Logo
Logo
×

রাজনীতি

কথা না বললেও খোঁচা দিতে ছাড়েননি!

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২২, ০৬:০৩ পিএম

কথা না বললেও খোঁচা দিতে ছাড়েননি!
Swapno


 
# শামীম আইভী এক মঞ্চে থাকায় আমার এখানে আসা সার্থক : ওবায়দুল কাদের
 

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একটি কথার ব্যাপক প্রচলন আছে যে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরশনের মেয়র আইভীকে এক টেবিলে বসাতে পারলে নারায়ণগঞ্জ এর উন্নয়ন দ্বিগুন গতিতে হবে।

 

 

এরপরই তাদের দুইজনকে এক টেবিলে বসানোর চেষ্টা করা হবে বলেও অনেককে বলতে শোনা গেছে। তবে এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন কারণে একই টেবিলে বসেছেন দুই মেরুর এই দুই নেতা। কিন্তু এক টেবিলে বসানো সম্ভব হলেও তাদেরকে কখনও একসাথে কথা বলতে দেখেননি কেউ।

 

 

কোন কারণে তারা একটেবিলে বসলেই মিডিয়ার কড়া দৃষ্টি থাকতো তাদের দিকে। যদি তারা কোন সৌজন্য মূলক কথাবার্তা বলেন! কিন্তু সেটা কখনও সম্ভব হয়নি, আর তাই হতাশ হয়েছেন সেই সব অপেক্ষারত ভক্তরা। গতকাল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও তার একই মঞ্চে বসেছেন। তবে কোন কথা হয়নি।

 

 

তাই বলে বক্তৃকালে কেউ ছেড়ে কথা বলেননি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নেতাদের ভক্তরা, তাদের নেতাদের নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকলে আইভী তার বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন।

 


 
ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘নামে নামে স্লোগান নয়, শেখ হাসিনার নামে স্লোগান দিতে হবে। এখানে আসার পর যা দেখলাম, শুধু ভাই আর ভাইদের স্লোগান। নেত্রীর স্লোগানতো দিতে দেখলাম না একবারও। যে না থাকলে এই বাংলাদেশ থাকবে না। এইখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারবেন না।

 

 

সেই নেত্রীই আমাদের ভরসার স্থল। তার কথা বলুন। নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করার প্রয়োজন নাই। জনগণের কাছে আমাদের যেতে হবে, আওয়ামী লীগের সকল কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু ট্যানেল, রূপপুর পরমানু বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে শুরু করে সামাজিক সুরক্ষা, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা এবং কৃষি কাজসহ এমন কোন কাজ নাই যা তিনি করেননি; সেগুলো তুলে ধরতে হবে।

 

 

সেখানে স্লোগানে মুখরিত হতে হবে বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার নাম। এর বিকল্প নাই, ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির বিকল্প নাই।


 


অন্যদিকে একেএম শামীম ওসমান তার রাজনৈতিক অতীত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কারাগারে দেখা নেতৃবৃন্দের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, এখনতো সুদিনের অনেক পাখি দেখা যায়, সেদিন পাখির অভাব অনেক বেশি ছিল। অনেক কম পাখি ছিল সেইদিন। এখন মঞ্চে জায়গা দেওয়া যায়না, তখন মঞ্চের জায়গা অনেক খালি ছিল।


 

 

তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের দু’জনকে একসাথে দেখতে পেয়েই খুশি। তিনি বলেন, আমার খুব ভাল লাগছে এই নারায়ণগঞ্জের আরেক নেতা শামীম, ফাইটার পলিটিশিয়ান, লিডার অব এ্যকশান তার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের পর পর দুইবারের (তিনবারের) নির্বাচিত জনমানুষের মেয়র আজকের সভায় তারা দুইজনই এসেছেন।

 

 

তাদের একই মঞ্চে দেখছি আমি ঢাকায় অসুস্থ হওয়ার পর ভার্চুয়ারলি অনেক মিটিং করেছি কিন্তু স্বশরীরে প্রথমে এই নারায়ণগঞ্জে এসেছি। আমার আসা সার্থক হয়েছে। কারণ এখানে একই মঞ্চে সবাই বসে আছে শামীম এবং আইভী। নারায়ণগঞ্জের শক্তি হচ্ছে এরা।


 

 

জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মঞ্চে পাশাপাশি চেয়ারে বসেও কথা বলেননি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। গতকাল রোববার বেলা ৩টার দিকে মঞ্চে আসেন মেয়র আইভী। বেলা সোয়া ৩টায় সম্মেলন উদ্বোধন করা হয়।

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এমপি শামীম ওসমানসহ অনেকে। পরে অতিথিদের নিয়ে মঞ্চে যান শামীম ওসমান। অতিথিরা আসনে বসার পর নিজের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসেন শামীম ওসমান।

 

 

তার পাশের আসনেই ছিলেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। দুজন পাশাপাশি বসলেও একে অপরের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। পরে সেখানে আসেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের এমপি, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

 


 

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আইভী-শামীম দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে। একজন ডানে গেলে, আরেকজন চলে বামে। কথার যুদ্ধে কেউ কাউকে ছাড় নয়। এক মঞ্চে সমাবেশে একসাথে না দেখা গেলেও, সর্বশেষ সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে একসাথে দেখা গেছে প্রভাবশালী এ দুই রাজনীতিবীদকে।

 

 

মঞ্চের প্রথম সারিতে বসলেও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও শামীম ওসমান বসেছিলেন দুজন দুই পাশে। সম্মেলন চলাকালে বা শেষেও এই নেতার মধ্যে কোন আলাপচারিতা বা কুশল বিনিময়ের ঘটনাও ঘটেনি।

 

 

এর আগে চলতি বছরে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এক টেবিলে বসেছিলেন তারা। তবে সেদিনও তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি; এক আপরের দিকেও তাকাননি। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন