Logo
Logo
×

রাজনীতি

খেলতে প্রস্তুত বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০০ পিএম

খেলতে প্রস্তুত বিএনপি
Swapno


# তাদের এখন সময় শেষ হয়ে গেছে : রবি

# এমন বক্তব্য দেয়ার আর সুযোগ থাকবেনা : সাখাওয়াত

# এতোদিন শামীম ওসমান চলচ্চিত্রের ডায়লগ দিয়েছে; এখন তিনি : টিপু

# ফ্রুটিকা খেয়ে তিনি সব সত্য বলে গেছেন : রনি

# সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে জনগণ খেলে দিবে : সাহেদ
 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আর নির্বাচন হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জে প্রধান অতিথি হিসেবে এসে তিনি এই কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা ভুলে যান, নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন আবার হবে।

 

 

তিনি আরো বলেছেন, ‘ভোট  চোরদের বিরুদ্ধে খেলা হবে। লাখ লাখ লোক নিয়ে খেলা হবে। ডিসেম্বরে বিএনপি জনতার সমুদ্রের গর্জন শুনতে পাবে।’

 

 

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ওবায়দুল সাহেব আজকে বলেছে ভোট চুরির বিরুদ্ধে খেলা হবে। এই ভোট চোর কারা গাইবান্ধায় কিছুদিন আগে ভোট চুরি করতে গিয়ে  কারা ধরা পড়েছিল।

 

 

আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতরা। এটা জনগণ জানে কারা ভোট চোর, কারা দুর্নীতিবাজ এবং ১০ ডিসেম্বর সকল সিদ্ধান্ত হবে। কাদের সাহেবের বলায় কিছু হবেনা। তাদের এখন সময় শেষ হয়ে গেছে।’

 

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সকল নেতাদের চরিত্র এখন স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করেছে। এখন কারো ভালো কথা ও উনাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। এই তত্ত্ববাধায়ক সরকারের জন্য এই আওয়ামী লীগ অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছে।

 

 

এটা বাংলাদেশের জনগণ জানে গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার জোর করে নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে ধ্বংস করে আজকে তারা ক্ষমতায় আছে। আজকে তারা এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশে যে নির্বাচন ব্যবস্থা; এই নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটে না। ভোটের আগের দিন রাতে এই সরকার নিশিরাতে জনগণের ভোট দিয়ে দেয়।

 

 

এখন দেশের মালিক জনগণ; কাদের সাহেব কি বললো এতে আমাদের কিছু আসে যায় না। জনগণ কি বলতেছে, এটেই এখন মুখ্য বিষয়। জনগণ যেহেতু এই স্বৈরাচারী সরকারের সকল কার্যকালাপের বিরুদ্ধে এবং এই সরকারকে বিদায় দেওয়ার জন্য মাঠে নেমে এসেছে সেটা প্রতি ফলন ইতিপূর্বে সকলে দেখতে পেয়েছেন।

 

 

সরকার পতনের আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে চলবে এই আন্দেলনে বাংলাদেশের হাতে গণা কিছু মানুষ ছাড়া সকলে অংশ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আমাদের সকল আন্দেলনের পরে এই ওবায়দুল কাদের সাহেবরা যে ধরণের বক্তব্যে দিচ্ছে, এই ধরনের বক্তব্যে দেওয়ার আর সুযোগ থাকবে না। তখন কথায় আছে না বোরকা পইরা পালিয়ে যায়; সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

 

 

তিনি আরো বলেন, ওবায়দুল সাহেব আজকে বলেছেন ভোট চোরদের বিরুদ্ধে খেলা হবে, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে খেলা হবে, এই ধরণের বক্তব্যে তাদের উপরেই যায়। কারণ তারা ১৫ বছর যাবৎ ভোট চুরি করে জনগণের ভোট অধিকার হরণ করে ক্ষমতায় টিকে আছে। খেলা হবে, তবে জনগণের খেলা এবং সেই খেলায় জনগণ আওয়ামী লীগের সাথে খেলবে।’


 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এই দেশটা ২২ কোটি জনগণের;  জনগণের জন্য এই সংবিধান, আর সংবিধান যেমন; জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে পরিবর্তন করা যায়; তেমনিভাবে জনগণ চাইলে অনেক কিছুই পরিবর্তন হতে পারে। 

 

 

এখন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য ও বাকশাল কায়েম করার জন্য এবং দেশটাকে লুটেপুটে খাওয়ার জন্যই তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায়। এটার কারণ হল তারা ভোট কারচুপি করতে চায়; ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চায়।

 

 

আমার ব্যাক্তিগত বক্তব্যে হল তত্ত্ববধায়ক সরকার এই নাম না হতে পারে; নিরপেক্ষ সরকার বা জাতীয় সরকার হতে পারে তবুও কোনো দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন দেশের জনগণ চায় না। কারণ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেই প্রশাসনকে ব্যবহার করে কারচুপি করে দিনের ভোট রাতে দেয় অর্থাৎ এই সরকারের ২২ কোটি জনগণের উপর কোনো আস্থা বিশ্বাস নাই বলেই এই ওবায়দুল কাদের বার বার বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজন নাই।

 

 

দেশটা কারো জন্মসূত্রে প্রাপ্ত না; এই দেশটা খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণের। অতএব ওবায়দুল কাদের সাহেব যা কিছু বলবেন; তা কোনো কথা না। এই দেশের ২২ কোটি জনগণ গণতন্ত্র রক্ষার্থে, ভোটের অধিকার রক্ষার্থে, মৌলিক অধিকার রক্ষার্থে এই দেশের সংবিধানকে সংশোধন করে তত্ত্ববোধায়ক সরকার হোক আর নিরপেক্ষ সরকার হোক যেই কোনো সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। কোনো দলীয় সরকার অধীনে নির্বাচন আমরা মানি না; এটা হবে ও না।’

 

 

তিনি আরো বলেন, ‘কাদের সাহব আজকে বার বার বলেছে, ভোটা চোরদের বিরুদ্ধে খেলা হবে। চোরের মার বড় গলা; এই সরকার সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ, এই সরকারের প্রতিটা মন্ত্রী এমপি দুর্নীতিবাজ, কোন দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে খেলা হবে? তিনি সেটা আরও স্পষ্ট করে বলতে পারতেন। 

 

 

আর এতো দিন আমরা দেখেছি শামীম ওসমান চলচ্চিত্র জগতের সিনেমার নাটকের অভিনেতার মত ডায়লগ দিয়েছে খেলা হবে! এখন আবার ওবায়দুল কাদের তার কর্মী শামীম ওসমানের মত একইভাবে নাটকের অভিনেতার মতো করে বলে গেলেন- খেলা হবে, খেলা হবে!

 

 

কি খেলা হবে? খেলা একটাই হবে আর তা হলো: আগামী তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। সেই নির্বাচনে জনগণ রেফারির দায়িত্ব পালন করবে এবং লাল কার্ড দেখিয়ে তাদেরকে সাইড লাইনে বসিয়ে দিবে; আর না হয় দেশ থেকে বিদায় করে দিবে এবং জনগণ সেটা ব্যালটের মাধ্যমে করবে।’

 

 

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব আজকে বলে গেছে খেলা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে খেলা হবে। ভোট চোরদের বিরুদ্ধে খেলা হবে। এক ধরনের এড দেখায় ফ্রুটিকা খেয়ে সত্যি কথা বলে দেয়; আজকে উনি সত্য কথা বলে গেছে।

 

 

আর তত্ত্ববোধয়াক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে কিনা সেটা সময় বলে দিবে। এই সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাবো না বলেই আমাদের এই সকল ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম। গণতন্ত্রকে মুক্তি করার জন্য আমরা মাঠে কাজ করতেছি। ওবায়দুল সাহেব আজকে যে বক্তব্যে দিয়ে গেছে উনাদের সময় শেষ বলে, তারা এই ধরণের বক্তব্যে দিচ্ছেন। কারণ উনাদের নেতা-কর্মীরা ঝিমিয়ে যাচ্ছেন তাদের চাঙ্গা করার জন্য।’

 

 

তিনি আরো বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সমাবেশে এখন আর আগের মত লোক হয় না। তাদের স্টেজ খালি থাকে, চেয়ার খালি থাকে, নারায়ণগঞ্জের সমাবেশে ও কিন্তু লোক হয়নি, সাধারণ জনগণ এই সমাবেশকে ঐভাবে প্রাধান্য দেয়নি। যার ফলে সারা বাংলাদেশে যে পেক্ষাপট নারায়ণগঞ্জে একই প্রেক্ষাপট।

 

 

আমার কোনো ধরণের মিছিল মিটিং করলে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয় আমরা কিন্তু কাউকে বিরিয়ানি বা টাকা পয়সা দিয়ে আনি না। তারা তাদের নিজের পকেটের টাকা খরচ করে আমাদের সাথে সভা সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বক্তব্যে দেওয়া যায়, বাস্তবতায়ও এক থাকতে হবে।

 

 

মানুষ এখন বাস্তববাদী, এখন সব বুঝে এবং তারা খবর রাখে বাংলাদেশে কি হচ্ছে। এ সরকার আর থাকতে পারবে না। এটা এই সরকার ভালো করে জানে। আর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ও জানে তারা আর ক্ষমতায় থাকে পারবে না। তাই আর তাদের সকল সমাবেশে কম থাকে, গা বাঁচিয়ে চলাফেরা করা শুরু করে দিয়েছে।’

 

 

এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহেদ আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আজকে ওবায়দুল সাহেব বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। এটার কারণ হল এই সরকারের নেতা-কর্মীরা দেশের সাধারণ জনগণকে বিশ্বাস করে না। তা না হলে নিরপেক্ষ তত্ত্ববোধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সমস্যা কোথায়?

 

 

তিনি আরো বলেন, ‘আর কাদের সাহেব বার বার বলেছেন ভোট চোর ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে খেলা হবে; এটা বলে উনি মূলত উনাদেরকেই বুঝিয়েছেন। বর্তমানে উনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উনি জানেন দেশের পরিস্থিতি; এখন কোন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে জনগণ ভিতরে ভিতরে উত্তাল এবং সংক্ষুব্ধ।

 

 

উনি আসলে বলতে গেছেন একটা; বলে ফেলেছেন আরেকটা; এটা আমার মনে হয়।’ আমি তাকে বলতে চাই, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেন এর পর মাঠে নামেন; খেলেন না দেখি, কত বড় খেলোয়াড় আপনারা? আর একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দেন; দেখেন জনগণ আপনাদের কি খেলা, খেলে দেয়! এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন