# ওয়ার্ড কমিটিগুলো করতে না পারাই অন্যতম ব্যর্থতা
অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামই বহাল করে গেছে কেন্দ্র। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদলকে সতর্ক করে গেছেন পদবাণিজ্যের বিষয়ে।
জেলা আওয়ামী লীগে নতুনত্ব না থাকায় উচ্ছাসে ভাটার মধ্যেই আরেকটি খারাপ খবর আসে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে রোববার (২৩ অক্টোবর) জেলা সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সে কারণে সারাদেশে বৃষ্টি পড়বে। এ কারণেই আগামী ২৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যে সম্মেলন ছিল, সেই সম্মেলন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বাতিল ঘোষণা করছি।
এদিকে সূত্র জানিয়েছে, ২০১৩ সালের পর মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এখনো। বিশেষ করে সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের দৈন্যদশার বিষয়টি টের পায় কেন্দ্র। সিটির এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে একটি ওয়ার্ড কমিটি সম্মেলন করতে পারেনি বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা।
নিজেদের দুই জনের মধ্যেই মতানৈক্য এবং বিরোধের বিষয়টিও নানা সময়ে প্রকাশ্যে আসে। ২৫ অক্টোবর সম্মেলনের তারিখ পড়ায় এ ব্যাপারে আশান্বিত ছিল নেতা-কর্মীরা। বিশেষ করে কমিটিতে থাকা নেতা-কর্মীরাও আশা প্রকাশ করেছিলেন এবার সম্মেলনে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসলে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে গতি আসতো। তবে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় সেই আশাতেও ভাটা পড়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যেই উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েছে সেটি মহানগরেও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এক খোকন সাহাই বহাল থাকতে পারে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বাণিজ্য নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল সেগুলোর পরও জেলা কমিটি কিন্তু উপজেলা কমিটি গুলোর সম্মেলন করতে পেরেছিলো।
সেই তুলনায় মহানগরের ব্যর্থতার হিসেবে আরো বেশি। তাছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা বেচে নেই। অনেকে বহিষ্কারও হয়েছে। আবার পদায়িত অনেক নেতাই এখন প্রমোশন চাচ্ছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে মহানগর আওয়ামী লীগ ঢেলে সাজানো না গেলে; এর প্রভাব যে দলে পড়বে সে কথা সহজেই অনুমেয়। তাহলে বর্তমানদেরকেই দায়িত্ব দিলে সেটি কেমন করে দেয়া হতে পারে?
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই মহানগর আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। আবার নতুন তারিখ করে সম্মেলনের সময় করাও বেশ কঠিন। কেননা ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
আর এই অল্প সময়ের আগে মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করাও দূরুহ ব্যাপার। তাই মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার বিষয়টিও অনেকটা ঝুলে গেল। সম্মেলন হলেও অন্তত এই ছন্দপতন থেকে রক্ষা পেত নেতা-কর্মীরা। এন.এইচ/জেসি


