# কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব চাইছে তৃণমূল
# শীর্ষ নেতারা আশানুরূপ সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণ করতে পারছেনা
দিন যত গড়াচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতি নেতৃত্ব সংকটহীন হয়ে পড়ছে। কারণ বর্তমান সময়ে যারা জেলা বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের অযোগ্য নেৃতত্বে জেলা বিএনপি দিন দিন দূর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপশি তাদের এই অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে দলের ভিতরে কোন্দল ও বিশৃঙ্খলার চিত্রটি বরাবর প্রকাশ্যে আসছে।
এমতাবস্থায় দলের প্রবীণ নেতারাও এগিয়ে আসছে না দলকে সুসংগঠিত করতে ও শৃঙ্খলা ফেরাতে। কারণ জেলা বিএনপিতে বর্তমানে তৃতীয় সারির নেতারা নেতৃত্ব দিচ্ছে; যার কারণে প্রবীণরা নিজেদের সম্মান ও দূরত্ব দুটিই বজায় রেখে চলেছেন।
বিগত সময়ে জেলা বিএনপিতে আরেকটি বিষয় ফুটে উঠেছে, তা হলো অর্থের বিনিময়ে দলের বাহিরে থেকে বিএনপির একাংশের নেতাদের নিয়ন্ত্রণ করে পিছন থেকে কল-কাঠি নাড়ছেন।
সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। জেলা বিএনপির আহবায়ক করা হয় এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে এবং সদস্য সচিব করা হয় মামুন মাহমুদকে। পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করায় তৈমুর আলম খন্দকারকে বহিষ্কার করা হয় বিএনপি থেকে।
তার বহিষ্কারের পর যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হন। বর্তমানে এই রবি-মামুনের নেতৃত্বেই পরিচালিত হচ্ছে নারায়াণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি। বেশ কয়েকদিন আগে গুঞ্জন উঠেছিল মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণার পরই জেলা বিএনপির র্পূণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
কিন্তু সূত্র মতে জানা যায়, বিএনপির তৃণমূলের নেতারা বর্তমান আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে জেলা বিএনপির অভিবাবক হিসেবে মানছে না; পাশাপাশি আহবায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করে পূর্ণগঠন চাচ্ছেন বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা।
কারণ ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সারা জেলায় বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন দাবি করছেন বিএনপির কর্মীরা। তাদের জেলায় নেতৃত্ব দেয়ার মত যোগ্য ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নেতা হিসেবে মনে করছে না তৃণমূলের কর্মীরা।
থানা কমিটি গুলো গঠন নিয়েও ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা রয়েছে এবং প্রতিটি থানাতেই বিএনপির নেতাদের মধ্যে ব্যাপক কোন্দল রয়েছে পাশাপাশি এই কোন্দল নিরসনেও কোন রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে না তারা। যার কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতৃত্বে সংকটে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বোদ্ধামহলের মতে সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলমান আন্দোলন সংগ্রামকে বেগবান করতে যোগ্যতা সম্পন্ন নেতাদের নিয়ে জেলা বিএনপিকে সাজানো প্রয়োজন বলে মনে করেন। যোগ্যতা সম্পন্ন বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতা রয়েছে বিএনপিতে যাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিলে মুহুর্তেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে দল।
যাদের মধ্যে অন্যতম নেতা হলো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। কারণ তিনি বিএনপির অত্যান্ত প্রভাশালী একজন নেতা ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রার্থী শামীম ওসমানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পাশাপাশি রাজনীতির মাঠেও শামীম ওসমানের সাথে ব্যাপক লড়াই করেছেন সাবেক এমপি গিয়াস। কিন্তু তিনি দলে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে চাইলেও তার দলের ভিতরে থাকা একটি চক্র তাকে ঠেকাতে বেশ তৎপর। যার অন্যতম নাটের গুরু হচ্ছে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা নেতা ও সংসদ নির্বাচনে পরাজিত শাহ আলম।
এখনো তার এজেন্ট হিসেবে দলের কিছু নেতাকে ব্যবহার করে গিয়াসকে ঠেকাতে সর্বদা প্রস্তুত থাকেন। পাশাপাশি বর্তমানে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব সংকট অবস্থায় বহু নেতা-কর্মীরাই গিয়াস উদ্দিনকে জেলা বিএনপির নেতৃত্বে এসে জেলা বিএনপির হাল ধরার দাবি রাখছে।
কিন্তু বরাবরই দলের ভিতরে ও দলের বাহিরের নানা ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি সামনে এগুতে পারছে না। অপরদিকে বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা জেলা বিএনপির বেশ আলোচিত একজন নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। যিনি ঐতিহ্যবাহী ভূইয়া পরিবারের একজন যোগ্য উত্তরসূরী হয়ে উঠেছেন।
বিএনপির সক্রিয় রাজনীতিবীদ হলেও পর্দার আড়ালে থেকে দিপুকে ঠেকাতে বিগত দিনে দলের ভেতরে যেমন চলেছে নানা ধরনের বাধা তেমনি এখন ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের কাছেও লক্ষবস্তু হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। জেলা বিএনপির তৃলমূলের কর্মীদের মতে দিপু শুধু রূপগঞ্জ না বরং নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন।
বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও দিপু ভূইয়ার প্রতি ব্যাপক আস্থাশীল। তার অন্যতম একটি গুণ হচ্ছে গ্রুপিংয়ের রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে তিনি রাজনীতি করেন। পাশাপাশি তার রয়েছে ব্যাপক কর্মী বাহিনী তার উপর কর্মীদের রয়েছে ব্যাপক আস্থা।
যার কারণে দলের শীর্ষ নেতারাও দিপুর প্রতি বেশ সন্তোষ। জেলা বিএনপির বহু নেতাকর্মীরাই ইতিমধ্যে দাবি রাখছে যে দিপু ভূইয়ার মত যোগ্য ক্লিন ইমেজের এই নেতাকে জেলা বিএনপির শীর্ষ পদে নেতৃত্ব নিয়ে আসা সময়ের দাবি।
জেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা জানায়, চলমান দেশের যে পরিস্থিতি তা নিরসনে আমাদের কেন্দ্রীয় নির্দেশিত যে কর্মসূচীগুলো আসে, সেগুলো সফল করতে এবং আমাদের সামনে যে আন্দোলন সংগ্রাম আসছে জেলা বিএনপি’র জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে এই জন্য জেলা বিএনপি যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজন।
পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে দলের ভিতরে যোগ্য ত্যাগী নেতা রয়েছে তাদের কাছে জেলা বিএনপির দায়িত্ব দেয়া হোক। কারণ যোগ্য নেতৃত্বের ফলে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপি অল্প সময়ের মধ্যেই; নেতৃত্ব সংকট কাটিয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এন.এইচ/জেসি


