# এক সপ্তাহ দূরে আ’লীগ জেলা ও মহানগর সম্মেলন
# কমিটির শীর্ষ পদ নিয়ে আলোচনায় আছেন এমপি ও মেয়র
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর কমিটি এক দশক মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পর এ মাসেই গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি কমিটি পুনর্গঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৩ ও ২৫ অক্টোবর ঈদগাহ সংলগ্ন ওসমানী নগর স্টেডিয়ামে যথাক্রমে জেলা ও মহানগর ত্রৈবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এজন্য নারায়ণগঞ্জে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এখন সাজ সাজ রবে প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে এখানে আওয়ামী লীগের তিন জন নেতাকর্মী একত্রিত হলেই আসন্ন কমিটি গঠন নিয়ে আলাপ আলোচনায় মুখর হয়ে উঠে পরিবেশ।
কে কোন কমিটিতে সভাপতি বা সেক্রেটারী হচ্ছে, কার বিরুদ্ধে বিতর্ক চরমে থাকায় তার আর ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা নেই, অথবা কে দলীয় সভাপতির আশীর্বাদে ধন্য হবে।
জেলা সভাপতি কে হতে পারেন, এ নিয়ে আলাপকালে জানা গেছে, মন্ত্রী গোলাম দস্তীর গাজী, এমপি শামীম ওসমান, কমিটির বর্তমান সভাপতি আবদুল হাই,আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদ সদস্য এড. আনিসুর রহমান দীপুসহ প্রমুখ এর পদে আলোচনায় আছেন।
এর মধ্যে শামীম ওসমান ইতিপূর্বে জেলা সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তার বলয়ের নেতা-কর্মীরা চাচ্ছেন সে এবার সভাপতি পদে প্রাতদ্বন্দ্বিতা করুক। বর্তমান সভাপতি আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অনৈতিক কমর্কাণ্ড, অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং পদ,কমিটি ও মনোনয়ন বাণিজ্যের পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ রয়েছে।
স্থাণীয় পত্র পত্রিকায় জেলা সভাপতি প্রার্থী হিসেবে আরও যাদের নাম এসেছে তারা হলেন জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল কাদির, আরজু রহমান ভুইয়া, মিজানুর রহমান বাচ্চু প্রমুখ।
এদিকে গত সোমবার ‘বোস কেবিনে’ আলোচনাকালে জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য শামসুজ্জামান ভাসানী বলেন, যাদের নিয়ে পত্র-পত্রিকায় আলোচনা হচ্ছে তাদের তুলনায় আমি নিজেকে নেহায়েত অযোগ্য মনে করি না। তাই আমাকেও সভাপতি প্রার্থী তালিকায় রাখতে পারেন।
জেলা সাধারন সম্পাদক পদে যারা আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, বর্তমান সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল ওরফে ভিপি বাদল, জাহাঙ্গীর আলম, শাহ নিজাম প্রমুখ।
এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুকে নিয়েই আলোচনা বেশী। তার প্রতি আইভী বলয়েরও সমর্থন রয়েছে। ওদিকে জেলা সভাপতি আঃ হাইয়ের মতো ভিপি বাদলের বিরুদ্ধেও নানা অনৈতিকতার অভিযোগ কেন্দ্রে জমা হয়েছে। তবে বন্ধু হিসেবে তার প্রতি শামীম ওসমানের সর্বাত্মক সমর্থন রয়েছে।
মহানগর সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন, শাহ নিজাম, আবু সুফিয়ান প্রমুখ। এর মধ্যে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধেও জেলা সভাপতি আবদুল হাইয়ের মতো নানা ব্যার্থতা ও অনৈতিকতার অভিযোগ কেন্দ্রে জমা হয়েছে। শাহ নিজাম শামীম বলয় এবং আবু সুফিয়ান আইভী বলয়ের নেতা।
এদিকে, একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি জেলা ও মহানগর কমিটির বধির্ত সভায় এসে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক এমপি মির্জা আজম বলেছেন, বিভিন্ন স্থানে মেয়ররাই মহানগর কমিটির সভাপতিও।
সে ধারা বজায় রাখতে মেয়র আইভীরও মহানগর সভাপতি প্রার্থী হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে, মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, মেয়র আইভীর মহানগর সভাপতি হওয়ার কোন খায়েশ নেই।
এদিকে, মহানগর সাধারন সম্পাদক হিসেবে যারা আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জিএম আরাফাত, শাহ নিজাম, এস এম আহসান হাবীব, জিএম আরমান, এহসানুল হক নীপু প্রমুখ। আর এই এহসানুল হক নীপু হচ্ছেন এমপি শামীম ওসমানের শ্যালক।
এদের মধ্যে এড. খোকন সাহা ব্যর্থতা ও অনৈতিকতা দোষে আবদুল হাই ও ভিপি বাদলের মতোই দুষ্ট। তাছাড়া দলের মধ্যে আভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টির মাষ্টার হিসেবেও তিনি বেশ সুপরিচিত।
ইতিপূর্বে তিনি মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগে দিনের পর দিন আন্দোলন ও কুৎসা কীর্তন করেছেন। হিন্দু-মুসলমান দুটি সম্প্রদায়কেই তিনি আইভীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানীও দিয়েছেন।
তবে, যে যাই বলুক না কেন, তাতে কাজের কাজ কিছুই হবে না। রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী জেলা হিসেবে সকল দলের নিকট নারায়ণগঞ্জ জেলার রয়েছে আলাদা গুরুত্ব ও তাৎপর্য।
সচেতন রাজনৈতিক মহলের মতে স্বয়ং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি ও জেলা কমিটিগুলো চূড়ান্ত করবেন। আর দলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, এ বেদ বাক্য কারো অজানা থাকার কথা নয়। এন.এইচ/জেসি


