Logo
Logo
×

রাজনীতি

রাজপথে শক্তি বাড়ছে বিএনপি’র

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৫৬ পিএম

রাজপথে শক্তি বাড়ছে বিএনপি’র
Swapno


# আন্দোলনের শক্তির উৎস জনগণ : সাখাওয়াত
# জনগণের প্রচুর সাড়া পাচ্ছি : মামুন


বিএনপির কোনো কর্মসূচি মানেই গোটা করে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে নামা। তবে মামলা হামলায় জর্জিত হয়ে আছে বিএনপি নেতারা।কিন্তু তার মাঝেও ছয় মাসের বেশি নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি দ্রব্যমূল্য দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি তৈল সহ বিএনপি নেতা কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে জেগে উঠেছে বিএনপি।

 

 

সম্প্রতি বদলেছে সেই চিত্র ফুটে উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দলের নেতাকর্মীদের হত্যা প্রভৃতি কর্মসূচিতে সারাদেশেই নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কণ্ঠে ছিল তাদের ঝাঁঝালো স্লোগান। হাতে বাঁশ-লাঠিও দেখা গেছে।

 

 

প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি বিএনপি রাজপথে আবার শক্তিশালী হয়ে উঠছে? এদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও বিএনপির লাঠি নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।

 

 

সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালি সাংসদ শামীম ওসমান চট্রগ্রাম বিএনপির মহা নসামবেশ নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছেন। কিন্তু তার কঠোর জবাব দিয়েছে বিএনপি নেতারা। প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে এক সভায় বলেছেন, বিএনপি পাঁচ হাজার দশ হাজার লোকের মিছিল করে বলেন মহাসমাবেশ।

 

 

এটাতো আমাদের ছাত্রলীগই করতে পারে। নারায়ণগঞ্জে মহাসমাবেশ করুন আরেক দিকে ছাত্রলীগ মহাসমাবেশ করবে। এটা হল বড় হাক ডাক। আমিতো ভেবেছিলাম কি জানি হয়ে যাবে বাংলাদেশে। চট্টগ্রামে বিএনপির মহাসমাবেশ ছিল।

 

 

এত হাঁক ডাক বিভাগীয় মহাসমাবেশ। চট্টগ্রাম তো অনেক বড় বিভাগ। এই হল তাদের অবস্থা। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি একদিকে সমাবেশ করবে আরেক দিকে ছাত্রলীগ করবে দেখি কাদের পক্ষে থাকে জনগণ।

 

 

প্রয়োজনে আমরা বিএনপির স্টেজ, প্যান্ডেলের সকল খরচ দিয়ে দিব। যারা বলেন জনগণকে দিয়ে সরকারের পরিবর্তন ঘটাবেন তারা আজ বুঝবেন সাধারণ মানুষ আপনাদের পক্ষে নেই।

 


এদিকে সাংসদ শামীম ওসমানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মহানগর ছাত্র দলের সভাপতি শাহেদ বলেন, বিএনপিকে সমাবেশ করার জন্য কাউকে খরচ দিতে হবে না। আমরা ছাত্রদল সমাবেশ করবো আর তারা করুক দেখি দেরেশর মানুষে কাদের পক্ষে আসে। কিন্তু শর্ত হলো প্রশাসন ছাড়া তারা মাঠে আসুক।

 

 


বিএনপি নেতাদের বক্তব্য মতে ‘তাদের আন্দোলনের মূল শক্তি জনগণ। জনগণ সাড়া দিয়েছে বলেই তাদের আন্দোলন দিনের পর দিন জোরালো হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের দল জনগণ ছাড়া অন্য কাউকে কখনো শক্তির উৎস মনে করে না।

 

 

বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিনের কোণঠাসা জেলা মহানগর বিএনপি হঠাৎ কী এমন জাদুমন্ত্রে রাজপথে সরব হলো? বিএনপির এই আন্দোলনের শক্তি কি বাড়ছে, তাহলে শক্তির উৎস কী?

 

 


দলীয় সূত্র বলছে, বিগত ১৪ বছরে সরকারে দমন-নীতির কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই দলীয় গ্রুপিংকে বর্তমানে ছোট করে দেখে সবাই একসঙ্গে আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছে।

 

 

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর বিরোধীদলের লোকজনের অন্তর থেকে খুন-গুমের ভয় কেটে গেছে বলে মনে করছেন কিছু নেতাকর্মী। অনেকে এখন বিশ্বাস করেন, র‌্যাব-পুলিশ গুলি করে মেরে ফেললে দেশে বিচার না হলেও প্রশাসন চাপে পড়বে।

 

 

যে কারণে নারায়ণগঞ্জে ভোলা, মুন্সিগঞ্জ, নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজপথে স্বতঃস্ফূর্ত। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মনে সাহস জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

 

 


মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের শক্তির উৎস জনগণ। কিন্তু এবার আমরা দেশের জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি আমাদের সরকারের সময় দেশের মানুষ চাল, ডাল, তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেমন দামে কিনেছে আর বর্তমানে কত বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

 

 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস। আমরাও উজ্জীবিত, জনগণও উজ্জীবিত। জনগণ আর এই সরকারকে চায়না। মানুষ সরকারের কর্মকান্ডের জন্য তাদের বিপক্ষে চলে গেছে। তাই আমাদের আন্দোলন গুলোতেও মানুষ এখন এগিয়ে আসছে।

 

 

তাছাড়া নেতা কর্মীরাও সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় কর্মসূচিতে ঝাপিয়ে পরছে। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মামুন এই বলেন, ‘ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সরকার বিদেশিদের কাছে দেন দরবার করছে। সরকারের এই ষড়যন্ত্র জনগণ বুঝতে পেরেছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। তাই জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে।’

 

 


গতকাল নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, ‘এই সরকার চেষ্টা করছে আরেকটা অবৈধ নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকার জন্য।

 

 

কিন্তু জনগণ তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধীরে ধীরে আন্দোলনে শামিল হচ্ছে। জনগণ এই সরকারের পতন চায়, সুশাসন চায় একটা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। হত্যা করে আন্দোলনকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।

 

 

তিনি আরও বলেন, এবার আন্দোলনে আমরা দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। কারণ আমাদের আন্দোলন তো দেশে ভোটাধিকারের জন্য, মানবাধিকারের জন্য, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে, নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্য।

 

 


জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ বলেন, আমাদের আন্দোলন দেশে ভোটাধিকারের জন্য, মানবাধিকারের জন্য, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে, নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্য। সুতরাং, বিদেশি দেশগুলোর সমর্থন আমরা পাচ্ছি। বরাবরের মতোই আমাদের আন্দোলনে তাদের সমর্থন রয়েছে।’

 

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন ,‘গত দুই বারের নির্বাচনের আন্দোলনের ১৪ বছরের চেয়ে সম্প্রতি বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের আগ্রহ কতটুকু বেড়েছে এটা এখনো পরিমাপ করার সময় আসেনি। এখনো সে পর্যায়ে যায়নি। এই যে সমাবেশে নেতাকর্মীর সংখ্যা বাড়ছে এটা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।

 

 

কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিএনপির আসল সমস্যা কিন্তু ভেতরে রয়ে গেছে। শরীরের চামড়ার নিচে ফোড়া রেখে উপরে মলম দেওয়ার মতো। অর্থাৎ দলীয় কোন্দল। এই কোন্দল যত দ্রুত কাটিয়ে উঠবে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ততো শক্তিশালী হতে পারবে।   এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন