Logo
Logo
×

রাজনীতি

মোড়কে আওয়ামী লীগ, অন্তরে জাপা

Icon

ইফতি মাহমুদ

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২২, ০৮:১৭ পিএম

মোড়কে আওয়ামী লীগ, অন্তরে জাপা
Swapno


#  আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাসুমের ভরাডুবিতে আবারো প্রমাণিত

# জাতীয় নির্বাচনেও আসতে পারে একই হিসেব-নিকেশ
 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩নং সাধারণ আসনের নির্বাচনে তুমুল লড়াইয়ের আশংকা ছিল। আর সেই লড়াইটা ছিল আওয়ামী লীগ বনাম জাতীয় পার্টির লড়াই। আর এই লড়াইয়ে সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা অনেকটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

 

 

এছাড়াও চ্যালেঞ্জটা ছিল সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত বনাম বর্তমান এমপি খোকার; সোনারগাঁয়ের জনপ্রতিনিধির কাছে কার গ্রহণযোগ্যতা বা জনপ্রিয়তা কতটুকু তা আবারো প্রমাণিত হলো বলে মনে করছেন রাজনীতি সচেতন মহল। এছাড়া নব গঠিত সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের কমিটির গ্রহণ যোগ্যতা কতটুকু রয়েছে সোনরাগাঁয়ের আওয়ামী লীগে সেটা প্রমাণ করাও ছিল বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

 

 

কারণ সোনারগাঁয়ের ৭টি ইউপি চেয়ারম্যানও নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পাশাপাশি অনেক জনপ্রতিনিধিরাও স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সাথে জড়িত। কিন্তু সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের এত দহরম মহরম  থাকার পরও জেলা পরিষদ নির্বাচনের ৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ আসনে আওয়ামী লীগের সমর্থিত হাতি প্রতীকের মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম জাতীয় পার্টি থেকে সমর্থিত তালা প্রতীকের প্রার্থী নাঈম ইকবালের কাছে বিশাল ভোটের ব্যবধানে ধরাশয়ী হয়েছেন।

 

 

এর মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয় যে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের একটি অংশ জাতীয় পার্টির এজেন্ট হয়ে কাজ করছে আর সেই দাবিটি আজকে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। আর এই পরজায়ের মাধ্যমে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সম্মেলনে মির্জা আজমের দেয়া বক্তব্যের বাস্তব রূপও প্রকাশিত হয়েছে।    


 


সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩নং সাধারণ আসনে ১৩২ জনপ্রতিনিধি ভোট প্রয়োগ করেন। ৩নং সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাতি প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম ৪৯ ভোট পান এবং জাতীয় পার্টি সমর্থিত তালা প্রতীকের প্রার্থী আবু নাঈম ইকবাল পান ৮৩ ভোট।

 

 

কিন্তু এই পরাজয় শুধু হাতি প্রতীকের হয়নি; এই পরাজয় হয়েছে সাবেক এমপি কায়সার ও সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের। সোনারগাঁ আওয়ামীলীগ ব্যর্থ হয়েছে জাতীয় পার্টির সাথে লড়াইয়ে। পাশাপাশি সাবেক এমপি কায়সার বর্তমান এমপির কাছে আবারও ধরাশয়ী হয়েছেন।

 

 

সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামেন হাতি প্রতীকের প্রার্থী মাসুমের পক্ষে। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের নিকট কায়সার হাসনাতের নেতৃত্বে ভোট প্রার্থণা করেন হাতি প্রতীকের প্রার্থী মাসুমে পক্ষে। মাসুমের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে ভোটের ময়দানে দেখা যায় সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সামসুল ইসলাম ভূইয়াকেও।

 

 

থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক থানা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পিরোজপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মাসুম। তারা সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা পাশাপাশি সাবেক এমপি উপজেলা চেয়ারম্যান। কিন্তু তাদের ভোট চাওয়া কতটুকু স্বার্থকতা পেয়েছে সেটা হাতি প্রতীকের প্রার্থী মাসুমের ফলাফলেই ফুটে উঠেছে।

 

 

এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হল সোনারগাঁ থানায় ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭জন চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত পাশাপাশি ২জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হলেও তারা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত কিন্তু একজন মাত্র চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টি সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। এতজন আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এখানে জাতীয় পার্টি সমর্থিত সদস্য প্রার্থী বিজয়ী হলেন তা এখন  জনমনে বিরাট প্রশ্ন।

 

পাশাপাশি সোনারগাঁয়ের বেশিরভাগই জনপ্রতিনিধিগণই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত তারপরও আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীর ভোটের ফলাফল জাতীয় পার্টির সাথে এত পরিমাণ ব্যবধানে পরাজিত হয় কিভাবে প্রশ্ন থেকেই যায়? তার মানে বুঝা যায় সর্ষের ভিতর ভূত এমনটাই সোনারগাঁ থানার জনপ্রতিনিধিদের চরিত্রে ফুটে উঠেছে।

 

 

সোনরাগাঁ থানা আওয়ামীলীগের নেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে বলেন সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ আছে দাবি করছে এই জেলা পরিষদের নির্বাচনেও এমন মন্তব্য বরাবরই করেছে। সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগ নবগঠিত কমিটি কতটুকু শক্তিশালী আর কতটা বাস্তবিক ঐক্যবদ্ধ; সেটা এই ফলাফলই নির্ধারণ করে দিয়েছে। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন