Logo
Logo
×

রাজনীতি

থমকে আছে জাতীয় পার্টি

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২২, ০৪:২৬ পিএম

থমকে আছে জাতীয় পার্টি
Swapno


# দলীয় কর্মসূচী পালন করছি, আলাদা কর্মসূচির ইস্যু নেই : দুলাল

# ইউনিট কমিটি গঠন শেষে একটি সমাবেশের আয়োজন করবো : ইকবাল
 

নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে চলমান আছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম। বৃহত্তর সংগঠন হিসেবে দলাদলি, রেষারেষি বা পক্ষ-বিপক্ষের অভিযোগ থাকলেও বিভিন্ন দিবস ও উপলক্ষকে কেন্দ্র করে কর্মসূচী চলছে নিয়মিত। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিও সম্মেলনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এখন থাকছে মাঠে।

 

 

তবে সরকারের একটি অংশ হয়েও এবং নতুন করে সম্মেলন করার মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করার পরও একেবারে চুপ হয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি। এমনকি গত ১০ অক্টোবর জাতীয় পার্টি নারায়ণগঞ্জের এক সময়ের কর্ণধার, যিনি নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের গুরু হিসেবে পরিচিত প্রয়াত সেই সাংসদ একেএম নাসিম ওসমানকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সম্মাননা হিসেবে তার নামের সেতু উদ্বোধন করা হয় তখনও একটি সুযোগ ছিল পার্টিকে উজ্জীবিত করার।

 

 

সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ হতে তখন অনেক বড় পরিসরে এই আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের এই উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনের এলাকাটি অর্থাৎ কদম রসুল সেতুটি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের অন্তর্ভূক্ত। যে আসনের বর্তমান সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানও জাতীয় পার্টির মনোনীত।

 

 

যার নামে সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে তিনিও জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ এবং জাতীয় পার্টিকে নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিতও করেন তিনি। তাই এত বড় আয়োজনেও দলের পক্ষ হতে আলাদা কোন উদযাপন বা নেতাকর্মীকে চাঙা করার মতো কোন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়নি।

 

 

নেতা-কর্মীদের মতে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয় সংগঠনকে চাঙা করার জন্য। অথচ জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষণার পর যেন পুরো কমিটিই হিমাগারে চলে গেছে। তাই এই অচল কমিটিকে সচল করতে না পারলে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয় একই সাথে যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলে জাতীয় পার্টিকে এবার চরম মূল্য দিতে হবে বলে অনেকের ধারণা।

 


 বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য মতে, কমিটিকে চাঙা করার লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন। বন্দরের সমরক্ষেত্র ’৭১এর মাঠে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সানাউল্লাহ সানুকে সভাপতি ও আবু নাইম ইকবালকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা জাতীয় পার্টির কমিটি এবং মোদাসেরুল হক দুলালকে সভাপতি ও নাসিক কাউন্সিলর আফজাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

 

 

অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি একেএম নাসিম ওসমান এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা ও ও তৎকালীন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে ১৯৯৯ সালে এই সম্মেলন হয়েছিল। এই দুই নেতাই এখন প্রয়াত। তখন রাইসুল হককে সভাপতি ও লিয়াকত হোসেন খোকাকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি এবং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ দুলালকে সভাপতি ও আবুল খায়ের ভূইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে শহর জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

 

 

মূলত নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টিকে প্রতিষ্ঠিত করেন ওসমান পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের জ্যেষ্ঠ ছেলে একেএম নাসিম ওসমান। তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং দৃঢ়তার কারণে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টি একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়। ২০১৪ সালে নাসিম ওসমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পর্টির হাল ধরেন তারই ছোট ভাই সেলিম ওসমান।

 

 

বর্তমানে তার বয়স হয়েছে, শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায়ও ভুগছেন তিনি। তার পরও সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছাড়া বর্তমানে জেলা বা মহানগর জাতীয় পার্টির কোন বড়সড় আয়োজন দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন ইস্যুতে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির মতো দলগুলো যখন বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়ে ব্যস্ত তখন জাতীয় পার্টি অনেকটাই ঘরবন্দী হয়ে আছে।

 

 

তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নাসিম ওসমানের পর নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির হাল ধরেছেন সেলিম ওসমান। সেলিম ওসমানের পর দলটিকে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কাউকে এখনো তৈরি হতে দেখা যায়নি।

 

 

যদিও এরই মধ্যে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে দলীয় মনোনয়নে চারবারের নির্বাচিত সাংসদ একেএম নাসিম ওসমান (প্রয়াত)’র সহধর্মিনী পারভীন ওসমান দলটির নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য তৈরি হওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে তাতে বিভিন্ন বাধার মুখে পড়ছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়। তাহলে জাতীয় পার্টির পরবর্তী কর্ণধারের জন্য কে প্রস্তুত হচ্ছে তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে বিস্তর আলোচনা।

 


 
জাতীয় পার্টির নিষ্ক্রিয়তার বিষয় জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম ইকবাল বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রয়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমানের নামে নামকরণ হওয়া সেতুটি উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়েছে সরকারের পক্ষ হতে।

 

 

নাসিম ওসমানের কারণেই এই সেতুটি হয়েছে, আমরাতো অবশ্যই তাকে সম্মান দেখাই। আমরা দলীয় ফোরামে বসে এই ব্যাপারে প্রোগ্রামের একটি সিদ্ধান্ত নিব। তিনি বলেন, নতুন জেলা কমিটি হওয়ার পর থেকে দলীয় কার্যক্রম অনেকটাই চাঙা হয়েছে। আমরা এখন ইউনিট কমিটি গুলো গঠনের কাজ করতেছি।

 

 

এই কাজগুলো শেষ করে আমরা আশাকরি জেলা পর্যায়ের একটি সমাবেশ করব। বিএনপি সরকারকে নামানো চেষ্টায় আন্দোলন করছে, আওয়ামী লীগ সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করতেছে। আমরা সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছি। এরই পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে আমাদের সংগঠন ঝিমিয়ে পড়েনি।’


 


মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোদাসেরুল হক দুলাল যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রয়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমানের নামে নামকরণ হওয়া সেতুটি উদ্বোধনের আয়োজন সরকার থেকে করা হয়েছে। এই বিষয়ে কোন প্রোগামের আয়োজনের সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। হয়তো আমরা আগামীতে প্রোগ্রামের সিদ্ধান্ত নিব।’

 

 

তিনি বলেন, ‘আসলে সম্মেলনের পর থেকে জাতীয় পার্টি নীরব হয়নি। আমরা জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানগুলো এবং দলীয় কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলো আমরা পালন করে যাচ্ছি। এমনিতে আলাদা কর্মসূচী করার মতো কোন ইস্যু নেই। অন্যান্য দলগুলোর কেন্দ্রীয় কর্মসূচী আছে বিধায় তা পালন করতেছে। আমাদেরও যদি কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠান দেওয়া হয় আমরাও সেগুলো পালন করি।’ এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন