Logo
Logo
×

রাজনীতি

শামীমের অনীহা নেতৃত্বে আসছেন কে

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩৬ পিএম

শামীমের অনীহা নেতৃত্বে আসছেন কে
Swapno


# আমি প্রার্থী হচ্ছি না, একদম ক্লিয়ার ম্যাসেজ : শামীম ওসমান
# ১৯৯৭ সালের পর জেলা আ’লীগের আর কোন সম্মেলন হয়নি


 
জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হওয়ার পর বাতাসে খবর বেরিয়েছিল সাংসদ শামীম ওসমান আসছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। তার কর্মী সমর্থকরা সম্মেলনের আগেই জোরেসোরে সেই প্রচারণা আরো প্রচার করতে থাকেন।

 

 

তবে সেসব নিছক কথার কথা বলে উড়িয়ে দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে নিজের অনীহার কথা প্রকাশ করেছেন শামীম ওসমান নিজেই। তিনি বলেছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই তার।

 

 

এবং তিনি  যে সভাপতি পদে থাকতে চাননা সেটি ৯৯ দশমিক ৯৯ পার্সেন্ট। এই জায়গায় অন্য নেতাদেরই দেখতে চান তিনি। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে শামীম ওসমানকে নিয়ে তোরজোর পরে থেমে যাওয়া প্রসঙ্গে আগেই ভিন্ন অনুমান করেছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

 

তারা বলছেন, ১৯৯৬ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন এমপি শামীম ওসমান। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের দুর্দিনে শামীম ওসমানের সার্ভিস পায়নি দল।

 

 

সে সময় শামীম ওসমান তার নেতাকর্মীদের ফেলে বিদেশে পাড়ি জমান। নেতৃত্ব শুন্য অবস্থায় তখন তীব্র হতাশায় পড়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরা। এটি যেমন একটি কারণ। অন্যদিকে টানা ১৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়।

 

 

এই দীর্ঘ সময়ে আগামী নির্বাচনের আগে নানামুখী চাপের মুখে কঠোরভাবে পড়েছে দলটি। একদিকে বিদেশী নানা তৎপরতা, ক্রমবর্ধমান নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাব বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, রেমিটেন্সে ধাক্কা এবং বিএনপির অতীতের চাইতে বেশি সক্রিয়তা নিয়ে নানামুখী চাপে আওয়ামী লীগ।

 

 

এর মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগরের সম্মেলন। আর এই সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অতীতের কথা বিবেচনা করে শামীম ওসমানকে বাঁছাই না করার পক্ষেই আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড এমনটিই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

 

২০০১ সালের পর শামীম ওসমান দলের দুর্দিনে পাশে না থেকে যেভাবে দেশ ছেড়েছেন এবারও সেরকম কেনা কিছু করলে দীর্ঘমেয়াদী ভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়বে তৃণমূল আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

 

 

তবে শামীম ওসমান অনুসারীদের দাবি, বর্তমানে বিএনপির যেই সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে তা মোকাবেলা করতে শামীম ওসমানে বিশাল কর্মীবাহিনী সাথে নিয়ে তা মোকাবেলা করতে সক্ষম শামীম ওসমান। তিনিই পারবেন বিএনপির রাজপথে মোকাবেলা করতে।

 

 

কিন্তু নেতাকর্মীদের হতাশায় ভাসিয়ে শামীম ওসমান রাইফেল ক্লাবে জানিয়েছেন তিনি সভাপতি পদে আসছেননা এটি ৯৯ দশমিক ৯৯ পার্সেন্ট সত্য। এখানে তিনি অন্য কাউকে দেখতে চাইছেন।

 


সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বহুল প্রত্যাশিত সম্মেলন হতে যাচ্ছে আগামীকাল। এর আগে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে। সেই সম্মেলনে সভাপতি পদে অধ্যাপিকা নাজমা রহমানকে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে শামীম ওসমানকে নির্বাচিত করা হয়।

 

 

এরপর জেলা আওয়ামী লীগের কোন কমিটিই আর সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করা হয়নি। ২০০২ সালে কেন্দ্র থেকে সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আকরামকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করে এবং ২০১৬ সালে কেন্দ্র থেকে আবদুল হাইকে সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহসভাপতি ও এড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 

 

তাই প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় পর সম্মেলনের স্বাদ পেতে যাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পদ-পদবী নিয়ে যেমন আছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, তেমনি এতবছর পর সম্মেলন হতে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে একটি উৎসব মুখর পরিবেশের।

 

 

তবে সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এবং নারায়ণগঞ্জ রাজধানীর নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়ায় কেন্দ্রের কাছে এখানকার রাজনীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জকে আওয়ামী লীগের সূতিকাগার বলা হয়।

 

 

নারায়ণগঞ্জের সাথে শুধু যে আওয়ামী লীগের দলীয় সম্পর্ক যুক্ত আছে তা-ই নয়, নারায়ণগঞ্জের সাথে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত ও পরিবারিক সম্পর্কও ছিল খুব গভীর। এর ফলে এখানকার প্রধান প্রধান কমিটিগুলোর দায়িত্বে কারা থাকবে সেদিকে সবারই সজাগ দৃষ্টি থাকে।


 
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর উভয় কমিটিরই গুরুত্ব আছে। তবে এবার জেলা কমিটির দিকেই সবার দৃষ্টি একটু বেশি। আর জেলা আওয়ামী লীগের এই সম্মেলনকে ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরে একটি কথা চাউর হয়ে বেড়াচ্ছিল যে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান হতে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের পরবর্তী কর্ণধার।

 

 

এই জন্য তিনি গোপনে দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সাথে সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হয়। তবে বিষয়টিকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন শামীম ওসমান।

 

 

গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় জেলা কমিটির সভাপতির পদের প্রার্থী না হওয়ার বিষয়টি একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সেখানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি কোন প্রার্থী না, একদম ক্লিয়ার ম্যাসেজ।

 

 

তিনি বলেন, আমি তাহলে কে? আই এম দ্যা সোলজার অব শেখ হাসিনা, আমি শেখ হাসিনার সৈনিক। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান। তিনি আরও বলেন, আমার পদ-পদবী ভালো লাগে না। আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগে, জাতির পিতার কন্যার ও তার পরিবারের যে স্নেহ ভালোবাসা-মমতা পেয়েছি।

 

 

আমার জীবনে এর থেকে বেশি আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। এই সময় তিনি আরও বলেন, হয়তো এই কমিটিই থাকবে আমার কোনো আপত্তি নাই। শুধু একটা কথা বলবো, পার্টির প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি কে হবে এটা ফ্যাক্টর না। আমার দাবি, জনগণের সাথে সম্পর্ক আছে পুরো কমিটি এমন লোকদের দিয়েই সাজান।

 

 

তিনি বলেন, আগের কমিটিতে আমি এমন লোকও দেখেছি, আমি নিজেও খোকন সাহাকে জিজ্ঞাসা করেছি, এটা কে? আমি-ই চিনি না। সকল ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা দরকার। আর এমন লোক কইরেন না যে পাশের বাড়ির লোক তারে চিনে না। কমিটির একবারে লাষ্ট নাম্বারের সদস্যও যদি ডাক দেয়, তাহলে তার ডাকেও যাতে লোক বেরিয়ে আসে।

 


অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন যাবতই বিভিন্ন মিডিয়ায় লেখালেখি হচ্ছে। আর সেখানে সভাপতি পদের জন্য বেশ কয়েকজনের নামই এসেছে।

 

 

এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাদের নাম প্রাধান্য পেয়েছে তারা হলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আবদুল হাই ও আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপুর নাম।

 

 

তবে গত ১০ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতুর উদ্বোধনকালে আওয়ামী লীগের প্রধান ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমান পরিবারের অতীতকে স্মরণ করে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতি তাদের আন্তরিকতার ইতিহাস তুলে ধরে যে বক্তব্য দিয়েছেন।

 

 

আর তারপর থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগই শুধু নয়, প্রায় রাজনৈতিক বোদ্ধাদের অনেকেরই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের সম্ভাব্যের তালিকায় এক নাম্বারে উঠে আসে শামীম ওসমানের নাম।

 

 

এদের মধ্যে একটি পক্ষের আবার এমনও অভিমত আছে যে, এবারের সম্মেলনে যদি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানকে সভাপতি পদে এবং নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুকে সাধারণ সম্পাদক পদে দেখা যায় তাতেও আশ্চর্য্য হওয়ার মতো কিছু নেই।

 

 

আবার কারও মতে শামীম ওসমানের বিশ্বস্ত হিসেবে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্র নেতা আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। যাকে অনেকেই ভিপি বাদল হিসেবে চিনেন।

 

 

অন্যদিকে বর্তমান সভাপতি আবদুল হাইয়েও শামীম ওসমানের বড় ধরণের কোন সমস্যা হয়নি। তাই হয়তো তিনি বলেছেন এই কমিটিই থাকলেও শামীম ওসমানের কোন আপত্তি নাই। যদিও রাজনীতিতে শেষ বলে কিছুই নেই। তাই প্রকৃত অর্থে হাল কে ধরবেন তা জানা যাবে সম্মেলনের পরেই।

 


তবে শামীম ওসমানের শক্তিশালী একটি সমর্থক গ্রুপ আছে। যাদের ইচ্ছে, তারা যেকোন উপায়ে তাদের গুরুকে সভাপতির পদে দেখতে চান। এমনকি শামীম ওসমান জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিবে না, এই ত্যাগ তারা মেনে নিতে পারবেন না বলেও সমর্থকগণ ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

তাদের ধারণা তাদের নেতা শামীম ওসমান কখনও পদ নিতে পছন্দ করেন না। তিনি নিজের জন্য না, তার ভক্তদেরই পদ উপহার দিতে বেশি পছন্দ করেন। তাই এবারও তার ভক্তদের মাঝেই পদ বিলিয়ে দিতে ইচ্ছুক।

 

 

তবে ভক্তরা মনে করেন, যদি সম্মেলনেই সভাপতি এবং সম্পাদকের নাম প্রকাশ করা হয়, তাহলে তাহলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তারা সম্মেলনে তাদের প্রিয় নেতা শামীম ওসমানকে সভাপতি করার জোর দাবি জানাবেন।

 

 

তাহলে একদিকে তিনি তার কর্মীদের দাবি প্রত্যাখান করতে পারবেন না এবং অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতারাও তার জনপ্রিয়তা দেখে ও নেতাকর্মীদের দাবির মুখে হয়তো শামীম ওসমানকে এবার সভাপতির আসনে দেখা যেতেও পারে।

 

 

তবে সভাপতি বা সম্পাদক কে হচ্ছেন এই আলোচনার অবসান ঘটানোর জন্য সম্মেলন পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া কোন গতি নেই। তাছাড়া দলীয় সূত্রে জানা গেছে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কারও কোন প্রকার আভাস বা ইঙ্গিত পাওয়া সম্ভব হয়নি।এমনকি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও সম্মেলনের আগে এই বিষয়ে কোন ধারণা দিতে পারবেন না বলে জানা যায়।

 

 

কেননা, এই কমিটির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগ প্রধান ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নিজে নিয়ন্ত্রণ করবেন। ফলে ঘোষণার আগে কমিটির বিষয়ে কারও কিছু জানা সম্ভব নয় বলেও দলীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।   এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন