# সর্বাত্মক চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি
# মহাসমাবেশ করার যেই প্রস্তুতি দেখিয়েছিলেন, সেটিও কাজে আসেনি
আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পুরো দেশে এক নামে চেনে সাংসদ শামীম ওসমানকে। তবে নেতিবাচক ইমেজ আর চটকদার কথার জন্যই তাঁর এই বিস্তৃতি দেশ জোড়া। মাঝে ধার্মিক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন, আর নিজের অবস্থানের বাইরে গিয়ে চটকদার কথার দরুণ শামীম ওসমানকে নিয়ে হাস্যরসও নেহাৎ কম হয়না।
১৯৯৬ সালে সাংসদ হওয়ার পর শামীম ওসমানের যেই প্রভাব ও প্রতিপত্তি সম্পর্কে দেশবাসী জানতে পেরেছিল। সেই সাহস মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন শামীম ওসমান। এরপর এমপি হতে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ১৩ বছর।
মাঝে সিটি নির্বাচনে ২০১১ সালে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে হেরে বুঝতে পারেন তার সেই অতীত জৌলুস আর নেই। এরপর সময় গড়িয়েছে, শামীম ওসমানের রাজনীতি আর উপরমুখী হয়নি। ২০১৩ সালে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর শামীম ওসমান তো বটেই তার পুরো পরিবার নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপিত হন। প্রচণ্ড ইমেজ সংকট তৈরি হয় শামীম ওসমানের।
তবে সিটি নির্বাচনে আইভীর কাছে হারের পর তিনি রাজনীতির প্রতিপক্ষের মতোই আইভীকে টার্গেট করেই নিজে নামেন। তবে ২০১৬ সালে সিটি নির্বাচন এবং ২০২২ সালের সিটি নির্বাচন দুই দফাতেই আইভীকে ঠেকাতে ব্যর্থ হন শামীম ওসমান। এরমাঝে হকার ইস্যুতে আইভীর উপর হামলার ঘটনায় শামীম ওসমান আবারো নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হন।
নিজ দলেও শামীম ওসমানের গ্রহণযোগ্যতা অনেক হ্রাস পায়। এরপর নারাণয়ণগঞ্জে এসপি হারুন দায়িত্ব নিলে শামীম ওসমান ও তার কর্মী সমর্থকরা আরো বেকায়দায় পড়েন। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনেও শামীম ওসমান এবং তার কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অবমূল্যায়িত হন।
এমনকি শামীম ওসমান অনুগত চারটি আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। এরপরেও নানাভাবে শামীম ওসমান দাবি করে আসছিলেন নানা সময় তিনি কোন ক্ষমতা চাননা। তাকে মন্ত্রীর প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, কেন্দ্রীয়ভাবেও অনেক লোভনীয় প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তবে তিনি সেটা গ্রহণ করেননি।
কিন্তু সময় গড়িয়েছে শামীম ওসমানের সাথে তার কথার মিল তার নেতা-কর্মীরাও খুঁজে পাননি। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরেও শামীম সমর্থকরা নানা কথা বলেছিলেন। এবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আসছে শামীম ওসমানের নাম। জেলা আওয়ামী লীগের কোন অংশের সাথে যুক্ত না থেকেও শামীম ওসমানের জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে কম আগ্রহ ছিলোনা।
এই সম্মেলনের ভেন্যু নির্ধারণ নিয়েও শামীম ওসমান কলকাঠি নাড়েন বলে অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের। এমনকি বেশ কিছু সূত্র জানিয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে এমন কোন জায়গা নেই যে শামীম ওসমান দৌঁড়ঝাপ না করেছেন। কেন্দ্রীয় অনেক নেতাদের সাথে আড্ডা মেরেছেন, সুপারিশের জন্য সুপারিশ করেছেন। অনেক জায়গায় নিজেও ছুটে গেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
শেষতক সবজায়গায় ব্যর্থ হয়ে শামীম ওসমান নিজেই বলেছেন, তিনি সভাপতি প্রার্থী নন এবং এটি ৯৯ দশমিক ৯৯ পার্সেন্ট সত্য। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে, তার কর্মী সমর্থকরা যখন তাকে সভাপতি হচ্ছেন বলে প্রচারণা চালালো তখন কেন এই সময় তিনি নিশ্চুপ ছিলেন? কেনই বা জেলা আওয়ামী লীগ নিয়ে তার এতো আগ্রহ ছিল?
জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ইতিহাসের সবচাইতে বেশি লোক জড়ো করার জন্য রাইফেলস্ ক্লাব এবং নমপার্কে বেশ কয়েকটি কর্মী সভা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সভাপতি হচ্ছেন না এমন ঘোষণার পর নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ায় জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আশানুরূপ নেতা-কর্মী উপস্থিত হননি।
ফলে নেতা-কর্মী জড়ো করার যেই মিশন, শামীম ওসমান নিয়েছিলেন সেখানেও ব্যর্থ হন তিনি। সম্মেলনের দিন শামীম ওসমানকে মোটেও প্রফুল্ল দেখায়নি বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাছাড়া সম্মেলনে নেতা-কর্মীদের থামাতে বেশ কয়েকবার মেজাজ হারাতেও দেখা গেছে শামীম ওসমানকে।
কয়েকবার ধমকানোর পর কাজ না হওয়ায় একসময় হাতে থাকা পানির বোতল থেকে পানিও ছিটিয়ে দেন তিনি। এমন কর্মকাণ্ড মিডিয়াতেও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। সভাপতি হওয়া, কর্মী জড়ো করা, আগের ইমেজ সংকট দূর করাসহ সব চেষ্টাই শামীম ওসমানের জলে গেলো বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নিজে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তিনি জেলা আওয়ামী লীগের কান্ডারী হতে পারেননি।
এতে যেমন তিনি হতাশ হয়েছেন; তেমনি তার কর্মীরাও নিরাশ হয়েছে। এদিকে আগবাড়িয়ে অযাচিত প্রচারণা চালানোয় জেলার সকল আওয়ামী লীগ নেতারাও সম্মেলনে স্বতর্স্ফূতভাবে কর্মীদের নিয়ে যোগ দেয়নি বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জাতীয় নির্বাচনে আগের বছর নারায়ণগঞ্জের মতো জেলায় এমন কর্মকাণ্ড দলকেও কম ক্ষতিগ্রস্ত করেনি বলে মনে করেন তারা। এন.এইচ/জেসি


