# না’গঞ্জের দায়িত্ব থেকে অপসারণের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না : আবদুস সালাম
# অসাংগঠনিক কাজ করলে দলের অনেক ক্ষতি হবে : সেন্টু
# তার দায়িত্বের বিষয়ে মুকুল অপপ্রচার চালাচ্ছে : টিপু
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নতুন আহবায়ক কমিটি গঠনের পর থেকেই শুরু হয়েছে রেষারেষি, বক্তব্য পাল্টা-বক্তব্য এবং কাঁদা ছোড়াছুড়ি। তবে বর্তমান কমিটির বিরোধীদের পক্ষ হতে গত শনিবার মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের একটি বক্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বন্দরের মদনপুরের একটি সভায় তিনি জানিয়েছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদকে নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তিনি বিষয়টি যুগের চিন্তাকেও নিশ্চিত করেন।
কিন্তু তথ্যটিকে মিথ্যে ও বানোয়াট বলে দাবি করছেন কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবসহ কমিটির পক্ষের নেতৃবৃন্দ। এমনকি যাকে নিয়ে এই মন্তব্য, তিনিও মুঠোফোনে যুগের চিন্তা’কে নিশ্চিত করেছেন যে, ‘এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন।
গত শনিবার বন্দরের মদনপুরে অনুষ্ঠিত এক দলীয় সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলের আবদুস সালাম আজাদকে নারায়ণগঞ্জ জেলার কার্যক্রম থেকে সরিয়ে ফেলার বক্তব্যের বিষয়ে দলীয় অনেক নেতা কর্মীকেই বলতে শোনা যায়, তাহলে কি মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে আবারও আহবায়ক কমিটি দেওয়া হবে?
এই বিষয়টি নিয়ে গতকাল দৈনিক যুগের চিন্তায় সংবাদ প্রকাশ হলে এর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টিকে একেবারেই ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেন কমিটির সদস্য সচিবসহ দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এবং ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি অবগত না, এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এসব কথা অপপ্রচার করছে সেখানকার পদত্যাগকারীরা। আর যারা অব্যাহতি নিয়েছে তারা বিএনপির দলেই নাই। অব্যাহতিপ্রাপ্তরা যা তাদের মনে চায় তা তারা বলতেই পারে।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে আমরা কমিটি দিয়েছি, তারাতো কাজ করতেছে। যারা কমিটি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন, তারাতো কমিটিতেই নেই। মান-অভিমান থাকবেই, দল করলে সবই ঠিক হয়ে যাবে। যারা আন্দোলনে যোগ দিতে চায় তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে, আর যারা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে তারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।’
এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদকে নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়। আপনারা মুকুলের (আতাউর রহমান মুকুল) দেওয়া তথ্যে বিশ্বাস করবেন না।
বিএনপির মধ্যে দ্বিধা বিভক্ত করে সে প্রোগ্রাম করতেছে, এটা কেন? আগামী জাতীয় নির্বাচনেও সে সেলিম ওসমানকে (নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান সাংসদ) ওয়াক ওভার দিতে চায়, যাতে আবারও সে এমপি হতে পারে। সেই সুবাধেই সে বিএনপিতে দ্বিধাবিভক্তি কর্মসূচী করে; এটাতো বাস্তব সত্য।
গতকালও আবদুস সালামের সাথে কথা হয়েছে। তিনি আমাদের খোঁজ খবর নিয়েছেন। তাই তার দায়িত্বের বিষয়ে মুকুল অপপ্রচার চালাচ্ছে, সে স্ট্যন্টবাজি করছে। ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ, সে এখনি দেখাচ্ছে প্রস্তুতি সভা।
বিগত ৫ বছর সে কি করছে, মা’র চেয়ে মাসির দরদ বেশি। এখন অক্টোবরও শেষ হয়নি। সে ১০/১২ জন নিয়ে সভা করে দেখাইতেছে। রাজনীতি আমার নেশা, আর মুকুলের রাজনীতি পেশা।’
এই বিষয়ে সাবেক মহানগর বিএনপির কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু জানান, ‘আব্দুস সালাম ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ওনার দায়িত্ব ছিল একটি কমিটি করে দেওয়া। আগের কমিটির কারও সাথে আলাপ আলোচনা না করেই একপেশে একটি কমিটি করে দিয়েছে।
বিগত কমিটি থাকাকালে কেন্দ্রের এমন কোন প্রোগ্রাম নেই যা বাস্তবায়ন করা হয়নি। কেন্দ্র ঘোষিত কোন প্রোগ্রাম মিসিং হয়েছে কি না, তা আমার জানা নাই। বৈরি পরিবেশে থেকেও আমরা সেসব আয়োজন সম্পন্ন করেছি। মিডিয়ার উপস্থিতির মাধ্যমেই কিন্তু আমাদের ব্যানার কেড়ে নিয়ে আমাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।
এসব কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীগণ কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। সেই কমিটির মাধ্যমে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রাথমিক সদস্য পদ সংরক্ষণ করেছি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী এসএম আকরাম সাহেবের নির্বাচন করতে গিয়ে সেই ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২২দিন আমি কারাগারে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিলাম।
সেই কমিটির মাধ্যমেই আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রথম সুপার ফাইভ এবং পরে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেছি। এখনকার সদস্য সচিব তখন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আমাদের সাথে মিলে মিশেই মাঠ পর্যায়ে কাজগুলো করেছেন। তাই আমাদের সাংগঠনিক কোন ব্যর্থতা নাই।
তাই যদি আমাদের কমিটি ভেঙে দিতে হয় তাহলে সাংগঠনিক নিয়মানুযায়ী কমিটির সভাপতি, সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে আমাদের না জানিয়ে, কমিটি ভেঙে নতুন একপেশে আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, এসব বিষয়গুলো তুলে ধরে আমরা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বরাবার দলীয় মহাসচিবের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ করেছি। সেই কাগজে মহসচিব চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক লিখে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক যে অনিয়ম করেছেন, সেই অনিয়মটা আমরা তুলে ধরবো কাগজে সেটাই আমাদের বক্তব্য ছিল। আমরা সবাই বন্ধু, সবাই ভাই। কিছুদিন আগেও আমরা সবাই একসাথে কাজ করেছি। যারা কমিটিতে আছে তাদের সাথে আমাদের কোন দ্বন্দ্ব নাই।
দ্বন্দ্ব হলো ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ যে অনিয়মভাবে কমিটি করেছে, সেই অনিয়মের বিরুদ্ধে। বিষয়টি যাচাই বাছাই করার জন্য এখন দায়িত্বটি চেয়ারম্যানের (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের) হাতে চলে গেছে।’
তাই আমি মনে করি, ‘আবদুস সালামের আজাদের হাতে আর কিছু নাই। তাকে দায়িত্বে রাখলো নাকি সরালো সেই বিষয়ে আমার কিছু বলার নাই। সেতো সংগঠনের যা ক্ষতি করার করেই দিয়েছে। সে যে অসাংগঠনিক কাজটা করেছে সেই অসাংগঠনিক কাজ যদি অন্যান্য জেলায়ও করে, তাহলে আগামী দিনে দল এবং সংগঠন আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এন.এইচ/জেসি


