Logo
Logo
×

রাজনীতি

গ্রুপিংয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে তৃণমূল

Icon

লিমন দেওয়ান

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২২, ১১:১৬ এএম

গ্রুপিংয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে তৃণমূল
Swapno


 # ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত কয়েকটি গ্রুপ


গত ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট নবাগত আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এই কমিটি হওয়ার পরে এই কমিটিকে পকটে কমিটি বলে আখ্যা দিয়ে ১৫ জন বিদ্রোহী সদস্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন।

 

 

এরপর থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগিতা করে কর্মসূচি পালন করছে। দুই পক্ষের নেতাদের ধারণা যে গ্রুপ বেশি লোক জমায়ত করে কর্মসূচি পালন করতে পারবে, সেটাই হবে প্রকৃত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি।

 


এর আগে বিলুপ্ত মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে এডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে নারায়ণগঞ্জের সাবেক ছাত্রনেতা জাকির খানের কোন নাম ছিল না।

 

 

সূত্র জানিয়েছে, সে সময় সাখাওয়াতের লোকেরা বলেছিলো আপনার (জাকির খান) নাম আসে নাই কারণ এমপি কালামের লোকেরা দিতে দেয়নি। তাই আপনার নাম কেটে ফালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

এখন ও মহানগরের যে নবাগত কমিটি গঠন করা হয়েছে এখানেও জাকির খানের নাম নাই। তখন জাকির খানের লোকেরা বলেছে এখন জাকির খানের নাম নাই কেন। তখন তারা কোনো উত্তর দিতে পারেনি এই কারণে জাকির খান বলয়ের বেশিরভাগ নেতা-কর্মীরা এখন, সাবেক এমপি কালাম বলয়ের বিদ্রোহী নেতাদের সাথে রয়েছে। অন্যদিকে বহিষ্কৃত তৈমূর আলম খন্দকার ও খোরশেদ আলমের লোকদেরকে সকল কর্মসূচিতে বিদ্রোহীদের সাথেই দেখা যাচ্ছে।

 


কিন্তু সমষ্য অন্য জায়গায় এই মহানগর বিএনপি মূল দল হওয়ার কারণে যুবদল, ছাত্রদল , শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, মহিলাদল এই অঙ্গ সংগঠনগুলো কোন গ্রুপের সাথে যে মিলিত হবে তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে।

 


এ বিষয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জিয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমরা শহিদ প্রেসিডন্ট জিয়াউর রহমানের দলটা করি। এখন আমরা অনেক দু:সময়ের মধ্যে আছি। এই সরকারের আমলে আমরা সুন্দরভাবে মিছিল মিটিং করতে পারি না।  

 

 

সে সময় সখাওয়াত সাহেব বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। তখন আবুল কালাম সাহেব সভাপতি ছিল। তখন সে আলাদাভাবে মিছিল মিটিং করছে। আমি তখন ওই মহানগর কমিটির একজন মেম্বার ছিলাম। তখন আমার কর্মী নিয়ে আবুল কালাম সাহবের মিছিল মিটিংয়ে, সরকার বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছি।’

 


তিনি আরো বলেন, ‘সাখায়াত সাহেব তখন সিনিয়র সভাপতি তিনি তখন আলাদাভাবে মিছিল মিটিং করতো। সেখানে আমার নেতা জাকির খানের নির্দেশ ছিল। তার সাথে যাওয়ার জন্য কিন্তু ব্যাক্তি হিসেবে আবুল কালাম সাহেব ও সাখাওয়াত সাহেব তারা ভিন্ন ছিল। তখন সাখাওয়াত সাহেব জাকির খানের নেতা-কর্মীদের ডাক দিত, আমরা তখন যেতাম।

 

 

আমরাও অনেক প্রোগ্রামে সাখাওয়াত সাহেবকে সিনিয়র হিসেবে দাওয়াত দিয়েছি। এখন বিষয়টা হলো আগের কমিটির সাথে বর্তমান কমিটির কোন মিল নাই। এখন মহানগর বিএপির পদত্যাগের যে বলয়টা রয়েছে। আমরা তাদের সাথে কেন? এটা নারায়ণঞ্জবাসী ও সকল তৃণমূল সবাই এই বিষয়টা জানে। এই কমিটিটা রাতের অন্ধকারে একটি কমিটি হয়েছে।

 

 

এই কমিটি কারো সাথে সংলাপ করে হয়নি। শুধু সাখাওয়াত সাহেব, আবুল আল ইউসুফ টিপু সাহেব তারা মিলে কিভাবে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করলো আবার সেখানে সিনিয়র জুনিয়রের কোনো হিসাব করে নাই। তাই আমার নেতা জাকির খান ও বলছে আমি এই কমিটি মানি না আমি ও আমার স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বলতে চাই, আমি ও মানি না।

 

 

আর সাবেক কমিটিতে যারা ছিল। তারা ৬ তারিখ একটি শোক র‌্যালি করেছে সেই শোক র‌্যালিতে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আর জাকির খানও বলছে ঐক্যর বিকল্প কিছু নাই। এখন বর্তমানে ব্যাক্তির কোনো হিসাব চলবে না।’

 

 

‘এখানে ঐক্য হবে যেহেতু আমাদের নারায়ণগঞ্জের একটি ইজ্জতের বিষয় এটা হচ্ছে জালাল হাজী পরিবার, খান পরিবার, খন্দকার পরিবার, তারা সবাই মিলে একটি শোক র‌্যালি করবে এই র‌্যালিতে আমাকে বলা হয়েছে যৌথভাবে এই র‌্যালিটাকে সফল করার জন্য।’

 


এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ও মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘দীর্ঘ ৫ বছর যে কমিটি ছিল আবুল কালাম সাহেব ও এটি এম কামাল ভাইয়ের নেতৃত্বে ওই কমিটি ৫ বছর পর ভেঙে নতুন যে কমিটি দিয়েছে তারেক রহমান সেটা সাখাওয়াত ও টিপু সাহবের নেতৃত্বে অবশই ছাত্রদল, যুবদল আমরা যারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলি।

 

 

আমরা মূল ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং সাখাওয়াত সাহেব ও টিপু সাহেবের নেতৃত্ব একমাত্র সংগঠন এখানে গ্রুপ নাই। এটা যদি কেউ বলে থাকে সে  বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

 


এ বিষয়ে সাবেক যুবদলের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খোরশেদ বেশ ডিপ্লোমেটিক ভাষায় উত্তর দেন; তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকে বিএনপির রাজনীতি করি। এখন ও করতেছি, কার সাথে মিছিলে যাই এটা ফ্যাক্ট না। মিছিলে কিন্তু আমরা বিএনপির শ্লোগান দেই এটাই মূল বিষয়।’

 


এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি পারভেজ মল্লিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘জাকির খানের কর্মী এবং সমর্থক হিসেবে আমি বলতে চাই আমরা প্রথমে বিএনপির সাথে আছি। বাংলাদশ জাতীয়তাবাদী বিএনপি কারো বাবার পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এই বিএনপি দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার, তারুণে্যর অহংকার তারেক রহমান তাদের নেতৃত্বে, তাদের নির্দেশে এই দল চলবে।

 

 

আওয়ামী লীগ অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দল। এই নীল নকশার নির্বাচনের প্রতিবাদে এবং গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের মুক্তির আন্দেলনের পক্ষে যে আন্দোলনগুলো প্রতিষ্ঠিত করা হবে সেই লক্ষ্যে আমরা একটি সঠিক নেতৃত্বের পিছনে থেকে আমার কাজ করবো।’

 


তিনি আরো বলেন, ‘যদি কেউ একটা এলোমেলো কমিটি নিয়ে আইসা নারায়ণগঞ্জে ব্যান্যার চালাতে চায়; আমরা ওই কমিটি সমর্থন করি না। আমরা বিএনপির সাথে আছি,, তার সাথে থাকবো।

 

 

কিন্তু বর্তমান যে কমিটি হয়েছে, এই কমিটিটা তৃণমূলের কমিটি হয়নি। তারা কারো সাথে আলাপ করে নাই এবং প্রবীণ ও নবীণ কোন সমন্বয় করে এই কমিটি আনে নাই। এই কমিটিতে অনেকে রয়েছে যারা দীর্ঘদিন দেশের বাহিরে ছিল।

 

 

তাদের কিভাবে যুগ্ম আহ্বায়ক হতে পারে, তারা ১৫ বছর দেশেই ছিল না। কোনো মিছিল মিটিংয়ে অংশ গ্রহণ করে নাই। এটা একটা হাস্যকর কমিটি।’


 


এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দিন মন্তু বলেন, ‘আমরা সবাই বিএনপি করি আমাদের একটু পদ নিয়ে সমস্যা হতে পারে। এটা কিছু না আমি আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে এই পদত্যাগকারীরা  নবাগত কমিটির সাথে মিলে যাবে। এক হয়ে আমার সকল আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থাকবো।’

 


এ বিষয়ে যুবদলের সদস্য সচিব নেতা মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, ‘আমাদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত তারেক রহমান সাহেব যাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়েছেন,  তাদের সাথে আমরা সবাই আছি এবং যার দল তার সিদ্ধান্তের বাহিরে আমরা যেতে পারি না।’ এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন