# শামীম ওসমানের অঙ্ক সম্বন্ধে জ্ঞান অনেক কম: রবি
# তিনি রঙ্গিন চশমা পড়ে আছেন : সাখাওয়াত
# শামীম ওসমানের চোখের চিকিৎসা প্রয়োজন : টিপু
গতকাল নারায়ণগঞ্জের রাইফেল ক্লাবে শ্রমিকলীগের ৫৩ তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান বলেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকায় বিভাগীয় সমাবেশ সেটা সেখানে না করে নারায়ণগঞ্জে করেন।
আর একই সময়ে আমাদের ছাত্রলীগ সমাবেশ করুক। দেখেন কোনটাতে বেশী লোক হয়। এর আগে শামীম ওসমান নিজের মোবাইলে থাকা চট্টগ্রামে বিএনপির সমাবেশের একটি ভিডিও দেখান।
সেখানে কত লোক হয়েছে সেটা স্থানীয় একজন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে জানতে চান এখানে কত লোক আছে তার এই প্রশ্নে ‘সংবাদকর্মী বলেন ৫ থেকে ৭ হাজার আমি বাদ দিলাম আমি ধরলাম ১৫ হাজার লোক। চট্টগ্রাম বিভাগের ১৭টি জেলা হতে ১ হাজার করে লোক আসলেও ১৭ হাজার।
এই পনের লোকের মিছিল করে বলেন মহাসমাবেশ। এটাতো আমাদের ছাত্রলীগই করতে পারে। আমাদের শীতলক্ষ্যার মুন্নাতো ১৫ হাজার লোকের মিছিল আনে। এটা হল বড় হাক ডাক। আমিতো ভেবেছিলাম কি জানি হয়ে যাবে আজ বাংলাদেশে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনিরুল ইসলাম রবি যুগের চিন্তাকে বলেন, শামীম ওসমানতো পলিটিকাল সাইন্সের ছাত্র অংকেতো উনি পড়াশোনা করেন নাই। অংক সম্বন্ধে উনার জ্ঞান অনেক কম।
আর আজকের চট্টগ্রামের ফুটেজ দেখার পরে ও যদি উনি বলেন পাঁচ থেকে দশ হাজার লোক ছিল। আমরা সাবাই লাইভ দেখেছি যে কত লোক ছিল। তার পরে ও যদি উনি বলে লোক কম ছিল। তাহলে আমি বলবো উনি অংকে কাঁচা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত খান যুগের চিন্তাকে বলেন, শামীম ওসমান রঙ্গিন চশমা পড়ে আছেন। উনি শুধু উনাদের দেখে আর বিরোধী দলের কিছু দেখতে পায় না। ২৭ তারিখে এই শামীম ওসমান সমাবেশ করেছিলেন, বিএনপি ১ তারিখে, ৬ তারিখে, ১০ তারিখে যে সমাবেশ করেছেন।
আমরা এই সমাবেশে যে লোক জমায়েত করেছি এই লোক ও উনি করতে পারেননি। উনি সবসময় এমন কথা বলে আমরা কিন্তু কখানো কাউকে ছোট করে কথা বলি না। ছোট করতে ও চাই না আর এই সরকার এই দেশে যেভাবে লুটপাট চালিয়েছে দ্রব্যমূল্যে দামের উর্ধ্বগতি মানুষের ভোটের অধিকার হরনের কারণে।
এর কারণে যেখানে বিএনপির মিছিল মিটিং সেখানে লক্ষ লক্ষ লোকের ঝড় নামে। আজকেতো চট্টগ্রাম শহর অচল হয়ে গিয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে যখন মিছিল মিটিং হবে তখন এই নারায়ণগঞ্জে কেউ বাহির হওয়ার সুযোগ পাবে না।
নারায়ণগঞ্জ ও অচল হয়ে যাবে। উনি যে বড় বড় কথা বলে আমরা বিএনপির লোকেরা ২৭ তারিখ দেখেছি উনাদের কত লোক উনাদের এতো লোক যদি থেকে থাকে তাহলে নিরপেক্ষ সরকার দিতে তারা এতো মনে প্রশ্ন কেন। সুন্দর নির্বাচন দিতে ভয় কেন।
তাদের যখন এতো লোক আছে উনাদের উচিৎ নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে সুষ্ট নির্বাচন দেওয়া। তখন বুঝা যাবে তার জনসমর্থন বেশি কার মিছিল মিটিংয়ে লোক বেশি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, চাষি যখন গরু হারিয়ে যায় তখন কিন্তু সে পাগল হয়ে যায়। এমনই ক্ষমতা হারানোর ভয়ে শামীম ওসমান আবল, তাবল আগেই বকাবকি শুরু কইরা দিছে।
উনি যে একজন জনপ্রতিনিধি উনি যে একজন রাজনীতিবিদ উনার জ্ঞনের অভাব আছে। তা না হলে উনার যে কথা বলা দরকার উনি যে মানুষদেরকে ছোট করে কথা বলে। সেটা থেকে সে কখানো বেড় হয়ে আসতে পারেনি।
আজকে চট্টগ্রামে যে সমাবেশ হয়েছে সেই সমাবশে আওয়ামীলীগের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ বাংলাদেশের কয়েকটা লীগ মিলে ও সেই লোক জমায়েত করতে পারবে না। অতএব মানুষ যখন ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভুল বকাবকি করতেছে। সে যানে এই সব কথা যদি না বলে তার যে কর্মী আছে তাদেরকে সে ধরে রাখতে পারেবে না।
তখন তার নেতাকর্মীরা তাকে রেখেই পালিয়ে যাবে। উনিতো পালাবে পরের কথা আগে পালাবে নেতাকর্মীরা। অতএব কোনো রাজনীতিবিদের মুখে অন্য আরেক দলকে ছোট করে কথা বলা শুভনীয় নয়। আমরা সাবাই আশা করবো উনি রাজনীতিবিদের মত কথা বলুক।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামে নিয়ে যে আজকে সে বললো সেখানে লক্ষ লক্ষ লোক হয়েছিল সেখানে যদি সে বলে ছাত্রলীগ এর থেকে বেশি লোক আনতে পারবে। এখানে পাঁচ থেকে দশ হাজার লোক হয়েছে। তাহলে আমি বলবো উনার চোখে চিকিৎসা করানো দরকার।
উনি চোখে এতো লোক দেখে না। আর না হয় উনার মাথায় কোনো প্রভলেম আছে। এটাই বুঝা যায় ক্ষমতা হারানোর ভয়ে উনি আবল তাবল বলছেন। বিগত দিনে উনি উনার কর্মীদের রেখে যেভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ছিল।
এখন উনাকে রেখে উনার কর্মীবাহিনীরা পালাবে। আগামী রাজপথে প্রমান হবে কার লোক বেশি। আর মুখে সামাল দেন অন্যদের ছোট করে কথা বলা এখন বন্ধ করুন।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, শামীম ওসমান সাহেব যে বক্তব্যেটা বিএনপিকে নিয়ে দিল এতে আমার মনে হয়। উনাকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল। যে উনাকে ছবিটা পাঠিয়েছে আমাদের মনে হয় তাকে দিয়ে মিথ্যা বক্তব্যে দেওয়াইয়া তার ভাবমুত্তি নষ্ট করার জন্য এমনটা করানো হয়েছে।
আমি যতটুকু জানি উনি অনেক মেধাবী এবং অংকে অনেক পাকা উনি অংকে কাঁচা হওয়ার মত লোক না। আমার ধারনা উনাকে বিভ্রান্ত করার জন্য ভুল ছবি পাঠিয়েছে। আমার মনে হচ্ছে উনি বক্তব্যে দেওয়ার শেষে উনি যখন সঠিকভাবে সমাবেশটা দেখছে।
তখন উনি মনে মনে চিন্তা করছে আমি কি বক্তব্যে দিয়ে আসলাম। উনি শামীম ওসমান এই বক্তব্যে দিতে পারে না। আর পুরো বাংলাদেশে যতগুলো নেতা আছে তাদের মধ্যে উনি একজন যাকে পুরো বাংলাদেশ চিনে। উনার এই বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নাই।
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির যে রাজনীতি পেক্ষাপট গত দুইদিন আগে জেলা বিএনপির যে কর্মসূচি ছিল। সেই শোক র্যালিতে কিন্তু প্রায় ৫০ হাজার লোক কর্মী হয়েছিল। আবার মহানগর যে কর্মসূচি পালন করছে সেখানে কিন্তু ২০/২৫ হাজার কর্মী ছিল।
আর এই শোক র্যালি গুলোর ভিতরে ছাত্রদল, যুদলের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। তিনি আরো বলেন, আর শামীম ওসমান যে বক্তব্যে দিয়ে যার ভুল তথ্যর কারণে সেটা তার দোষ। এর আগে ও তিনি এমন একটি বক্তব্যে দিয়েছিল।
পরে সে মিথ্যা তথ্য পাওয়ার পরে যে দিয়েছিল তাকে দমক দিয়েছিলেন যে কেন তুমি আমাকে দিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়া এই বক্তব্যে দেওয়াইলা। আমি বলতে চাই রাজনীতির পেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা তাদের মুখ দিয়ে অনেক ধরনের বক্তব্যে দিবে যেটা হাস্যকর এবং বিভ্রান্তিকর। এন.এইচ/জেসি


