# তিনি এমন কেন করেন, বুঝি না : রবি
# তিনি আবোল-তাবোল বকছেন : মামুন মাহমুদ
# নারায়ণগঞ্জবাসী ভাইদল-সন্ত্রাসী পছন্দ করেনা : টিপু
জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান বিএনপি’কে উদ্দেশ্য করে নানাভাবে নানা ধরনের বক্তব্যে দেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সাথে পাল্টা সমাবেশ করতে চান এবং সমাবেশের সম্পূর্ণ প্যান্ডেল খরচ দিতে চান শামীম ওসমান।
এ নিয়ে নানা ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। গতকাল চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাবে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে শ্রমিকলীগের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও দেখাই ছিলাম একদম লাইভ ভিডিও। আবার চিটাগাং এর মহা সামবেশের ভিডিও দেখেছি।
আমি মনে করেছিলাম কি জানি হয় তাই লোক পাঠিয়ে ছিলাম নারায়ণগঞ্জ থেকে। এতো কোটি কোটি টাকার খরচ করতাছে দেখি কি হয়। তারা আমাকে জানালো মিটিংয়ে মাঠের এক সাইড পুরো খালি। তখন আমি এক সংবাদকর্মীকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কত জন মানুষ বললো ১৫ হাজার তখন আমি হিসাব করে দেখলাম ৩০ হাজার।
আমি তখন বললাম এই সমাবেশ নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগই করতে পারে। আমি বিএনপিকে আহ্বান করছি সমাবশেটা ঢাকায় না করে নারায়ণগঞ্জে করেন; স্ট্যাজের সকল খরচ আমরা দিব।
আপনারা এক জায়গায় করেন, আর আমাদের ছাত্রলীগের রিয়াদ আছে রাসেল আছে কাউসার আছে আমাদের ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি আছে ওরা এক জায়গায় করুক। যদি আপনাদের মনে হয় ছাত্রলীগ ছোট হইয়া যাইতাছে তাহলে যুবলীগ করুক, সাজনু করুক; এটা পছন্দ না হলে আরেকটা বেছে নিন স্বেচ্ছাসেবকলীগ করুক।
যদি বলেন ইজ্জত সম্মানের বিষয় তাহলে আসেন সমানে সমান করি। তাহলে আমরা আওয়ামী লীগ একটা আয়োজন করি, আর আপনারা সব জাতীয় নেতারা আইসা নারায়ণগঞ্জে করেন; দেখি জনগণ কোন দিকে যায়।’
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনিরুল ইসলাম রবি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এটা আমাদের বিভাগীয় সমাবশের ডাক দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম মহাসামবেশ হয়েছে, খুলনায় হবে ২২ তারিখ। আগেই গাড়ি সব বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
আর শামীম সাহেবের বিষয় নিয়ে আমার কোনো বক্তব্যে নাই। আর শামীম সাহেব এই ধরনের বক্তব্যে কেন দেন, আমি বুঝিনা। এটা আমি জানি না আমিতো উনার মত বড় নেতা না।’
শামীম ওসমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহামুদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমাদের প্যান্ডেলের খরচ শামীম ওসমান সাহেবের বহন করতে হবে না। এবং যে কোনো সময় আমরা সমাবেশ করে আমরা দেখাতে পারবো। যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপি কতটা শক্তিশালী কয়েকটা প্রোগ্রামে তা প্রমাণিত হয়েছে।
গত মাসের ২৪ তারিখে আমরা শহীদ মিনারে যে সমাবেশ করেছি সেই সমাবেশে শহীদ মিনারে জনগণের চাপে নেতা-কর্মীদের দাড়ানোর মতো জায়গা ছিল না। তার পরে গত ১০ তারিখে যে শোক র্যালি হল সেখানে ও দেখেছেন কত হাজার হাজার লোকের উপস্থিতি ছিল। শাক দিয়েতো আর মাছ ঢাকা যাবে না। বক্তব্যে দিয়ে নিজেকে বড় করা যাবে না।
আমরা মাঠে প্রমাণ করে দিয়েছি আমাদের মাঠের সাংগঠনিক শক্তি কতটা। আমরা যদি যদি আরো গণতান্ত্রিক পরিবেশ পাই আরো বাধাহীন পরিবেশ পাই; তখন আমরা আমদের সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখাতে পারবো। আগামী ১০ই ডিসেম্বরে ঢাকায় যে মহা সমাবেশ হবে; সেই মহা সমাবেশে শামীম ওসমান সাহেবের কথার জবাব তিনি পেয়ে যাবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘চিটাংগাং এর জনসভায় ও আমাদের গাড়ি, রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের রাস্তায় রাস্তায় বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে; অনেককে আহত করা হয়েছে; অনেককে মারধর করা হয়েছে।
আর খুলনায় যে জনসভা হতে যাচ্ছে দুইদিন যাবৎ সেখানে কিন্তু গাড়ি বন্ধ। এটার কারণ কি? এটার কারণ হল এই জনসভাগুলোতে মানুষের যে স্রোত সেটাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং আমদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া।
এই সরকার অবৈধভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে আছে। এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। এটা তাদের একটি কৌশল ভোটার বিহীন এমপিদের আজকে হৃদ কম্পন শুরু হয়ে গেছে; আগামীতে কি হবে? তাই তারা এই সমস্ত আবোল তাবোল কথাবার্তা বলছে।’
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘শামীম ওসমান সাহেব সব সময় রাজনীতিবীদ হয়ে রাজনীতিক ভাষায় কথা বলেন না। উনি সবসময় স্ট্যান্ডবাজি করে অভ্যস্ত। উনি ২০ বছর আগেও অর্থশালী কম ছিলেন না; এটা নারায়ণগঞ্জবাসী জানে।
তিনি কথায় কথায় বলেন তারে এটা দিয়ে দিব; অমুক কে সেটা দিয়ে দেব। প্যান্ডেল খরচ দিয়া দিব; উনার দেওয়া লাগবে না। বিএনপির নেতা-কর্মীদের এমন খরচ করার জন্য টাকা আছে। উনি যে বলছে জুম করে ভিডিও দিছে ভাসানো ভিডিও দিছে। আসলে উনার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান নাই।
চট্টগ্রামে ওই মাঠে কত লোক হয়েছে, এটা পুরো বাংলাদেশ দেখেছে। শুধু তিনি দেখেন নাই কারণ উনি ক্ষমতা হারানোর ভয়ে পাগল হয়ে গেছে। কারণ ২০০১ সালের উনি উনার অপকর্মের কারণে দেশ ছাড়ে পালিয়ে ছিলেন এবার উনার কর্মীরা উনার আগে পালিয়ে যেতে পারে সে কারণে আগেই ভয়ে উল্টা পাল্টা কথা বলতাছে।’
নারায়ণগঞ্জের জনগণ কখনো উনার পক্ষে ছিল না, এখনও উনার পক্ষে নাই কারণ নারায়ণগঞ্জের জনগণ কখনো ভাই দল পছন্দ করে না। কোনা সন্ত্রাসীদের পছন্দ করে না। নারায়ণগঞ্জ জনগণ শান্তি প্রিয় মানুষ তারা চাঁদামুক্ত শহর চায়। তারা সন্ত্রাসমুক্ত শহর চায়।’
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যোকটা বিভাগীয় চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং পরিবর্তীতে খুলনাতে হবে। এই সকল সমাবেশ কিন্তু জনস্রোত সৃষ্টি হইতাছে। সে কিভাবে বলে সেখানে জুম ভিডিও করে দেখায় লোক ছিল না। এটা আমার মাথায় আসে না। আর এই ধরণের বক্তব্যে একজন রাজনীতিবীদ হিসেবে তার মুখে শোভা পায় না।’
এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বর্তমানে কোনো সভা করতে গেলে প্যান্ডেলের টাকা দিতে লাগে; মানুষ আনার জন্য টাকা লাগে। কিন্তু বিএনপির কোনো সমাবেশ করতে কোনো টাকার প্রয়োজন হয় না।
এখানে যারা আসে তারা নিজ অর্থয়ানে দলকে ভালোবেসে প্রোগ্রাম করতে আসে। চট্টগ্রাম নিয়ে উনার যে বক্তব্যে এটা কোনো প্রকারের রাজনীতিক বক্তব্যে হতে পারে না। উনার এই বক্তব্যেকে আমরা হাস্যকর মনে করি। যদি তারা নিরপেক্ষভাবে যদি আসে পুরো বিএনপি দরকার নেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ছাত্রদেই যথেষ্ট তাদের সাথে পাল্টা প্রোগ্রাম করার জন্য।’
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন , ‘শামীম ওসমান সাহেব যে বক্তব্যেগুলো দেন সেগুলোর মাধ্যমে উনি ভাইরাল হতে চান। উনি ভাবেন বাংলাদেশে কিছু উল্টা পাল্টা ঊক্তব্যে দিলে মিডিয়াতে ধরবে; তিনি ভাইরাল হবেন।
উনি একজন এমপি মহাদয়; উনি কি বক্তব্যে দিয়েছেন সেটা উনার ব্যাক্তিগত মতামত। উনি যে সমাবেশ করেন তখন সকল স্কুল, কলেজ, গার্মেন্টস এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে এই সমাবেশ করেন। কিন্তু আমরা কখনো এই ধরণের কাজ করি না। সাধারণ মানুষ আমাদের ডাকে এমনেই চলে আসে।
এ বিষয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘শামীম ওসমান সাহেব যে বক্তব্যে দিয়েছেন এই বিষয়ে আমার জানা নেই। আর যদি উনি এ ধরনের কথা বলে থাকেন; তাহলে এই ধরনের বক্তব্যে পলিটিক্যাল হতে পারে না।’ এন.এইচ/জেসি


