সভাপতি পদে ২০ লাখ; সম্পাদক পদ ১৫ লাখে বিক্রি!
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২২, ০১:২৮ পিএম
# শেষ বেলায় এসেও বিতর্ক ছাড়ছে না হাই-বাদলের
# কয়েক কোটি টাকার কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ
যতই দিন যাচ্ছে ততোই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সময় শেষ হচ্ছে। কেননা ইতোমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিনক্ষন নির্ধারণ হয়ে গেছে। সেই সাথে ভেন্যুও নির্ধারণ হয়েছে। যদিও গত ১ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সম্মেলনের ভেন্যু নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের উত্তর দক্ষিন মেরুর নেতাদের মাঝে মতানৈক্য দেখা দেয়।
তাও আবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সামনে ভেন্যু নিয়ে তর্কবতির্ক হয়। পরে ৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সভায় সম্মেলনের ভেন্যু ওসমানী পৌর স্টোডিয়াম নির্ধারণ করা হয়। তার আগে ১ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২৩ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। তাতে জেলার সকল নেতৃবৃন্দ সম্মতি প্রদান করেন।
এদিকে ক্ষমতাসীন দলের জেলা সভাপতি আবদুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলের বিগত দিনের কর্মকান্ড ফলাও করে আলোচনা হচ্ছে। তবে এই দুই জনের মাঝে সবচেয়ে বিতর্কিত হয়ে আছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই। কমিটিতে পদ বাণিজ্য, স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য থেকে শুরু করে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ আছে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের কমিটিবিহীন হয়ে আছে। এখানে সভাপতি হিসেবে আছেন নাজির মাদবর। সাবেক সেক্রেটারি আল মামুন বহিস্কার হওয়ায় পদটি খালি আছে। একজন দিয়ে কোন কমিটি চলে না। তবে এখানে গোগনগর ইউনিয়ন নির্বাচনের পর থেকে এখনো কমিটি হচ্ছে না।
সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি নেই বললেই চলে। এখানে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাহাব উদ্দিন থাকলেও তিনি কোন কার্যক্রমে নেই। তবে দীর্ঘ দিন যাবৎ আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত নুরুজ্জামান সরকার দলকে ধরে রেখেছেন। তবে তিনি গত বছর মারা যাওয়ার পর এই ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দল নেতৃত্বহীনতায় আছে।
কিন্তু নতুন কমিটি যারা সভাপতি সেক্রেটারি পদে আসতে চায় তারা সম্প্রতি সময়ে দলকে আকড়ে দরার চেষ্টা করছে। দলীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, নুরুজ্জামান সরকার মারা যাওয়ার পর আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে সভাপতি সেক্রেটারি পদে আসার জন্য একাধিক নেতা মাঠে নেমেছে।
তার মাঝে সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে আছেন জামাত বিএনপি নেতা আলী আহম্মদ এর ভাই আলী নুর মোল্লা। তিনি পেশায় দলিল লিখক হওয়ায় ভালো টাকার মালিক বনে গেছেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে আছেন সদর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ খোকন।
কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, আলীরটেক ই্উনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ দেয়ার কথা বলে আলী নুর মোল্লার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেন ক্ষমতাসীন দলের জেলা সেক্রেটারি ভিপি বাদল। অনেকটা নিশ্চিত হওয়ায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রার্থীও এই টাকা দেন। এছাড়া খুশিতে স্থানীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে চাইনিজ খাওয়ান।
ভিপি বাদল এই টাকা জায়েজ করার জন্য তার সাথে ভাগিদার রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হাই। এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পদ পেতে হলে সালেহ আহমেদ খোকনকে পনের লাখ টাকা দিতে বলে ভিপি বাদল। তবে তিনি আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হওয়া এত টাকা দেন নাই।
কিন্তু দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে এখনো সদর থানা আওয়ামী লীগের কমিটি হয় নাই। অথচ ইউনিয়ন কমিটির জন্য টাকা নিয়ে রাখছে জেলার শীর্ষ নেতারা। কিন্তু দলের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে শীঘ্রই জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুৃন নেতৃত্ব আসতে পারে আর এতে করে তারা পদ হারাতে পারেন।
তাই দলীয় নেতাদের মাঝে বলাবলি হচ্ছে আলীনুর মোল্লার এই টাকা বুঝি খোয়া গেল। সেই সাথে তার পদ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়ে গেলেন। এদিকে তাই তাদের এই ধরনের ন্যাক্কার জনক কর্মকান্ডের জন্য ধিক্কার জানান তৃনমূল নেতা কর্মীরা।
তৃণমূল নেতারা অভিযোগ তুলেন এই ভাবে যদি টাকার বিনিময়ে হাইব্রিড নেতাদের পদে বসিয়ে দেয়া হয় তাহলে তা দলের জন্য অনেক ক্ষতি হয়। তবে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবী জানান তৃনমূল নেতা কর্মীরা।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল বলেন, ‘আমি একটি ওয়াজের মাহফিলে আছি তাই এখন কথা বলতে পারবো না। পরে কথা বলি বলে ফোন কল কেটে দেন।’
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এন.এইচ/জ


