Logo
Logo
×

রাজনীতি

যেই ক্ষত পোড়ায় শামীম ওসমানকে  

Icon

নীরব প্রকাশ

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২২, ১২:৫৯ পিএম

যেই ক্ষত পোড়ায় শামীম ওসমানকে  
Swapno


# ২০১১ এর মেয়র নির্বাচনে হারের পেছনে বিএনপির ভূমিকা ছিল মনে করেন 

# ২০০১ সালে বিএনপির গিয়াসউদ্দিনের কাছে হেরে যান তিনি

# ১৯৯৮ সালে বিএনপির লংমার্চ ঠেকিয়ে গডফাদারের খেতাব পান
 

রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম, আর সেই সূত্র ধরে ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত হন নারায়ণগঞ্জ ওসমান পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের তৃতীয় ছেলে একেএম শামীম ওসমান। তার পিতা আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা যিনি একেএম শামসুজ্জোহা নামে পরিচিত, তিনি একজন ভাষা সৈনিক এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদের সদস্য ছিলেন।

 

 

তার দাদা মোহাম্মদ ওসমান আলী ছিলেন একজন খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তার বড় ভাই একেএম নাসিম ওসমান (প্রয়াত) ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্র শেখ কামালের বন্ধু এবং জাতীয় পার্টি থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

 

 

অন্যদিকে তার আরেক বড় ভাই একেএম সেলিম ওসমানও বর্তমান সংসদ সদস্য। আর রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া শামীম ওসমান ’৮০ দশকের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির লাইম লাইটে উঠে আসেন। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিবিদদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তায় এখন তুঙ্গে।

 

 

একটা সময় তার গড়ে তোলা একটি বিশাল কর্মী বাহিনীর মাধ্যমে প্রায় পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতিই তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। নেতা বানানো থেকে শুরু করে নির্বাচনে কে জয়ী হবে তাতেও থাকে শামীম ওসমানের ভূমিকা। তাই শামীম ওসমান মানেই বিজয়। শামীম ভক্তদের কাছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমান সব সময়ই অপরাজেয়।

 

 

জেলার বিভিন্ন এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং সমর্থক আছে। তার সমর্থক ও ভক্তদের মনে তিনি এমনভাবেই জায়গা করে নিয়েছেন যে, তারা সব সময়ই ধরে নিতেন শামীম ওসমান অপরাজেয়। অর্থাৎ তাকে কখনও পরাজয় স্পর্শ করতে পারবে না। কিন্তু এই শামীম ওসমান তার রাজনৈতিক ক্যরিয়ারে একবার না, পরাজয় বরণ করেছেন দুইবার।

 

 

প্রথমবার ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং দ্বিতীয়বার ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে। আর এই দুই পরাজয়েই রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভূমিকা। আবার এই বিএনপির লংমার্চ আটকিয়েই গডফাদারের তকমা পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন শামীম ওসমান নিজেই।

 

 

তাই শামীম ওসমানের ক্যারিয়ারে যে জ্বালা ধরিয়েছে বিএনপি, সেই জ্বালা এত সহজে ভুলতে পারেন তিনি! তাই বিএনপির নাম শুনলেই তার সেই পরাজয় ভেসে উঠে চোখের সামনে এবং সেই তাপেই তিনি অগ্নিরূপ ধারণ করে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন বলে, নারায়ণগঞ্জ এর রাজনৈতিক বোদ্ধাদের ধারণা। তাইতো তিনি হাস্যকর সব উপহাস করেন; বিএনপিকে নিয়ে।

 


 
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমান একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও সারা দেশবাসী শামীম ওসমানকে গডফাদার হিসেবেই বেশি চিনতো বলে জানা যায়। যা পরবর্তীতে শামীম ওসমান নিজেও স্বীকার করেছেন।

 

 

বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায়, ’৯৮ এর ৯ জুনে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ কর্মসূচীর ডাক দেওয়া হয়। সেই লংমার্চে যাত্রাকালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তৎকালীন সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারীরা কাঁচপুর এলাকায় বিকল ট্রাক ফেলে রেখে বাধা দেয় বলে জানা যায়।

 

 

খালেদা জিয়ার সেই লংমার্চ ঠেকিয়ে গডফাদার হয়েছেন বলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিডিয়ায় এবং বিভিন্ন সমাবেশে স্বীকার করেন শামীম ওসমান। লং মার্চের আগে তার নামে কোন অভিযোগ ছিল না বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান শামীম ওসমান।

 

 

সেই সময় আওয়ামী লীগ থেকে একই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন আওয়ামী লীগের আরেক নেতা সিদ্ধিরগঞ্জের জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তাই গিয়াসউদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ায় যোগদান করেন বিএনপিতে। একই সাথে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং শামীম ওসমানকে পরাজয়ের স্বাদ দেন। অনেকেরই ধারণা বিএনপি থেকে এবারও জাতীয় নির্বাচনে গিয়াসউদ্দিনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শামীম ওসমান। কিন্তু সে সময় আওয়ামী লীগের সমর্থন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন শামীম ওসমানের বোন হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক পৌরসভার তখনকার সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

 

 

আর সেই নির্বাচনে আইভীর কাছে পরাজয় বরণ করেন শামীম ওসমান। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে সেই নির্বাচনে হারার পিছনেও মূল ভূমিকা ছিল বিএনপি। নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে শামীম ওসমানের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে নির্দেশ দেন বিএনপি।

 

 

আর তাতেই নাকি শামীম ওসমানের নির্বাচনে জেতার সকল ছক ভেস্তে যায় এবং শামীম ওসমান পরাজয় বরণ করেন। তাই এখন তাকে বিএনপির সেসব ভয়ই তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

 

 

আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব বিএনপিকে যতটা না ভয় পান, তার চেয়েও অনেক বেশি ভয় পান শামীম ওসমান। বিএনপি যখন আন্দোলন সংগ্রাম করেন তখনই তিনি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পান; আবার রাজপথ বা রাজনৈতিক ময়দানে যখন বিএনপির কোন অস্তিত্বই থাকে না তখনও তিনি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পান। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন