Logo
Logo
×

রাজনীতি

অস্তিত্ব সংকটে বাম রাজনীতি

Icon

লিমন দেওয়ান

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৭:২১ পিএম

অস্তিত্ব সংকটে বাম রাজনীতি
Swapno

 

# বাম রাজনীতিটার ভিতরে অনেক হতাশা বিরাজ করছে : হিমাংশু সাহা
# বামদের অবস্থান কখনো হুমকির মুখে ফেলার সুযোগ নাই : হাফিজুল
# বামের কিছু অংশ বিএনপি আওয়ামী লীগ দুইটাতেই আছে : এড. আওলাদ
# আমরা ইতিমধ্যে বাম জোট থেকে বের হয়ে গেছি : তরিকুল সুজন
# রাজনৈতিক দলগুলো বামেদের সমস্যায় ফেলতে চায় : বাবু

 

নারায়ণগঞ্জ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনকে সমানে রেখে অনেক উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে বামসহ ছোট রাজনৈতিক দলগুলো। তারা না পারছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে, না পারছে বিএনপির মত সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনকে সমর্থন দিতে। আর এ কারণে সংকটে পড়ছে দেশের বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলো।

 

 

দেড় দশক সময় ধরে বাম রাজনৈতিক দলগুলো বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা নামে একটি জোটের মাধ্যমে আন্দোলন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই আন্দোলনে তারা একদিকে যেমন জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছে না, জনসমর্থন পাচ্ছে না, অন্যদিকে নিজেরাও বিকশিত হতে পারছে না। এতে তৈরি হচ্ছে উপদল, তৈরি হচ্ছে উপদলীয় কোন্দল।

 

 

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক বিজয়ের পর অনেকেই মনে করেছিল এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। বিশেষত যুদ্ধাপরাধের বিচার যখন শুরু হয় তখন বাম দলগুলোর সামনে একটি বড় সুযোগ সামনে এসেছিল। এই বাম দলগুলো জনগনের সঠিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রামে অনেক ভূমিকা রেখেছে।

 

 

কিন্তু আওয়ামী লীগে ও বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার প্রভাব দেখে ও তাদের অর্থ সম্পদের লোভে অনেকে ছুটে যাচ্ছে বিভিন্ন দলের পিছু। এর কারণে কিন্তু নানা রকম বিভ্রান্তি এবং হঠকারীতার কারণে বাম রাজনীতি চোরাবালিতে আটকে যায়।  এখন বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হল বিএনপি। বিএনপি রাজপথে আন্দোলন করছে।

 

 

২২ টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে বিএনপি এখন যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিচ্ছে। এই সংলাপে বাম রাজনৈতিক দলগুলো যোগ দেয়নি। বাম নেতারা বলছেন যে বিএনপি একটি পুঁজিবাদী এবং লুটেরাদের দল। কাজেই তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাছাড়া বিএনপির সঙ্গে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সম্পর্কের কথাও জোরেশোরে বলেন বাম নেতারা। কাজেই অসাম্প্রায়িক চেতনাকে লালন করে আদর্শিক কারণে বাম রাজনৈতিক দলগুলো বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ বা জোটবদ্ধ আন্দোলনে যেতে আগ্রহী হয়নি।

 


অন্যদিকে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বেও এখন বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটছে। এই রাজনৈতিক মেরুকরণে জাতীয় পার্টির টিকে থাকার সংগ্রামে বেশ ভালোভাবে নিজেদেরকে জানান দিচ্ছে। বাম রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় পার্টির সঙ্গেও ভিড়ছে না। তারা মনে করছে স্বৈরাচারের গর্ভে জন্ম নেওয়া এই অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলটিও আরেকটি লুটেরাদের আশ্রয়স্থল।

 

 

আরেক দিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আগে থেকেই এক ধরনের দূরত্ব তৈরি করে রেখেছে বাম রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও বাম রাজনৈতিক দলগুলো বিশ্বাস করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে, অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে। কিন্তু বাম রাজনৈতিক দলগুলোর এটিও মূল্যায়ন করে যে, আওয়ামী লীগ এখন অসাম্প্রদায়িক  চেতনার নয় বরং আওয়ামী লীগ এখন লুটেরাদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

 

 

এরকম বাস্তবতায় একলা চলার নীতি নিয়ে তারা অগ্রসর হতে থাকে। কিন্তু প্রধান প্রধান রাজনৈতিক জোট এবং মেরুকরণের মাঝে হারিয়ে যাওয়া শুরু করেছে বাম রাজনৈতিক দলগুলো। এখন দেশে রাজনৈতিক উত্তাপ চলছে , বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আলোচনা তখন বামদের মধ্যে থেকেও কেউ কেউ যুগপৎ আন্দোলনের জন্য ঝাঁপ দিচ্ছে বিএনপির মধ্যে। কয়েকটি বাম রাজনৈতিক দল ক্ষমতার কারণে  ক্ষমতাসীন দলের দিকেও ছুটছে ফলে বাংলাদেশে বাম রাজনীতিতে একটি ব্যাপক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বাম রাজনীতির নেতকর্মীরা আরো অনেক দলের দিকে ঝুকবেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

 

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা বলেন, আমাদের এই বাম রাজনীতিটার ভিতরে অনেক হতাশা বিরাজ করছে। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারি তাহলে আমাদের হতাশাটা কেটে যাবে। আর আমরা হতাশ হয়ে যাই এতে আমাদের কর্মীরাও হতাশের দিকে ছুটে আসে। আর আমাদের ওয়াকার্স পার্টির পক্ষ থেকে আমরা মনে করি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সৃজনশীলতা প্রয়োগ করতে পারি।

 

 

তাহলে হতাশা  কেটে যাবে আর আমাদের সমাজে যে লক্ষ্য সেদিকে কিছুটা হলেও আমরা ধাবিত হব। আগামীতে হয়তো খেলা। এই খেলার ক্ষেত্রেও একটা শক্তিশালী টিম আমাদের রাখা দরকার। তিনি আরো বলেন, সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তি যেটাতে দেখা যাচ্ছে না। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে। তা না হলে আমাদের এমন হতাশা সমস্যা আরো দেখা দিবে।

 


 
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমান সময়ে জনগণের সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন লড়াই সংগ্রামে বামদের থেকে সক্রীয় বাংলাদেশে বিএনপি ও আওয়ামীলীগও না। এই জন্য বাম বা কমিউনিষ্ট পার্টিগুলো কোনো জায়গায় হুমকির মুখে পরে না।

 

 

এই বাম জনগণের সকল দাবী নিয়ে লড়াই সংগ্রাম করে। আর আমাদের সংসদে আগে বামের লোক ছিল। পরে ভোটার বিহীন নির্বাচন যখন থেকে শুরু হয়েছে তখন থেকে আমাদের এমপি, মন্ত্রী নাই। বিগত পাকিস্তানের আমলেও এই কমিউনিষ্ট পার্টি পার্লামেন্টে ছিল।

 

 


তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে বাম নামধারী অনেক রাজনৈতিক দল আছে। ১৪ দলের সাথে কয়েকটি রাজনৈতিক দল আছে আওয়ামী লীগের জোটের তারা নিজেদের বাম বলে। আবার বিএনপির জোটের সাথে কয়েকদিন আগেও বাম নামদারি সংগঠনটি ওই জোটের সাথেও আন্দোলন করতেছে। প্রকৃত অর্থে আমাদের দেশে বাম পন্থী বাম জোট আমাদের বাম গণতান্ত্রিক জোট আছে যেটার নেতৃত্ব বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি দেয়।

 

 

বাংলাদেশে কমিউনিষ্ট পার্টি দল বাসদ আছে। বাংলাদেশের বাম রাজনীতিতে ইতিহাসে এখন কমিউনিষ্ট পার্টি আর বাসদ হইলো নেতৃত্বে আমরা আমাদের জোটে আছি। আমরা স্বৈরাচারের শাসনে নাই রাজাকারের শাসনে নাই। আমরা মনে করি লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে। বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে। আর ভারতে ও কমিউনিষ্ট পার্টির অবস্থান অনেক ভালো আছে। সকল দেশে বামদের ভবিষ্যৎ ও সক্রীয়তা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমরা চেষ্টা করছি রাখতে। দেখেন বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়ে কিন্তু বাম সবার আগে আন্দোলনে ঝাঁপ দিয়েছে। তাই আমি বলতে চাই বামদের অবস্থান কখনো হুমকির মুখে ফেলার সুযোগ নাই।

 


 
ন্যাপের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক শহিদ জাবেদ আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে  বলেন, বাম রাজনীতি কখানো হুমকির সম্মূখীন না। বাম রাজনীতি তার নিজস্ব ধারায় চলে। এখন আমাদের দেশে সমস্ত ক্রাইসেস মুভমেন্টগুলিতে বামরা বেশি সক্রিয়। যারা রাজনীতিক দলগুলো ক্যারি করে তারা বাম দলগুলোকে সমস্যা ফেলতে চায়।

 

 

যাতে তারা সামাজিকভাবে কাজ না করতে পারে। কিন্তু বাম রাজনীতি পৃথিবীর কোনো জায়গায় হুমকির সম্মূখিন হয় না। তিনি আরো বলেন, বাম ধারার রাজনীতি ক্ষমতায় কখানো যায় না। এই রাজনীতিতে প্রথমে একটা সাসপেকশন চলে এসেছে কিছু আমাদের দরকার কিছু প্রয়োজন আর আওয়ামী লীগ বিএনপি যারা করে দেখা যায় তারা অনেক এই কারণে তারা এই দলগুলো দিকে চলে যাচ্ছে।

 

 


এ বিষয়ে ন্যাপ নেতা এড. আওলাদ হোসেন বলেন, বাম রাজনীতিটা হুমকির মুখে না। এটা একটু দূর্বলতা হচ্ছে জনগণের দিকে বিকল্পভাবে বাড়াতে পারছে না। বাম রাজনীতি আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি তারা মানুষের কল্যানের জন্য কাজ করে। সকল আন্দোলন সংগ্রাম করে প্রতিবাদ করে। আর আগের থেকে তাদের প্রতিরোধ করার ক্ষমতাটা কমে গেছে।

 

 

তিনি আরো বলেন, এই বামের কিছু লোক আওয়ামী লীগ ১৪ দলের সাথে চলে গেছে আবার বিএনপির মধ্যেও আছে এটা বাম রাজনীতির জন্য ক্ষতিকারক একটি দিক। তারা যদি আওয়ামী লীগ, বিএনপি পন্থী না হইয়া বাম রাজনীতিটা করতো। তাহলে দেশের জনগণ ও গরীব মানুষের শোষকের বিরুদ্ধে লড়াইটা আরো ভালো হতো শক্তিশালী হত।

 

 


এ বিষয়ে গণসংহতির নারায়ণগঞ্জের সমন্বয়ক তরিকুল সুজন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে এই বাম জোট থেকে বের হয়েছি। আমি এই বিষয়ে এখন আগের মতোই বলতে পারবো। নতুন কি হবে এই বিষয়ে বলতে পারবো না। আর সবাই জানেন এই বাম রাজনীতিটা মানুষের জন্য কাজ করে। মানুষের অধিকারের জন্য কাজ করে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন