপি শামীম ওসমানের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা নিয়েছিল বলে আপনি একটি অভিযোগ করেছিলেন। এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘সেই বিষয়টা সেই সময়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল, এখন আর প্রযোজ্য না।

 

 

 শীতের গান গরমকালে গাইলে হবে না, আর গরমকালের গান শীতকালে গাইলে হবে না। ঐ কথাটা তখনকার জন্য রাইখা দেন।’


 
ওসমান পরিবারের সাথে সখ্যতার বিষয়টি পরিস্কার করার জন্য মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করা নাসিক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা এক প্রস্তুতি মূলক সভায় বলেন, ‘তারা যেভাবেই কমিটি বাগিয়ে আনছেন, তাদের দায়িত্ব ছিল সবার সাথে সমন্বয় করা।

 

 

এটা না করে, তারা চোরের মায়ের বড় গলার মতো চোরের মা সেজে বললেন, পরিবার তন্ত্রের অবসান ঘটেছে। যারা চুরি করে কমিটি এনেছে তারা বললো যে, পরিবার তন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছে। এই প্রেসক্রিপশন কাদের এটা সবাই জানে।

 

 

বর্তমান সদস্য সচিবও একদিন বলেছিল যে, ওর সাথে (সাখাওয়াতের সাথে) ছবি তুলবো না। কারণ সে নির্বাচনের সময় ওসমান পরিবারের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা নিয়েছে। আপনি এখন সেই বিষয়টা ক্লিয়ার করেন।

 

 

এমপিদের সাথে যদি আপনাদের সম্পর্ক না হতো তাহলে তাদের কাছ থেকে কীভাবে দুই কোটি টাকা নিলেন। এমপিদের সাথে কাদের সম্পর্ক ভালো তা সবাই জানে। আমাদের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকলে প্রথমবারের নির্বাচনে জোর-জবরদস্তি করে ফেল করানো হতো না।’ এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন