# আমি ভারপ্রাপ্ত আমার কাছে এ ধরণের কোন খবর থাকে না : রবি
# ইউনিট কমিটি হওয়ায় জেলার নেতৃত্ব নিয়ে ভাবছে না কেউ : রুহুল আমিন
# এখানে দক্ষ এবং শক্ত লোক থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ : খোকন
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর আগে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি গঠন করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি। আগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার প্রায় দশ মাস পর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সাবেক সভাপতি এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে আহবায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির অনুমোদন করা হয়।
এরপর বিভিন্ন নাটকীয়তার মাধ্যমে আহবায়ককে বহিস্কার, ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক নিয়োগ, তার কারাবরণ নতুন ভারপ্রাপ্ত নিয়োগ, আবার আগের ভারপ্রাপ্ত কারাগার থেকে ফিরে আসা পুনরায় তাকে ভারপ্রাপ্ত নিয়োগ এভাবে একটি হ-য-ব-র-ল অবস্থায় সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে জেলা বিএনপি।
অন্যদিকে একজনকে পদে আসতে না দেওয়া কিংবা নিজে পদ দখল করে রাখার জন্য কৌশল করা, নিজেদের কর্মসূচীতে নিজেদের দলীয় লোকের হামলা, দলীয় নেতাদের উপর নিজ দলীয় নেতাকর্মী কর্তৃক হামলার শিকার হওয়া সব কিছু মিলিয়ে জেলা বিএনপির খুবই বেহাল অবস্থা।
সাংগঠনিক সূত্র অনুযায়ী কোন একটি পুর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে তিন মাস মেয়াদের জন্য একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির মূল কাজ নতুন করে সম্মেলনের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করে তাদের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া।
কিন্তু তারাই যদি ইউনিট কমিটি গঠন করেন তাহলে মূল কমিটির কাজ ব্যহত হয় বলেও বিভিন্ন সাংগঠনিক সূত্র থেকে জানা যায়। কিন্তু প্রায় দুই বছর যাবত জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে কোন খবর নেই। এমনকি আহবায়ক কমিটির আহবায়ক নেই প্রায় দশমাস। চলছে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক দিয়ে।
আহবায়ক কমিটি এত দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ এবং দলের জন্য শোভনীয় কি না এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্য রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘আহবায়ক কমিটি গঠন করার জন্যতো কেন্দ্র থেকে আমাদের তিন মাসের জন্য সময় বেধে দেয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে আমরা অনেক এলাকায়ই এক জায়গায় বসে প্রোগ্রামও করতে পারি না।
এরই মধ্যে সোনারগাঁয়ের কাউন্সিলের সময় আমাদের বাধা প্রদান করা হয়েছে। রূপগঞ্জে আমাদের দাঁড়াতেই দেয়নি। তার পরও ১০টি ইউনিটের ৫টি গঠন করা হয়েছে। এসব কারণে আমরা আমাদের কাউন্সিলগুলো গোছাতে পারিনি। আমরা খুব শীঘ্রই বাকি ৫টি ইউনিটের কমিটি গঠন করতে পারবো বলে আশা করছি।
আমাদের বেশ কিছু কমিটি গঠন হয়ে যাওয়ায় জেলা কমিটির নেতৃত্বে কে আছে, আহবায়ক আছে কি না, ভারপ্রাপ্ত আহবায়কে কে আছে এসব দিকে তেমন একটা দৃষ্টি নেই। নতুন কমিটির ফলে আমরা যেকোন কর্মসূচীতে লোকজনের উপস্থিতি অনেক বেশি পাচ্ছি।’
কমিটি বাণিজ্য এবং নিজেদের পছন্দের লোককে কমিটিতে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় সংগঠন, তাই এসব টুকটাক অভিযোগ থাকতেই পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে যদি আরও শক্তিশালী নেতৃত্ব থাকতো তাহলে কর্মীরা আরও বেশি সুবিধা ভোগ করতো। তবে এখনকার নেতৃত্ব খুব বেশি দুর্বল বলে মনে করেন না তিনি।’
জেলা যুবদলের আহবায়ক গোলাম ফারুক খোকন বলেন, ‘যদিও আমি জেলা যুবদলের না, তবু বিএনপির একজন সমর্থক হিসেবে যদি বলি, কমিটির আহবায়ক ছিলেন এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, তিনি সিটি নির্বাচনের কারণে দল থেকে বহিস্কার হয়েছেন, এরপর যারা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে আসলো তাদেরও গ্রেফতারসহ বিভিন্ন কারণে ভারপ্রাপ্ত আহবায়কও কয়েকবার পরিবর্তন হয়েছে।
তাই বিভিন্ন অসুবিধার কারণেই কমিটি গঠন বিলম্বিত হচ্ছে। তবে ভারপ্রাপ্ত হলো দায়িত্ব প্রাপ্তের অবর্তমানে কাজ করা। তাই ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব দিয়ে একটি কমিটি চলা খুবই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ অন্যতম একটি জেলা। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে এই জেলার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যিনি মূল নেতৃত্বে থাকেন তার সাথে তৃণমূলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও ইউনিট কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকে। অর্থাৎ যিনি সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকেন তার সাথে যোগাযোগ থাকে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে মতিন চৌধুরীর মতো জাদরেল নেতা ছিল, চেইন অব কমান্ড ছিল।
এখানে দক্ষ লোক বিশেষ করে শক্ত লোক থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে যারা আছে তারাও খুব অদক্ষ না। তারাও তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারাও রাজনৈতিক কারণে কয়েকবার জেল খেটেছে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে যারা তৃণমূল থেকে উঠে আসে তারা দায়িত্ববান বেশি হয় এবং কমান্ডিং ক্ষমতা বেশি থাকে।
একটি সু-সংগঠনের শর্ত হলো দক্ষ কর্মী থাকা। দক্ষ কর্মী কার কাছে থাকবে! যে সংগঠক তিনি যদি তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব থেকে উঠে আসেন তাহলে তাদের দক্ষতা এবং কমান্ডিং বিষয়টা থাকবে আলাদা। এ ধরণের নেতৃত্ব চলে আসলে অবশ্যই সংগঠন দ্রুত সামনে আগাবে বলে আমি আশা করি।’
আহবায়ক কমিটি এত দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ এবং খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মানিরুল ইসলাম রবি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। আমি আহবায়ক না, ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক, তাই আমার কাছে এ ধরণের কোন খবর থাকে না।’ এন.এইচ/জেসি


