Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিভক্তিতে টনক নড়েছে নেতাদের

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৫৯ পিএম

বিভক্তিতে টনক নড়েছে নেতাদের
Swapno


# আগের কমিটি ওসমান পরিবারের তিন ভাইয়ের কাছে জিম্মি ছিল : রনি

# নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রমাণের জন্যই বেশি লোকসমাগম সম্ভব হয়েছে : রাজীব

# এই সরকারের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তারা মাঠে নেমে আসছে : মন্তু

# আমাদের কারিশম্যাটিক নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ফসল : রুহুল আমিন


অনেক দিন পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির একটি সফল কর্মসূচীর প্রত্যক্ষ করলো বিএনপি সমর্থকসহ নারায়ণগঞ্জবাসী। পদ নিয়ে কমিটি নিয়ে বিভক্তি থাকলেও দলীয় কর্মসূচীতে লোক সমাগমের কোন কমতি ছিল না, যা এর আগে দলের খুব সংকটময় মুহুর্তে দেখা যায়নি।

 

 

তাই স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ সকল রাজনৈতিক বোদ্ধাদের প্রশ্ন ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার পরও দলের খুব কঠিন সময়ে; নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দকে একসাথে কোন কর্মসূচীতে খুব কমই দেখা গেছে।

 

 

এমনকি এখন যে ৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি, তার উপর আবার দুই ভাগে বিভক্ত, তারপরও উভয় গ্রুপই চোখে পড়ার মতো লোক সমাগম করতে সমর্থ হয়েছে। তাহলে এতদিনে তা সম্ভব হয়নি কেন? অনেকের মতে ১৫১ জন সদস্য যদি ১০ জন করেও লোক নিতে পারতো তাহলেও দেড় হাজারেরও বেশি লোকের সমাগম করা সম্ভব।

 

 

অথচ সেসব কর্মসূচীতে কমী সমর্থকতো দুরের কথা, নেতৃবৃন্দেরও তেমন একটা উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবে এই দলাদলিতে দলের যেমন ক্ষতি তেমনি আবার লাভও আছে বলে মনে করেন অনেকে। কারণ এতে করে উভয় পক্ষই তাদের সামর্থ্য দেখাতে চাইছেন এবং মসনদ হারানোর এবং ফিরে পাওয়ার বিষয় কাজ করায় এখন তাদের অনেকেরই টনক নড়েছে।

 

 

তাই বিদ্রোহীরা তাদের গুরুত্ব বুঝাতে কর্মসূচীতে লোক সমাগম বৃদ্ধি করছে। অন্যদিকে তাদের চাপের কারণে কমিটির পদস্থরাও তাদের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এই প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার কারণে বিএনপির কর্মসূচীতে উপস্থিতির খরাও কেটেছে।


 


এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্য রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বলা হয় কারিশম্যাটিক নেতা; এটা তারই সিদ্ধান্তের ফসল। তাছাড়া কয়েকটি পরিবার দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছে। এখন সেই নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটানোর মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব এসেছে।

 

 

তারাও তাদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য উদ্যোগী হয়ে লোক সমাগম ঘটিয়েছে। অন্যদিকে  বর্তমান কমিটির পদ-পদবী নিয়ে বিরোধ বা নিজেদের মধ্যে সমস্যা থাকলেও; তারা দলের জন্য যে নিবেদিত প্রাণ তা লোকের সমাগম ঘটিয়ে প্রমাণের চেষ্টা বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। 

 

 

তবে তাদেরকে অবমূল্যায়ন করার কারণে তাদের মধ্যেও স্প্রীডটাও বেড়েছে। তারাও বুঝতে পেরেছে যে, আমরা ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় নতুন নেতৃত্ব এসেছে। তাই তাদের গুরুত্ব যে কমে যায়নি তা বুঝানোর জন্য তারাও যথেষ্ট লোক সমাগম করছে বলে রাজনৈতিক সচেতন মহলের ধারণা। 


 
মহানগর যুবদলের আহবায়ক মমতাজ উদ্দিন মন্তু জানান, ‘আগে এটা সম্ভব হয়নি কারণ তখন হয়তো রাজনীতির ধারাবাহিকতা ছিল না, নেতৃত্বের কমান্ডিং তেমন একটা ছিল না। এখন শৃঙ্খলা বা ধারাবাহিকতা ফিরে এসেছে তাই লোক সমাগম বেড়েছে। তাছাড়া এই সরকারের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে নেমে আসতেছে।’


 


নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাশুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, ‘আজকে যারা কমিটির বিপক্ষে তারাতো এক সময় এই কমিটিরই অংশ ছিল। অথচ দুই মাস আগেও যেসব দলীয় কর্মসূচীগুলো ছিল তাতে তাদের এ ধরণের উপস্থিতি ছিল না কেন? তখন এ ধরণের কর্মসূচী পালন করা, তাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই ছিল।

 

 

আজকে যেই সামর্থ্য দেখিয়েছেন তা আগে দেখাতে পারলে হয়তো এই কমিটি না হয়ে আরও ভিন্ন কিছু হতে পারতো। দলের সিদ্ধান্ত দেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। দলের এই প্রয়োজনীয় সময় সবার একসাথে হয়েই কাজটা করা উচিৎ।’

 

 

তিনি বলেন, ‘এখানে পদ নিয়ে সমস্যার চেয়েও নেতৃত্ব কারা আছে তা নিয়ে সমস্যা বেশি। দলের সমস্যা না, ব্যক্তিগত সমস্যা। এখানে যারা নেতৃত্ব পাইছে তারাও মনে করছেন; আমি নেতৃত্ব পাইছি আমার যোগ্যাতাও দেখাতে হবে, আবার যারা বিরোধিতা করছেন তারাও মনে করছেন আমাদের নেতৃত্ব যোগ্যতা দেখাতে হবে। তাই হয়তো এখন জনসমাগম অনেক বেশি করা সম্ভব হয়েছে।

 

 

তবে দল বা কমিটিতে বিভক্তি আমাদের কারওই কাম্য না। এটা অনেকের কাছেই দৃষ্টি কটু মনে হয়। দলের প্রয়োজনের সময় কারও ব্যক্তিগত স্বার্থ কাম্য না।

 

 

এখনকার কাদা ছোড়াছুড়িতে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার বিষয়টা থাকলেও বৃহত্তর একটা দলের জন্য তা যতটা না ক্ষতিকর, তার চেয়েও ক্ষতিকর নেতাদের এবং চেইন অব কমান্ডের। এতে সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে নেতাদের বিষয়ে একটি খারাপ ধারণা তৈরি হয়। আমাদের উচিত সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রামকে এগিয়ে নেয়া এবং দলকে সুসংগঠিত করা।’

 


 
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি জানান, ‘দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় যাবত বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। আওয়ামী লীগের শামীম ওসমান, জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান ও নাসিম ওসমান (প্রয়াত) তারা তিন ভাই নারায়ণগঞ্জে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ বিএনপিকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, যে সকলে জিম্মি হয়ে পড়েছিল।

 

 

তারেক রহমান যখন জানতে পেরেছে যে, আমাদের দলটা একটা জায়গায় জিম্মি, এখান থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে বিএনপিকে বাঁচানো যাবে না। তাই তিনি বুঝে শুনে এই কমিটি দিয়েছেন। আগের কমিটিকে এমনভাবে তারা তিনভাই নিয়ন্ত্রণ করছিল, যেন বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা মাথা তুলতে না পারে।

 

 

তারা যেন রাজপথে মিছিল মিটিং করতে না পারে। তাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলোও তারা চার দেয়ালের মধ্যে ১০/১৫ জন লোক নিয়ে, মোনাজাত বা বক্তব্য দিয়ে প্রোগ্রাম শেষ করে দিত। তাই তারেক রহমান সাখাওয়াত-টিপুকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

 

 

আজকে কিন্তু মহানগর বিএনপির আসল চরিত্র বের হয়েছে। তারা কতটা শক্তিশালী তার প্রমাণ দিয়েছে। আজকের দুইটি মিছিলেই কিন্তু প্রচুর লোক সমাগম হয়েছে।

 

 

বিরোধীরাও কিন্তু এখন বুঝতে পারতেছে যে, শামীম ওসমান বা তার পরিবার তাদেরকে ক্ষমতায় বসাতে পারতেছে না, তাদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার জন্যই তারা মাঠে নামছে।

 

 

শুধু মাত্র দুই একজন দলটাকে ধ্বংস করার জন্য কাজ করছে, তারা এখন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। যেদিন থেকে তারা মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব হারিয়েছে সেদিন থেকেই তাদের সুযোগ সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে; তারা এখন দুই কুল হারিয়েছে। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন