দুই উপজেলায় বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে ধোঁয়াশা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২২, ০১:৪১ পিএম
# সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন হয়েছে কমিটি নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠবে: রবি
# তারা কেন প্রকাশ করছে না তারা বলতে পারবে: মামুন
# পরিচিতি সভা করে কমিটি প্রকাশ করব : মোশারফ
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অন্তর্ভুক্ত ২টি থানা ৩টি পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেন জেলা বিএনপি। কিন্তু গত ৮ অক্টোবর কমিটি ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও সেখানে উল্লেখিত করা হয়নি কে বা কারা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো এসকল কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ১০১ জনের নাম প্রকাশ করেনি। যার কারণে ইতিমধ্যেই ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার থানা বিএনপির নেতাদের মধ্যে।
তৃণমূল নেতাদের দাবি কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে অনুমোদন দিয়েছে জেলা বিএনপির নেতারা তাহলে ১০১ জনের নাম প্রকাশে সমস্যা কোথায় হচ্ছে। কিন্তু জেলা বিএনপির ভাষ্যমতে তারা ১০১ জনের নামসহ অনুমোদন দিয়েছে এখানে অন্য কোন প্রশ্ন আসার সুযোগ নেই।
সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অন্তর্ভুক্ত আড়াইহাজার থানা ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন। পরবর্তীতে ৯ মাস পর ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর এই ২টি থানা কমিটিকে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ করা হয়।
কমিটি ১০১ সদস্য বিশিষ্ট গঠন করা হলেও এখনো ১০১ জনের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কমিটি পাবলিশ না হওয়াতে তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে নানা রকম আলোচনা সমালোচনা চলছে। আর এই নাম প্রকাশে বিলম্ব হওয়াতে তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে।
যার কারণে কমিটির শীর্ষ পদে থাকা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের দিকে সমালোচনের তোপ যাচ্ছে তাদের অনুগামীদের দ্বারা কেনো তারা এখনো কমিটি প্রকাশ করছে না। আর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয় নিয়ে বিশেষ করে সোনারগাঁ এবং আড়াইহাজার থানা বিএনপি নেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।
বিএনপির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং বিরোধী হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওয়াহেদ বিন ইমতিয়াজ বকুল। থানা বিএনপির কমিটি গঠনের সময়ও মান্নানকে আহবায়ক ও মোশারফকে সদস্য সচিব করে বিদ্রোহীদের বাদ নিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করায় কমিটির বিরোধীতা করতে থাকেন তারা।
পরবর্তীতে আহবায়ক কমিটির নেতৃত্বে সোনারগাঁ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় সম্মেলন করে ইউনিয়ন ও পৌরসভা কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটি গঠন করা তালিকা গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরই বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্রোহীরা আজহারুল ইসলাম মান্নান ও মোশারফের বিরুদ্ধে ঝাড়ু এবং জুতা মিছিল বের করেন পদ বঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।
আর এই জুতা মিছিলের পিছন থেকে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির বিরোধীরা। এখন ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়েও তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও অভিযোগ করছেন যে সভাপতি মান্নান সাধারণ সম্পাদক মোশারফের অনুগামীদের পদায়ন করা হয়েছে যে কারণে তারা ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি প্রকাশ করছে নেতা কর্মীদের তোপের মুখে পড়বে।
অপরদিকে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটি নিয়েও চলছে বিতর্ক। প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের সাথে সখ্যতা থাকা নজরুল ইসলাম আজাদের ইশারায় গঠিত হওয়া কমিটি নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। আড়াইহাজারে আজাদের অনুগামী না থাকা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এই কমিটিতে মাইনাস হয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে আড়াইহাজার বিএনপির অভিভাবক হিসেবে পরিচিত খসরু পরিবারকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির ১০১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে যেখানে ঠাঁই মিলেনি সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতির।
৮ অক্টোবর নবগঠিত এই কমিটিতে ইউসুফ আলী ভুইয়াকে সভাপতি ও জুয়েল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি কার্যক্রম শুরু করা হয়। সূত্রে জানা যায়, কমিটির এক নম্বর সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।
পুরো কমিটির কোথাও স্থান পাননি আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন সহ তার অনুসারীরা। অথচ সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন, তার পিতা মরহুম বদরুজ্জামান খান খসরু এবং সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর আড়াইহাজার বিএনপির অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত।
খসরু চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর তার বিপুল পরিমাণ অনুসারী এখনও রয়ে গেছেন পুরো উপজেলা জুড়ে। কিন্তু খসরু পরিবারের পুরো অনুসারীদের মাইনাস করা হয় এই কমিটিতে। আর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আড়াইহাজারের বিএনপি নেতাদের মধ্যে নিন্দার ঝড় বইছে।
পুরো কমিটিতে স্থান পেয়েছেন আজাদপন্থীরা। যারা আজাদের রাজনীতির সাথে জড়িত নন, তাদের করা হয়েছে মাইনাস। কোন কোন ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করেই কমিটি সাজানোর অভিযোগ রয়েছে নেতাদের বিরুদ্ধে। সূত্র মতে জানা যায়, উপজেলা বিএনপির কমিটিতে ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উপজেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাকে অবস্থান দিতে হবে এটাই নিয়ম।
কিন্তু সেই নিয়ম উপেক্ষিত হয়েছে এখানে। তার বদলে যুবদলের এক নেতাকে স্থান দেয়া হয়েছে ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে। এ ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। আড়াইহাজার বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, উপজেলা বিএনপি শুধু একা নয়। নজরুল ইসলাম আজাদ যেখানেই হাত দিয়েছে সেখানেই বিতর্ক জন্ম নিয়েছে।
এভাবে দিনের পর দিন পুরো জেলায় বিএনপিকে বিতর্কিত ও ধ্বংস করছেন আজাদ। কেন্দ্রের কিছু নেতাকে হাত করে নৈরাজ্যে নেমেছেন তিনি। দ্রুতই তার কার্যক্রম নিয়ে কেন্দ্রে প্রশ্ন তোলা না হলে জেলাজুড়ে বিএনপিতে তৈরি হবে অস্থিরতা।
দল বাঁচাতে তার লাগাম এখনই টেনে ধরা জরুরী। এছাড়া আজাদ তার নিজের মন মতো কমিটি প্রণয়ন করতে যেয়ে নিয়ম ও গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করেছেন গায়ের জোড়ে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি জানায়, ‘মহাসচিব সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটিগুলো গঠন করেছে। আর যারা কমিটিতে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক যারা আছে তাদের নির্দেশ দিয়েছে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে জেলা থেকে অনুমোদন নিয়ে নিতে বলেছে।
আমাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে এসেছে; আমরা অনুমোদন দিয়ে দিয়েছি। সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন হয়েছে কমিটি নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠবে?’
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ জানায়, ‘আড়াইহাজার কমিটি সম্ভবত মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। সোনারগাঁয়ের কমিটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়নি তাদের সাথে কথা হয়েছে খুব শীঘ্রই তারা পরিচিতি সভা করবে। আর কমিটি যেদিন হয়েছে সেদিন কমিটির তালিকা তাদের হাতে চলে গেছে।
তারা চাইলে সেদিনই প্রকাশ করতে পারবে। আমরা কমিটি দিয়ে দিয়েছি তারা কেন প্রকাশ করছে না তারা বলতে পারবে। তদেরকে বলে দেয়া হয়েছে তারা জানিয়েছে খুব শীঘ্রই পরিচিতি সভার মাধ্যমে কমিটি পাবলিশ করে।”
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন জানায়, ‘আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে যারা আছে আমাদের অঙ্গসংগঠনে যারা আছে; পাশাপাশি গনমাধ্যমকে নিয়ে আমরা একটি পরিচিতি সভা করব সেদিন আমাদের কমিটি প্রকাশ করব। পাশাপাশি পৌরসভার কমিটিও সেদিন প্রকাশিত হবে।’
এ বিষয়ে আড়াইহাজার বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী এ বিষয়ে প্রশ্নটি অবগত হয়েই, ‘তিনি একটি মিটিং ব্যস্ত আছি বলে ফোন কলটি কেটে দেন।’ এন.এইচ/জেসি


