শীঘ্রই তার জীবনে রাজনীতির দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হবে
পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২২, ০২:৪২ পিএম
# তাকে নিয়ে এখনো আশান্বিত তাঁর কর্মীরা
হাজার টাকার নোট ছেঁড়া এবং জোড়া লাগানো হলেও তা মূল্যবান, কেউ তা ফেলে দেয় না। ঠিক তেমনি অবস্থা কারান্তরালে থাকা বিএনপি নেতা জাকির খানের। দুই দশক দেশান্তরে থাকা জাকির খানের বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা থাকলেও বিএনপিতে তার কদর অটুট রয়েছে। এই কদর অনেকটা ছেড়া হাজার টাকার নোটের মতোই।
এমপি শামীম ওসমান ও তার সহযোগীদের সাম্প্রতিক রাজপথে বিএনপিকে নামতে দেয়া হবে না এবং নামলে নাকাল ও নাস্তানাবুদ করার নানা হুমকীর জবাবে এক বিএনপি নেতা সম্প্রতি পাল্টা হুমকী দিয়ে বলেছেন, যারা বিএনপিকে হুমকি দিচ্ছে ওদেরকে রাজপথে মোকাবেলা করার জন্য বিএনপির এক জাকির খানই যথেষ্ট।
এ কথা কবিগুরুর সেই বিখ্যাত পংক্তিটি মনে করিয়ে দেয়, ‘বিষকে বিষের দাহ দিয়ে দহন করে মারতে হবে’। বর্তমানে জাকির খানকে আইনী ঝামেলামুক্ত করতে বিএনপির দু’জন সিনিয়র আইনজীবীকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ১০ ডিসেম্বরের আগেই জাকির খান জামিনে মুক্ত হয়ে তার জীবণে এবার রাজণীতির দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাকির খান একই সঙ্গে একজন ভাগ্যবান এবং ভাগ্যহীন রাজনীতিবিদ। ভাগ্যবান এ কারণে যে, অতি অল্প বয়সেই তিনি বিশাল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। বিগত নব্বইয়ের দশকেই তিনি বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অত্যন্ত কাছে চলে গিয়েছিলেন। এ কারনেই তাকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতিও নির্বাচিত করা হয়েছিল।
নব্বইয়ের দশকে জেলমুক্ত জাকির খানকে সংবর্ধনা দিতে শহরে যে সমাবেশ করা হয়েছিল এবং সেই সমাবেশে যে লোক সমাগম হয়েছিল, এত লোকের সমাগম এক খালেদা জিয়া ছাড়া এ শহরে আর কারো সমাবেশে হয়নি। মন্ডলপাড়া পুল থেকে চাষাঢ়া গোল চত্বর পর্যন্ত ঠেকেছিল সে সমাবেশ। তরুন ও যুব সমাজের উপর জাকির খানের একটি যাদুকরী সম্মোহনী ক্ষমতা রয়েছে।
তার ডাকে ফতুল্লার ভোলাইল থেকে বন্দরের মদনপুর পর্যন্ত সাড়া পড়ে যায় এবং হাজার হাজার তরুন একত্রিত হয়। এ যাদুকরী ক্ষমতাটি সম্ভবত এখনো তাকে ছেড়ে যায়নি। কারণ দু’দশক পর দেশে ফিরে কারান্তরীন হওয়ার পরই শহর জুড়ে তার মুক্তির দাবীতে পোষ্টার লাগিয়েছে তার অনুসারীরা। পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে সারা শহর।
আবার, জাকির খান ভাগ্যহারা এ কারণে যে, তার মধ্যে এতোগুলো ইতিবাচক গুন থাকার পরও তিনি বেশী উপরে উঠতে পারেননি তার হঠকারী ও বালখিল্য স্বভাবের কারণে। বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজ দল ও প্রতিপক্ষের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। যে কারণেই তাকে দেশান্তরী হতে হয়েছে এবং দু’দশক ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে যাযাবর জীবণ যাপন করতে হয়েছে। এন.এইচ/জেসি


