Logo
Logo
×

রাজনীতি

শক্তিশালী কমিটি চায় ফতুল্লার নেতারা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২২, ০৬:০৮ পিএম

শক্তিশালী কমিটি চায় ফতুল্লার নেতারা
Swapno


# সর্বকালের শক্তিশালী কমিটি হবে : মীর সোহেল
# কোন্দল মুক্ত সুসংগঠিত কমিটি চাই : শওকত
# নবীন প্রবীনে শক্তিশালী কমিটি হয়: শরীফুল



ক্ষমতাসীন দল জেলা আওয়ামী লীগের জন্ম নারায়ণগঞ্জে। যা বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতেও একাধিকবার উল্লেখ্য রয়েছে। সেই সাথে কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতারাও বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্যের মাধ্যমেও বলে থাকেন।

 

 

ঢাকার আন্দোলন সংগ্রামেও নারয়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতাদের অবদান রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ঢাকার নিকটতম জেলা হওয়ায় বিএনপি আওয়ামী লীগ দুই দলের কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড ভিন্ন ভাবে চিন্তা করেন।

 

 

কেননা এখান থেকেই রাজনৈতিক দল গুলো আন্দোলন সংগ্রাম জাগ্রত হয়ে থাকে। তাছাড়া হরতাল রাস্তা অবরোধে এই জেলাকে বেছে নেয়া হয়। কেননা এই জেলার সাথে ঢাকা , সিলেট, খুলনা, চট্রগ্রাম সহ দেশের মূল পয়েন্ট সড়ক গুলোর সংযোগ রয়েছে।

 

 

আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ক্ষমতাসীন দল খুব কৌশলে আগাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিএনপি কয়েকটি বিভাগে মহা সমাবেশ করে ভালো সারা পেয়েছে। ডিসেম্বরের পরে জানুয়ারি থেকে আওয়ামী লীগও রাজপথে নামছে বলে হুঙ্কার দিচ্ছে দলীয় হাই কমান্ড।

 

 

তাই আগামী নির্বাচনে রাজপথ দখলে রাখতে নারায়ণগঞ্জ জেলার ক্ষমতাসীন দলকে চাঙ্গা রাখতে হলে এই মুহুর্তে শক্তিশালী কমিটি নিয়ে চিন্তা করছে দল। তাই কাদের দায়িত্ব দিলে শক্তিশালী হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

 


এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মুখে মুখে আলোচনা হচ্ছে। সেই সাথে কারা নতুন করে নেতৃত্বে আসছে তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা।

 

 

তবে বর্তমান কমিটির ব্যক্তিরা বাদ পড়তে পাড়ে বলে ফলাও করে আলোচনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিনক্ষন নির্ধারণ হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, আগামী ২৩ অক্টোবর শহরের ওসমানী পৌর স্টোডিয়ামে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

 

 

ইতোমধ্যে সম্মেলনকে সফল করার লক্ষ্যে বর্ধিত সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সাথে কয়টি গেট হবে গতকাল শুক্রবার ওয়ার্কিং কমিটিতে তা নির্ধারন করা হয়। তবে ওয়াকিং সভাটি নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে হলেও জেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ এখানে ওয়ার্কিং সভা হোক তা চাননি।

 

 

না চাওয়ার পরেও দলের শামীম ওসমান পন্থিদের জোরাজোরিতে সেখানেই ওয়ার্কিং সভা হয়। এতে সভাপত্বি করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নির্ধারিত দিনেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

এই সম্মেলন গিরে সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে সম্মেলনের স্থান পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ টি গেট হবে বলে জানান খোদ দলীয় একাধিক সূত্র। সাইনবোর্ড মোড়ে গেট হবে, চাষাড়া, ওসমানি স্টোডিয়ামে প্রবেশ মুখে, থাছাড়া জালকুড়ি মোড় সহ আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গেট বসানো হবে।

 

 

প্রতিটি গেটের সামনে বঙ্গবন্ধুর ছবি এক পাশে থাকবে আর আরেক পাশে থাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টানানো ফেস্টু ব্যানার।
অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসবে তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা।

 

 

সেই সাথে নেতা কর্মীদের মাঝেও এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করছে। কেননা কারা জেলার নেতৃত্বে আসছে তা এখনো দলীয় সভা নেত্রী ছাড়া অনেক শীর্ষ নেতারাও জানেন না। তবে জেলার পদে আসার জন্য দুই প্রভাবশালী সাংসদ জোরালো ভাবে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডে দৌরঝাপ করছেন।

 

 

তাদের মাঝে রয়েছে জেলা ৪ আসনের প্রভাশালী সাংসদ শামীম ওসমান। তার সাথে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম। কিন্তু তাদের সাথে জেলার অন্যান্য নেতারাও থেমে নেই।

 

 

তারা নিজেদের মতে করে দৌরঝাপ করে যাচ্ছেন। তার মাঝে রয়েছেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু। জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু।

 

 

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে ফতুল্লার নেতাদের সাথে কথা হলে তাদের মন্তব্যে উঠে আসে যাদের দায়িত্ব দিলে দল শক্তিশালী হবে তারা যেন দলের নেতৃত্বে আসে।

 

 


জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রসঙ্গে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী জানান, সম্মেলনকে ঘিরে আমাদের ১০০% প্রস্তুতি আছে। আমারা দশ হাজার লোকের এর চেয়ে বেশি লোক নিয়ে সম্মেলনে যোগদান করবো।

 

 

নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই যোগ্য নেতৃত্ব এখানে দিবে আমরা এই আশাবাদী । আমাদের নেতা শামীম ওসমান এর নেতৃত্বে অনেকেই এই নারায়নগঞ্জে নেতা হয়েছে।

 

 

এদের মধ্যে যারা তাদের যোগ্যতা প্রমান করেছে আমি মনে করি তাদের থেকেই হয়ত জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আসবে। আমাদের কমিটিটা একটি চ্যালেঞ্জিং কমিটি । এই কমিটি ২০২৩ সালের নির্বাচন সূম্পর্ন হবে।

 

 

তিনি বলেন, আশা করি এটা একটি সর্বকালের শক্তিশালী কমিটি হবে যেই কমিটি দিয়ে ভবিষৎ এ যে কোনো নির্বাচনে বিরোধী দলকে মোকাবেলা করতে পারবে। আমরা চ্ইা জননেতা শামীম ওসমান আসুক কিন্তু বর্তমানে জননেতা শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের হাল ধরুক এটা আমরা শামীম ওসমানের বলয়ে যারা আছি খুব বেশি আশা করি না।

 

 

তার  কারণ হচ্ছে শামীম ওসমান হাল ধরলে আমাদের কষ্টটা বেড়ে যাবে। কারন শামীম ওসমানের মতো যোগ্য নেতৃত্ব নারায়নগঞ্জ জেলায় নাই। সে নেতা হলে আমাদের জন্য প্রেসার কারন আমাদের কাছ থেকে সে কাজ আদায় করে নিবে আর শামীম ওসমান ছাড়া এমন কোনো নেতৃত্ব নাই যে কাজ আদায় করে নিবে উনার মতো।

 

 

সেই সূত্রে আমরা চাই যে শামীম ওসমান জেলার নেতৃত্বে না আসুক যদি আসে তাহলে ঐ দায়িত্বটা সূম্পর্ন আমাদের কাধে চলে আসবে ।আমি চাই নতুন কমিটি নবীন প্রবীন নিয়ে আওয়ামী লীগের দলটি গঠিত হোক এটি চাই এবং সুসংগঠিত একটি শক্তিশালী আওয়ামী লীগ গঠন হোক।  

 


ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে শেখ হাসিনার ঐতিহ্যবাহি একটি এলাকা। এখানেই আওয়ামী লীগের জন্ম। কোনরকমের বিভেদ কোন্দল মুক্ত সুসংগঠিত একটি কমিটি চাই।

 

 

দলের সাংগঠনিক শক্তি যদি দূর্বল হয় তাহলে নেতা কর্মীরা উজ্জীবিত হয় না। জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটিতে এমন নেতৃত্ব আসা উচিৎ যাদের দায়িত্ব দিলে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

 

সম্মেলনে লোক জমায়েত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ফতুল্লা ৫ টি ইউনিয়ন থেকে ২০ হাজার লোক জমায়েত করার প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে যেখানে সম্মেলন হবে সেখানে ২০ হাজার লোকের জায়গা হবে না। ওসমানি স্টোডিয়ামে ১০ হাজার লোক মানে অনেক লোক।

 

 

১০ হাজার লোক যদি ক্যামেরার ফোকাসে দেখা যায় তখন মনে হবে লক্ষ লক্ষ লোক। রাজনীতি করে আমাদের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। ১৫ থেকে ২০ হাজার লোক নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি।

 

 


ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটিতে এমন নেতৃত্ব আসুক যাদের মাধ্যমে দলের গতিশীল বারবে।

 

 

আমার মতে সেই নেতৃত্বে যদি শামীম ওসমানকে দেয়া হয় তাহলে দলা যেমন শক্তিশালী হবে তেমনি ভাবে চাঙ্গা হবে। দলের জন্য এই মুহুর্তে এমপি শামীম ওসমানকে আমরা জেলার সভাপতি হিসেবে চাই। নবীন প্রবীনের কমিটি সব সময় শক্তিশালী হয়। তাই দলের জন্য সব কিছু মিলিয়ে শক্তিশালী কমিটি হোক আমরা তা চাই।   এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন