Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিতর্কে মন্তু-সজল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:০৪ পিএম

বিতর্কে মন্তু-সজল
Swapno


# সব সিদ্ধান্ত পাঁচ জনে হয় না : সজল


নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল। কিন্তু বর্তমান সময়ে মহানগর যুবদলের আহবায়ক ও সদস্য সচিবের নানা রকম বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে মহানগর যুবদল সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছে।

 

 

যার অন্যতম কারণ হল মহানগর যুবদলের সুপার ফাইভ কমিটিতে বিভক্ত সৃষ্টি করে আহবায়ক ও সদস্য সচিবের স্বার্থকে প্রতিষ্ঠিত করা। এছাড়া মহানগর আহবায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা নিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

 

 

বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়েও যুবদলের আহবায়ক ও সদস্য সচিবের নেতৃত্বে চলছে জল ঘোলানো কাণ্ড যার নেপথ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপির এক নেতা। আড়াইহাজারেও বিএনপি লণ্ডভণ্ড করার নেপথ্যে ওই কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ।

 

 

নারায়ণগঞ্জের সব কমিটিতেই তার একটা অশুভ প্রভাব বিরাজমান; এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৃণমূলে। অভিযোগ আছে বর্তমান সদস্য সচিব মনিরুল আলম সজল আজাদের পরামর্শেই মূল মহানগর বিএনপি ছেড়ে যুবদলের গিয়ে সদস্য সচিব হন। এরপর আজাদের পরামর্শে এবং দিক নির্দেশনায় পুরো যুবদলকে পকেটে পুরে নেন সজল।


 
 
সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দীন মন্তুকে আহবায়ক এবং মনিরুল ইসলাম সজলকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল।

 

 

কমিটির বাকী সদস্যরা হলেন সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাগর প্রধান, যুগ্ম আহবায়ক শাহেদ আহমেদ ও মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টি। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে বৈঠক করে সভা করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আওতাভুক্ত সকল থানা ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

 

 

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে ৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি থেকে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি করার পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে আর এই আহবায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ হিসেবে মুক্তি পায়নি। ২০২২ সালের জুন মাসে গুঞ্জন উঠে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা  করে তাদের সম্মেলনের আয়োজনের নির্দেশনা দেয়া হবে। সে নির্দেশনাও আর আসেনি।

 

 

যুবদলের তৃণমূলের নেতাদের সূত্রে জানা যায়, পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি ও মহানগর যুবদলের আওতাভুক্ত থানা ইউনিয়ন কমিটিগুলো না হওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ হল প্রটোকল অনুযায়ী তারা কমিটিগুলো গঠন করেনি। এছাড়া যারা শহরের বাসিন্দাও না তাদেরও নানা অযুহাতে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছেন।

 

 

এর থেকে অন্যতম বড় একটি কারণ হচ্ছে কমিটি নিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগে স্থানীয় গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই অর্থের ঘটনা নিয়ে যুবদলের নেতারা প্রতিবাদও করেছেন যেটা গণমাধ্যমেও এসেছে।

 

 

তাদের এসব অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে বিতর্কিত হওয়ার কারণে তাদের নেয়া সকল ধরণের পদক্ষেপ ম্লান হয়ে গেছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ যার মধ্যে অন্যতম হল তাদের মহানগর যুবদলের সুপার ফাইভে বিভক্ত সৃষ্টি করেছে। আর এই বিভক্তি সৃষ্টি করা ছিল তাদের কৌশল।

 

 

এই কৌশল অবলম্বন করে সুপার ফাইভের অন্যদের সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে নিস্ক্রিয় করে রাখা। আর এই বিভক্তির কথা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে উপস্থাপন করে নিজেদেরকে বিভক্তির নৈপথ্য থেকে নিজেদের নির্দেশ জাহির করতে চাচ্ছেন। কিন্তু তাদের সকল ধরণের কৌশল ব্যার্থ হয়েছে।

 

 

কারণ বর্তমান সময়ে তাদের থেকে সবচেয়ে বেশী গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে সুপার ফাইভের অন্যান্য নেতাদের। তারা মহানগরের সকল ইউনিট থেকে যে নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা সমাবেশ করে তার চেয়ে অধিক পরিমাণ কর্মী সমর্থক নিয়ে পৃথকভাবে সুপার ফাইভের অন্যান্য নেতারা সভা সমাবেশ সফল করে যে বিষয়টি গণমাধ্যমে উল্লেখিত হয়েছে।

 

 

যুবদলের তৃণমূল সূত্রে আরো জানা যায়, তাদের এই স্বার্থলোভী নেতৃত্বের কারণে যুবদলকে হযবরল অবস্থায় পরিণত করেছে। তাদের এসব কর্মকান্ড করার অন্যতম কারণ হল জেলার এক কেন্দ্রীয় নেতার মন রক্ষার্থে পাশাপাশি তাকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে, তার পরামর্শে সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে।

 


এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মমতাজ উদ্দীন মন্তুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
 

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম সজল জানায়, ‘আমি কমিটিতে পদ পাওয়ার পর মাঝখানে গ্রেপ্তার হলাম তারপর কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙ্গে দিল নতুন কমিটি আসলো; নতুনদের সাথে চেষ্টা করছি কমিটি অনুমোদনের জন্য।

 

 

কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যস্ততার কারণে বিভিন্ন কর্মসূচীর কারণে সময় দিতে পারছে না, তবে আমরা যে প্রক্রিয়ায় আগচ্ছি খুব শীঘ্রই কমিটি অনুমোদন দিবে আশা করি। কমিটি গঠনে অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়ে বলেন, আসলে এই কথাটি অবশ্যই সত্য না। আর যদি সত্য হয় কেউ সঠিক তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে আমাদের বিরুদ্ধে; যে আমরাই এই কাজগুলো করছি তাহলে আমরা ওই অনুযায়ী কথা বলবো।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘একটা আহবায়ক কমিটির মূল হচ্ছে আহবায়ক সদস্য সচিব আর এই দুজনের কাছে মূল নেতৃত্ব থাকে আর যারা আছে তারা আমাদের সহযোগী। আর সংগঠনের প্রোগ্রামে যারা ষড়যন্ত্র করবে বা করে তাদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।

 

 

দল আমার ব্যক্তিগত না দলের নেতা হয়ে থাকলে দলের কর্মসূচী সফল করার চেষ্টা করবে। সংগঠনের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বলেন, সবাইকে নিয়ে সব সিদ্ধান্ত হয় না। সিদ্ধান্ত অনেক সময় দুইজনকে নিতে হয় পাঁচজনকে বলতে হয়। সব সিদ্ধান্ত সব সময় পাঁচ জনে হয় না।

 

 

সংগঠনে এখনো কমিটির অন্যদের উপস্থিতি আছে এবং প্রোগ্রামে আসে ঠিকই এবং একা মিছিল নিয়ে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন; ফটোসেশন করে চলে যায়। অনেকে সংগঠনে দুষ্টামী করতে চায় কাঙ্খিত পদ পায়নি; আমিই আহবায়ক হতে পারতাম সদস্য সচিব হতে পারতাম সংগঠন দেই নাই।

 

 

অনেকে দুষ্টামী করে সংগঠনের প্রোগ্রাম নষ্ট করতে চায়। তখন এসব জিনিস এড়ায় চলতে হয়। আর আমরা কারো বিপক্ষে না, সংগঠনে কাজ করলে দল অবশ্যই মূল্যায়ন করবে। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন