Logo
Logo
×

রাজনীতি

এমপি খোকার বিরুদ্ধে নির্বাচনে জোর প্রয়োগের অভিযোগ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২২, ০৬:১৯ পিএম

এমপি খোকার বিরুদ্ধে নির্বাচনে জোর প্রয়োগের অভিযোগ
Swapno


# আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিছে: এমপি খোকা

# সকলের দোয়ায় এবারও জয়ী হবো : মাসুম
 

আজ নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা মনোনয়ন নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি বাবু চন্দন শীল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে।

 

 

সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের ৫টি সাধারন সদস্য পদ থেকে ২ টি সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সদস্য হয়েছে। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাযায়, রূপগঞ্জ উপজেলা ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় আনসার আলী জয়ী হন। অপর দিকে আড়াই হাজার উপজেলা থেকে মিয়া আলা উদ্দিন বিনা ভোটে সদস্য পদে জয়ী হন।

 



এখন সাধারণ সদস্য ১ থেকে ৩ নম্বর ওয়ার্ড ও ২ টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে আজ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে এই ভোট গ্রহণের জন্য বিভিন্ন এলাকার ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহনের সরাঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

 

 

আজ সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। এতে জেলার ৫টি উপজেলার চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন মেম্বার, সিটি মেয়র, কাউন্সিলর ও পৌর মেয়ররা ভোট প্রদান করবে।  

 


এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থী আবু নাইম ইকবালের তালা প্রতীকের পক্ষে সোনারগাঁ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁ উপজেলা জনপ্রতিনিধিদের আটকে রেখে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

 

 

একই সাথে তারা সাঙ্গপাঙ্গরা সাংসদ খোকার ভাতিজা জাবেদ হিরু শামীমের নিজ বাড়িতে ওই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বারদের ডেকে নিয়ে তালা প্রতীকে ভোট দিতে হুমকি দিচ্ছে। একই সাথে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে বলে জানান হাতী মার্কার প্রার্থী মাসুম।

 

 

সেই সাথে সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা ওই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের ডেকে নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রলোভন দেখিয়ে তালা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়।

 

 

তবে সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন সোনারগাঁ ৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। সেই সাথে ‘তিনি কাউকে প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চান নাই’, বলে জানান।
 

 


এদিকে জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা সহ তার ভাতিজা এবং সাঙ্গপাঙ্গরা মেম্বারদের নিয়ে যে ধরনের কর্মকান্ড করছে তা নিয়ে রাজনৈতিক বোদ্ধামহলে ব্যপক আলোচনা চলছে। সেই সাথে তারা প্রশ্ন তুলেন জাতীয় পার্টির নেতা ইকবালকে জয়ী করার জন্য এমপি খোকার এত মাথা ব্যথা কেন। তাকে প্রকাশ্যেই কেন ভোট চাইতে হবে।

 

 

কেননা এখানে ভোট দিবে সচেতন জনপ্রতিনিধিরা। কোন সাধারণ মানুষ ভোট দিবে না। জনপ্রতিনিধিরা কাকে ভোট দিবে তা তাদের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দিতে হবে। মানুষ ভোটের প্রতিফলনের মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তিকে দেখতে চায়। এই ভাবে হুমকি দিয়ে নয়। তাই এমপি খোকা সহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের কর্মকান্ডের জন্য ধিক্কার জানান তারা।

 


   
অরপদিকে মাসুম জানান, আমি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। এমপি হয়ে জনপ্রতিনিধিদের ডেকে নিয়ে ইকবালের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করছে, যা নিন্দনীয়। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একজন এমপি প্রকল্পের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করতে পারেন না।

 

 

তাছাড়া এই সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে যখন হেফাজত নেতারা মামুনুল কান্ডে হামলা করে তখন ওই হামলার মামলা জাতীয় পার্টির ইকবালও আসমী হিসেবে রয়েছে। তাই আজ সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ আমার পক্ষে হাতী মার্কাকে জয়ী করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

 


 
এছাড়া তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর আগে এমপি খোকা প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনা করে বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নিয়ে সভা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তাকে ডিসি সতর্ক করার পরেও তিনি নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে চলেছন।

 



অভিযোগে উল্লেখ্য করে জেলা পরিষদের সোনারগাঁ উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সদস্য প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম বলেন, আমি সোনারগাঁ সাবেক সদস্য হিসেবে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। গতবার আমাকে পরাজিত করতে না পেরে;

 

 

এবার আমার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী তালা প্রতীকের আবু নাইম ইকবালের পক্ষ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা প্রকাশ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচনের আওতাধীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন।

 

 

এছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রজেক্ট টিআর ও কবিখা কাজ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বল প্রয়োগ করে তালা প্রতীকের প্রার্থী ইককবালের পক্ষে ভোট প্রদানের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তাই জনপ্রতিনিধিরাও তার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আছে। এমপি খোকা এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই।

 


জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সোনারগাঁ ৩ আসনের  এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, ‘আমার নামে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আর টিআর এবং কাবিখা প্রকল্প এটা আমাদের সোনারগাঁ ৩ এলাকার উন্নয়ন মুলক কাজ, যা নিয়মিত হয়ে থাকে। আর আমি এখানে ভোট চাইবো কেন; আমার সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’

 


জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ জানান, ‘যাদের ডেকে নিয়ে ভয় ভীতি বা হুমকি দিচ্ছে তারা কেউ যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 


জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘কেউ যদি নির্বাচনে অরাজাকতা করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এন.এইচ/জেসি  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন