Logo
Logo
×

রাজনীতি

সেরা সম্মেলনে যোগ্য নেতা বাছাই

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৫২ পিএম

সেরা সম্মেলনে যোগ্য নেতা বাছাই
Swapno


# সম্মেলনে লোকসমাগম বৃদ্ধির সর্বাত্মক চেষ্টা
# কান্ডারী কে হবেন সেই হিসেব মেলাতে ব্যস্ত সমর্থকগণ
# আশা করি সুষ্ঠু মতো মনে রাখার মতো একটি সম্মেলন হবে : এমএ রাসেল


 
আর একদিন পর (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বহুল আকাঙ্খিত ও আলোচিত সম্মেলন। সেই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে মঞ্চে বানানোর কাজ শুরু হয়েছে।

 

 

গতকাল বৃহস্পতিবার সেই মঞ্চ বানানোর কাজ পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। এই একই মঞ্চে আগামী ২৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

 

 

অন্যদিকে দলীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নারাণয়গঞ্জ আওয়ামী লীগের একটি বিশাল শোডাউন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে সম্মেলনে লোকজনের সমাগম করার জন্য উপজেলা, থানা ও ইউনিট কমিটিসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

কমিটিতে বিভিন্ন পদে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য পদ পেতে ইচ্ছুক নেতারাও বেশি লোকসমাগমের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

 

 

তবে এবারের জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

 

 

আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, বর্তমান সভাপতি আবদুল হাই, বর্তমান সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু।

 

 

এর মধ্যে কেউ কেউ আবার জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জলের সম্ভাবনাও দেখছেন।

 

 

তবে কারও বিষয়েই নিশ্চিত কোন ধারণা না পাওয়ায় পরবর্তী কান্ডারী কে হবেন সেই বিষয়ে হিসেব মেলাতে ব্যস্ত সমর্থকগণ, যা সম্মেলনের আগে বলা সম্ভব হবে না বলেও মনে করেন তারা।

 


এই সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার শুরু থেকেই পদ ধরে রাখা এবং নতুন করে পদ পাওয়া নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। মূলত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে উত্তর, দক্ষিণ এবং মধ্য ধারার নেতৃবৃন্দের ভক্তদের মাঝে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও হিসেব-নিকেশ।

 

 

বিশেষ করে এই সংগঠনের কান্ডারী কে হবেন তা নিয়ে এখনও বিভ্রান্তিতে আছেন নেতাকর্মীগণ। একটি পক্ষ মনে করেন, শামীম ওসমান জেলা আওয়ামী লীগের কর্ণধার হতে চেষ্টা করেননি।

 

 

কিন্তু রাজনীতির শেষ পর্যায়ে এসে তার পরবর্তী প্রজন্মের নিকট নিজেদের আধিপত্য শক্ত করে উপহার দিতে এখন জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেওয়া দরকার। এরই মধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, এবার জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এই পদটিতে নিজের অবস্থানের বিষয়ে কেন্দ্রের সাথে ব্যাপক যোগাযোগ রাখছেন শামীম ওসমান।

 

 

এমনকি তিনি সেখান থেকে গ্রীণ সিগন্যাল পেয়েছেন বলেও অনেকে মনে করেন। তবে আরেকটি পক্ষ এই বিষয়টির সাথে একমত হতে পারছেন না। এবারের কমিটির শীর্ষ পদে যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে তারা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকেই বেশি যোগ্য বলে মনে করছেন।

 

 

অনেকেই আবার বর্তমান মেয়র কিংবা সাংসদকে এই পদ দেওয়া হবেনা বলে ভাবছেন। এখানে নতুন মুখ হিসেবে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক যেকোন একটি পদে হয়তো আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপুর নাম নিয়ে আলোচনা করছেন।

 

 

কেউ আবার মনে করছেন এবারের যে বর্তমান কমিটির দায়িত্বে যারা আছেন তাদেরকেই পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে দলীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে সত্যিকার অর্থে সভাপতি বা সম্পাদকের দায়িত্বে কে থাকবেন তা এখনও জানা বা বুঝা সম্ভব হয়নি।

 

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নারায়ণগঞ্জ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি এখানকার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন। তাছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও এগিয়ে এসেছে।

 

 

এখন যে কমিটিগুলো দেওয়া হবে, সেই কমিটির উপরই এই নির্বচনের দলীয় কার্যক্রম নির্ভর করবে। তাই তিনি চাইবেন একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি দিতে।

 

 

যা সর্বোস্তরের নেতাকর্মীদের সমন্বয় করে কাজ করবে। আর এই কারণেই হয়তো এখানকার কমিটিগুলোর শীর্ষ পদগুলোর দায়িত্বে কাকে দেওয়া হবে সেই বিষয়টি তিনি তার নিজের হাতে রেখেছেন। যারফলে সম্মেলনের আগে তা প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনাও নাই।

 


জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সর্বশেষ প্রস্তুতির বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক এমএ রাসেল জানান, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি।

 

 

আমাদের যে কয়েকটি থানা এবং উপজেলা আছে সেসব সংগঠন থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সমর্থকগণ সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আলাদা আলাদা কালারের গেঞ্জি পড়ে আসবেন তারা। এর মধ্যে সাদা, লাল, হলুদসহ প্রায় ছয়টি কালারের গেঞ্জি পড়ে আসবেন তারা।

 

 

আমরা আশা প্রকাশ করতেছি এই সম্মেলন স্মরণকালের সেরা একটি সম্মেলন হবে, যা হবে মানুষের মনে রাখার মতো একটি সম্মেলন। আমরা প্রত্যেকটি উপজেলা এবং থানা কমিটিগুলোকে দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছি, আমরা সবাইকে কার্ড দিয়েছি।

 

 

সাংসদ ও চেয়ারম্যান তারা গুনী ব্যক্তি আছেন তাদেরকে নিয়ে আসবেন। সব থানা এবং উপজেলায়ই আমরা দায়িত্ব বন্টন করে দিয়েছি। তাদের স্ব-স্ব এলাকায় যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আছে তাদেরকে তারাই দাওয়াতটা পৌছিয়ে দিবেন।

 

 

তিনি আরও জানান, আমরা আশা প্রকাশ করছি সম্মেলনের দিন কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৩ জনের মতো সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। আমরা মনে করি অমরা সুষ্ঠো মতো মনে রাখার মতো একটি সম্মেলন সম্পন্ন করতে পারবো।   এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন