নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা বিভিন্ন কর্মকান্ডের জন্য আলোচনা রয়েছেন। সেই সাথে আগামী দ্বাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলকে গুছিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া টানা দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি সাংসদ হয়ে সোনারগাঁকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে যতই দিন যাচ্ছে ততোই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। এই নির্বাচনে সোনারগাঁ ৩ আসেন যারা প্রার্থী হবেন তাদের মাঝেও মনোনয়ন নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। তবে এবার এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে ছাড় দিবে না স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।
অপর দিকে বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা নিজের মাঠ গুছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে এমপি খোকার বিরুদ্ধে জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
আর এই অভিযোগ নিয়ে রীতিমত রাজনৈতিক মহলে তাকে নিয়ে ব্যপক আলোচনা হচ্ছে। সেই সাথে তাকে নিয়ে রাজনীতি বিশ্লেষকদের মাঝে সমালোচনা তৈরী হয়েছে।
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি কেন জেলা পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম ইকবালের পক্ষে গিয়ে ভোট চান। এখানে তিনি একজন এমপি হয়ে ছোট একটি পদের জন্য তাকেই বা কেন ভোট চাইতে হবে।
এদিকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পদে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি থেকে দুজন প্রার্থী লড়াইয়ে নেমেছে। তার মাঝে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন নিয়ে সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহবায়ক কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম। তিনি গতবারও প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছেন।
তার বিপরীতে আছেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম ইকবাল। তবে মাসুম হাতী মার্কা পেয়েছে, তার বিপক্ষে আবু নাইম ইকবাল পেয়েছে তালা প্রতীক। দুজনেই ভোটারদের কাছে গিয়ে মনজয়ের চেষ্টা করছেন।
তবে আবু নাইম ইকাবলে পক্ষে প্রকাশ্যে সোনারগাঁ ৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা ভোট চাওয়ায় তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী মাসুম জেলা রিটার্নিং কর্মকতা ডিসি মঞ্জুরুল হাফিজ বরাবর অভিযোগ দিয়েছে। একই সাথে জেলা নির্বাচন অফিস বরাবরও অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
তার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকও এই সাংসদকে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তার পরেও অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রশাসনের একটি সূত্র জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনী এই সাংসদকে নজর দারিতে রেখেছে বলে জানান। সেই সাথে তদন্তের পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি এমপি খোকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি সরাসরি ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে পারেন না। তিনি ভোট চেয়ে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাইম ইকবালের তালা প্রতীকের পক্ষে সোনারগাঁ ৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনা ও সভা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে অভিযোগের সত্যতা হিসেবে এই সাংসদের ভোট চাওয়ার প্রমাণদি সংযুক্ত করে জমা দিয়েছে অভিযোগ কারী; জেলা পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম।
অভিযোগ উল্লেখ্য করে মাসুম জানান, জেলা পরিষদের সোনারগাঁ উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সদস্য প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম বলেন, আমি সোনারগাঁ সাবেক সদস্য হিসেবে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি।
গতবার আমাকে পরাজিত করতে না পেরে এবার আমার প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী তালা প্রতীকের আবু নাইম ইকবালের পক্ষ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা প্রকাশ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচনের আওতাধীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন।
একই সাথে সভা সমাবেশ করে আসতেছে। যা নির্বাচনী আইন বহির্ভুত এবং নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘনের মাঝে পড়ে। এমনকি সে এমপি হওয়ায় আমাদের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রজেক্ট টিআর ও কবিখা কাজ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বল প্রয়োগ করে তালা প্রতীকের প্রার্থী ইকবালের পক্ষে ভোট প্রদানের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে।
তাই জনপ্রতিনিধিরাও তার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আছে। টিআর/কাবিখা প্রকল্পের কাজ হলো বাঁধ ও রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ. নালা, নর্দমা খনন/সংস্কার, ধর্মীয়/শিক্ষা/ স্যানিটারী ল্যাট্রিন, বাঁশের সাঁকো নির্মাণ, বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য এলাকা ভিত্তিক গভীর নলকুপ স্থাপন।
এ সকল কর্মসূচির প্রকল্পসমূহ প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। কিন্তু ইদানিং কালে এমন কোন কাজ না করেও বিভিন্ন ইউনিয়রে মেম্বারদের টাকার বিনিময়ে ভোট চাচ্ছেন। এছাড়া কাবিখা প্রকল্প হলো উপজেলা কমিটি ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে শ্রমিক ও প্রকল্প নির্বাচন করে থাকে।
এ কর্মসূচির আওতায় গৃহীত প্রকল্প সমূহ প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। প্রতিটি শ্রমিক দৈনিক ৭ (সাত) ঘন্টা কাজের বিনিময়ে ১৭৫ টাকা মজুরী পেয়ে থাকেন। প্রতিটি শ্রমিকের সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তাদের পারিশ্রমিক পেয়ে থাকে।
শ্রমিকগণ সপ্তাহে ৫ দিন কাজ করে প্রতি বৃহষ্পতিবার সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হতে মজুরী গ্রহণ করে।এ কর্মসূচির আওতায়, খাল খনন/ পুণঃ নির্মাণ, বাঁধ নির্মাণ/পুণঃ নির্মাণ, রাস্তা নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ কাজ করে থাকে। সম্প্রতি সময়ে এমন কোন কাজ মেম্বার করেন নাই।
সকলে বলাবলি করছে তিনি টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বারদের টাকা বিনিময়ে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি ইতোমধ্যে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। সেই সাথে অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্ট পেলে বাকি আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এন.এইচ/জেসি


