Logo
Logo
×

রাজনীতি

সোনারগাঁ আ’লীগের বিভেদে জাতীয় পার্টির জয়জয়কার

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২২, ০৬:১৭ পিএম

সোনারগাঁ আ’লীগের বিভেদে জাতীয় পার্টির জয়জয়কার
Swapno


# জাতীয় নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে তা সহজে অনুমেয়

 


টানা দ্বিতীয় বারের মত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মহাজোটের শরীকদল জাতীয় পার্টির এমপি নেতৃত্বে দিচ্ছে। মূলত এই আসনটি আওয়ামী লীগের আসন হিসেবে পরিচিত থাকলেও বরাবরই মহাজোটের শরীকদল জাতীয় পার্টির কাছে তুলে দেয়া হচ্ছে।

 

 

যেটা আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতারা কোন ক্রমেই মেনে নিতে পারছে না। স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতারা দলের হাইকমান্ডের কাছে বরাবরই দাবি জানিয়ে যাচ্ছে এই আসনটি যেন আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী করে আবারও ফিড়িয়ে দেয়া হয় কিন্তু এতে দল থেকে কোন আশানারূপ ফলাফল পাচ্ছে না।

 

 

তাদের আশানারূপ ফলাফল না পাওয়ার অন্যতম কারণ হল আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড বরাবরই নির্দেশ দিচ্ছেন এই এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ভেদাভেদ কোন্দল নিরসনের জন্য কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছেন।

 

 

এতে করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গুলোতেও আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ভেদাভেদের কারণে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে নামেন আরেকজন আওয়ামী লীগের নেতা যার কারণে জাতীয় পার্টি বা অন্যদলের দলের প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে জয়ী হয়ে যাচ্ছেন।

 

 

যেটা জেলা পরিষদ নির্বাচনেও পরিলক্ষিত হয়েছে। আর এই ভেদাভেদের ফলাফল জেলা পরিষদের ৩নং সাধারণ আসনে আবারও ফুটে উঠেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাসুম জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থী নাঈম ইকবালের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়।

 


সূত্রে জানা যায়, ১৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পরিষদের ৩নং সাধারণ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন নিয়ে লড়াই করে হাতি প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকে সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেন নাঈম ইকবাল।

 

 

তারা আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির প্রার্থী হলেও পিছনে ছিল সাবেক এমপি বর্তমান এমপির লড়াই। কারণ মাসুম হলেন সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের ঘনিষ্ঠ সহচর অপরদিকে নাঈম ইকবাল হলেন বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পাশাপশি জেলা ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক।

 

 

যার কারণে জেলা পরিষদের ৩নং সাধারণ আসনের লড়াইটা ছিল জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কায়সার ও খোকার নিজেদের অবস্থান পরী ক্ষার নির্বাচন পাশাপাশি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কে সবচেয়ে বেশী এগিয়ে আছেন সে নির্বাচন।

 

 

কিন্তু ১৭ অক্টোবরের নির্বাচনে হেরে যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী কায়সার হাসনাতের ঘনিষ্ঠ মাসুম হেরে যান জয়ী হন জাতীয় পার্টি থেকে সমর্থিত প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকার ঘনিষ্ঠ সহচর নাঈম ইকবাল এতে করে আবারও খোকার কাছে ধরাশয়ী হলেন কায়সার।

 

 

এই জেলা পরিষদের সাধারণ আসনের জয় পরাজয় এখন সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক ময়দানে টক অব দা টাউন হয়ে দাড়িয়েছে। সোনারগাঁয়ে স্থানীয় সরকার যেকোন নির্বাচন আসলেই যেখানে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির উভয় দলের প্রার্থী থাকে লড়াইটা তখন দলের থেকে বেশী সাবেক এমপি ও বর্তমান এমপির লড়াইয়ে পরিণত হয়।

 

 

আর এসকল লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশী জয়ী হওয়ার তালিকায় হয়ে এগিয়ে আছেন লিয়াকত হোসেন খোকা। কারণ এর আগেও ইউনিয়ন নির্বাচনে শম্ভুপুরা ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে প্রার্থী নাসিরকে হারিয়ে জয়ী হন জাতীয় পার্টি থেকে সমর্থিত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুর রউফ।

 

 

শম্ভুপুরা ইউনিয়ন নির্বাচনেও ব্যাপকভাবে প্রচার প্রচারণা করেছিল সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা যেখানে সাবেক এমপি ভোট প্রার্থনায় মাঠে নামেন কিন্তু জয়ী করতে পারেননি নৌকার প্রার্থী নাসিরকে জয়ী হোন লিয়াকত হোসেন খোকার সমর্থিত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রউফ।

 

 

সেসময়ও ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয় শম্ভুপুরায় নাসিরের জয়ী করতে না পারায় সমালোচনার তোপ সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের নেতাদের দিকে সবচেয়ে বেশী সমালোচনা সাবেক এমপিকে নিয়ে কারণ তিনি বরাবরাই চ্যালেঞ্জ নিয়ে বর্তমান এমপির কাছে হেড়ে যান।

 

 

কার্যত জেলা পরিষদ ৩নং সাধারণ আসনে হাতি প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মাসুমকে আওয়ামী লীগের সমর্থিত হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম।

 

 

সেই লক্ষ্যেই তারা প্রতিটি ইউনিয়নে প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মাসুমের হাতি প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেছেন। একইভাবে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম ইকবাল যখন তালা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তখন জাতীয় পার্টির জন্য ইমেজ রক্ষার লড়াইয়ে পরিনত হয়।

 

 

মাঠে নেমে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। এমপি খোকার সহধর্মিনী ডালিয়া লিয়াকত প্রতিটি ইউনিয়নে প্রার্থী ইকবালকে নিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন।

 

 

এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির তুমুল লড়াইয়ে পরিনিত হয় এই নির্বাচনটি। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে হারিয়ে বিজয়ী হয় জাতীয় পার্টি। সোনারগাঁয়ে আওয়ামী  লীগ ও জাতীয় পার্টির এমন রাজনৈতিক লড়াইয়ে যখন হেরেছে আওয়ামী লীগ।

 

 

তখন সোনারগাঁও উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানেরা পড়েছেন আওয়ামী লীগের তৃণ্যমুল নেতাকর্মীদের সন্দেহের দৃষ্টিতে কারন উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র একটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান রয়েছেন।

 

 

বাকি ৭টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান এবং বাকি দুটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান হলেও তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রয়েছেন। নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন অধিকাংশ চেয়ারম্যানদের দেখা গেলো তাদের নিজ পরিষদের মেম্বারদের সঙ্গে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে।

 

 

তারপরও পরাজয় বরণ করতে হয়েছে মাসুমকে এই প্রশ্নের জবাব আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাদের কাছে পরিষ্কার আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরাই আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেয়নি।

 

 

কারণ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে যদি আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরা ভোট দিত বিপুল ভোটে জয়ী হত আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এতে বুঝা যায় যে, আবারও লিয়াকত হোসেন খোকার সাথে চ্যালেঞ্জে হেড়ে গেলেন কায়সার হাসনাত।

 

 

জেলা পরিষদের এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা তার কায়সারের উপর আস্থা রাখলেও সেই আস্থা রাখতে তিনি ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক এমপি কায়সারের জন্য আরেকটি বার্তা এই পরাজয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল সোনারগাঁয়ের জনপ্রতিনিধিরা তার পাশে নেই।

 

 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়াতে দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সাথে একত্রিত ভাবে উপস্থিত থাকলেও কিন্তু তার কোন সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ সোনারগাঁয়ের জনপ্রতিনিধিরা। যেটা এই নির্বাচনে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সাবেক এমপিকে কায়সারকে সোনারগাঁয়ের জনপ্রতিনিধিরা।

 

 

পাশাপাশি সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগ নবাগত কমিটিও ব্যর্থ হয়েছে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয়ের মাধ্যমে। এই নির্বাচনে পরাজয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের জন্য প্রতীয়মান হয় যে, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী অবস্থানে আছে যেখানে আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিদের ভোট নিয়ে জয়ী হয়েছেন।

 

 

জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থী। জাতীয় পার্টির এই জয়ের মাধ্যমে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেল আবারও জাতীয় পার্টির এমপি খোকা আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি কায়সারের থেকে আরো একধাপ এগিয়ে গেলেন।   এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন