# প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারী বিষয়টি দেখবেন : কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে বেশ কয়েকদিন যাবৎ ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। বরাবরই আলোচনা সমালোচনার তোপ আহবায়ক মন্তু সদস্য সচিব সজলের দিকেই যাচ্ছে। কারণ বর্তমান সুপার ফাইভ কমিটির অন্যান্যদের কোন রকম সিদ্ধান্তে না রেখে, মন্তু-সজলের একক সিদ্ধান্তেই পরিচালিত হচ্ছে মহানগর যুবদল।
সুপার ফাইভের অন্যদের সাথে সমন্বয়হীনতা ও তাদের নিশক্রিয় করে রাখার পিছনে একটি কারণই বরাবর উল্লেখিত হয়ে আসছে। মন্তু-সজল কমিটি বানিজ্যের মাধ্যমে তাদের পছন্দের লোকজনদের কমিটি পদায়ন করতে চাচ্ছেন।
যার অন্যতম কারণ হচ্ছে তাদের পছন্দ লোকেদের দ্বারা কমিটি গঠন করতে পারলে তাদের একক সিদ্ধান্তই সবসময় প্রধাণ্য পাবে মহানগর যুবদলে।
পাশাপাশি মহানগর যুবদলের কমিটি মন্তু-সজলের নেতৃত্বে বাগিয়ে নিয়ে আসতে পারে তাহলে মহানগরের যুবদলের আওতাভুক্ত প্রতিটি থানা ওয়ার্ড কমিটিতে তাদের পছন্দের নেতাদের পদায়ন করে একছত্র অধিপত্য বিস্তার করবেন।
সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের দিকে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য ৭১ অথবা ৮১ সদস্য বিশিষ্ট খসড়া কমিটি জমা দেয় মন্তু-সজল। কিন্তু খসড়া কমিটি গঠনের সময়ও সুপার ফাইভের অন্যদের মতামত বেশি একটা পাত্তা দেয়নি।
তারা তখন খসড়া কমিটিতে পদায়নের নামে বিভিন্ন যুবদলের নেতাদের লোভ লালসা দেখিয়ে কমিটি বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সেসময় নজরুল ইসলাম আজাদের নির্দেশনায় মহানগরের বাইরের কিছু সংখ্যক নেতাদেরও নানা অযুহাতে এই কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত করার অভিযোগ উঠে।
পাশাপাশি এই কমিটি পুরোটাই আজাদের নির্দেশনায় তার বলয়ের নেতাদের দিয়েই সাজান মন্তু-সজল। সেখানে সুপার ফাইভের তিন যুগ্ম আহবায়কের সুপারিশকৃত নেতাদের বেশী একটা প্রধান্য দেয়া হয়নি। কিন্তু সে কমিটিকে এখন পর্যন্ত অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্রীয় কমিটি।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবারও মহানগরের যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রে থেকে নির্দেশনা দেয়া হয় সুপার ফাইভের নেতাদের সমন্বয়ে পূর্বের ৭১ বা ৮১ সদস্য বিশিষ্ট যে কমিটির খসড়া জমা দিয়েছে মন্তু-সজলকে সেটা পরিবর্তন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুয়ায়ী পূর্বের খসড়া কমিটিকে পরিবর্তন করে ৩১ সদস্য খসড়া কমিটি করে জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু এখনো সুপার ফাইভের অন্যদের কেন্দ্রীয় নতুন নির্দেশনার বিষয়ে অবগত করেনি আহবায়ক ও সদস্য সচিব। কারণ তারা তাদের একক সিদ্ধান্তে সর্বদা অটল।
তারা আবারও কৌশল অবলম্বণ করে সুপার ফাইভের অন্যান্য সদস্যদের সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত রেখে তাদের পছন্দের লোকজনদের দ্বারা আবারও কমিটি পরিবর্তনের নামে কমিটি বানিজ্যের পাঁয়তারা করছেন। যেটা যুবদলের সদস্য সচিবের গণমাধ্যমের একটি বক্তব্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
সে বলছে, ‘সবাইকে নিয়ে সব সিদ্ধান্ত হয় না; সকল সিদ্ধান্ত পাঁচ জনে হয় না। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমেই পরিলক্ষিত হয় যে আগামীতে দিন গুলোতে যুবদলকে তার কিভাবে তাদের নিয়ন্ত্রেণে নিতে যাচ্ছেন। তাছাড়া যুবদলের চেইন অব কমান্ডকে ভঙ্গ করে তারা তাদের মনগড়া নিয়ম নীতি দেখিয়ে মন্তু-সজল তাদের স্বার্থকে প্রতিষ্ঠিত করতে মগ্ন হয়ে আছেন।
তাদের বেপরোয়া হওয়ার পিছনে একজন ব্যাক্তিই সবসময় আড়াল থেকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন, আরতিনি হলেন নজরুল ইসলাম আজাদ। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সকল কমিটিতেই আজাদের লোকজনদের পদায়ন করে একছত্র প্রভাব বিস্তার করার পাঁয়তারা করে যাচ্ছেন।
আজাদের প্রেশক্রিপশনেই যুবদলকে পকেটে পুরতে মন্তু-সজল ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি তৃণমূলের কর্মীরা এসব ঘটনার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে মহানগরের যুবদলের রাজনীতে থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
যার কারণে মহানগর যুবদল সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়ছে। তৃণমূলকর্মীরা অভিযোগ করে আরও বলেন মহানগর যুবদলকে লন্ডবন্ড করতে এসব কর্মকান্ড এখনো চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন জানায়, ‘মহানগর যুবদলে যদি কোন সমস্যা হয়ে থাকে আমাদের দপ্তরে জানালে আমাদের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারী আছে আমরা সকলে মিলে বসে কথা বলব সিদ্ধান্ত নিব।’
কমিটি গঠনে অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়ার বিষয়ে বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই, আর যদি এরকম কোন কিছু নেতা-কর্মীদের জানা থাকে তাদের কাছে যদি সঠিক তথ্য প্রমাণ থাকে; তারা কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে পারে আমাদের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারী আছে তারা বিষয়টি দেখবেন। সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যা যা পদক্ষেপ নেয়ার তাই নেয়া হবে। এন.এইচ/জেসি


